Fringed Hibiscus / Hanging Lantern / Coral Hibiscus – Hibiscus schizopetalus / লণ্ঠন জবা / ঝুলন্ত লণ্ঠন জবা | Red / Orange-Red / Pinkish White

SKU: APU-FRHI-1875 Category:
🌿 A quick note on nature: Like all of us, every plant is one-of-a-kind! The photos show a representative sample, but your actual plant may vary slightly in size, shape, or color based on the season. We think those little differences make them special.
  • 100% Original Plants
  • Safe & Secure Packaging
  • Pest and Disease Free
  • All India Shipping
  • Replacement if DOA

লণ্ঠন জবা বা ঝুলন্ত লণ্ঠন জবা (Fringed Hibiscus / Hanging Lantern / Coral Hibiscus – Hibiscus schizopetalus) জবা পরিবারের (Malvaceae) এক পরম বিস্ময়কর, জাদুকরী এবং অবিশ্বাস্য রকমের রাজকীয় এক বিরল ফুল গাছ। সাধারণ জবা ফুল যেখানে ওপরের দিকে বা সোজা মুখ করে ফুটে থাকে, লণ্ঠন জবা সেখানে সম্পূর্ণ উল্টো! এর ফুলগুলো লম্বা সরু বোঁটার মাথায় নিচের দিকে চমৎকারভাবে ঝুলে থাকে, যা দেখতে অবিকল চৈনিক লাল লণ্ঠন (Chinese Lantern) বা রাজপ্রাসাদের ঝুলন্ত ঝাড়বাতির মতো লাগে।

এটি মূলত পূর্ব আফ্রিকার (কেনিয়া ও তানজানিয়া) সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলের এক আদি বাসিন্দা। এর বৈজ্ঞানিক নাম schizopetalus এসেছে এর চেরা বা কুঁচকানো পাপড়ির অনন্য গঠনের জন্য। আপনি যদি ছাদবাগানে এমন একটি গাছ চান যা অন্য সাধারণ জবা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এবং যা দেখতে অত্যন্ত ড্রামাটিক ও রাজকীয় লাগবে, তবে লণ্ঠন জবা আপনার সংগ্রহের সেরা প্রিমিয়াম চয়েস।

লণ্ঠন জবার প্রধান বৈশিষ্ট্য (Characteristics)

  • ঝুলন্ত লণ্ঠন ও চেরা পাপড়ি (প্রধান আকর্ষণ): এর ফুলগুলোর পাপড়ি সাধারণ জবার মতো মসৃণ বা চওড়া হয় না। এর ৫টি পাপড়ি প্রাকৃতিকভাবে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে কাটা, চেরা এবং ঝালরের মতো কুঁচকানো (Fringed /Lacy petals) হয়। ফুল ফোটার পর পাপড়িগুলো সম্পূর্ণ উল্টো দিকে বা ওপরের দিকে চমৎকারভাবে মুচড়ে বা বাঁকিয়ে যায়, আর মাঝখান থেকে লম্বা গর্ভদণ্ডটি নিচের দিকে ঝুলে থাকে।

  • বাঘের গোঁফের মতো লম্বা গর্ভদণ্ড: ফুলের মাঝখান থেকে প্রায় ৩ থেকে ৪ ইঞ্চি লম্বা একটি সরু গর্ভদণ্ড বা পুংকেশর নালী (Elongated staminal column) নিচের দিকে ঝুলে পড়ে, যার ডগায় সোনালী রঙের পরাগধানী সাজানো থাকে। এটিই ফুলটিকে নিখুঁত লণ্ঠনের আকৃতি দেয়।

  • আগুনে লাল ও কমলারঙের বৈচিত্র্য: এর ফুলগুলো সাধারণত উজ্জ্বল কোরাল-লাল (Coral red), কমলা-লাল বা গোলাপী ও সাদার এক অপূর্ব মিশ্রণে তৈরি হয়। সবুজ পাতার পটভূমিতে এই ঝুলন্ত লাল ফুলগুলো দেখতে অনিন্দ্য সুন্দর লাগে।

  • লম্বা ও নমনীয় ডালপালা: লণ্ঠন জবা গাছটি সাধারণ জবা গাছের মতো শক্ত ঝোপালো হয় না। এর ডালপালাগুলো প্রাকৃতিকভাবেই বেশ লম্বা, সরু এবং ধনুকের মতো নমনীয় বা ঝুলন্ত স্বভাবের (Weeping/Arching habit) হয়, যার কারণে ফুলগুলো ডালের ডগায় চমৎকার দোলনার মতো দুলতে পারে।

  • বারোমাসি ফুল ফোটার মরসুম: এটি একটি অত্যন্ত উর্বর জাত। শীতের তীব্র ২-৩ মাস বাদ দিলে, মার্চ মাসের শুরু থেকে শুরু করে পুরো গ্রীষ্ম, বর্ষা এবং হেমন্তের শেষ (নভেম্বর-ডিসেম্বর) পর্যন্ত এতে অনবরত ফুল আসতেই থাকে।

পরিচর্যা নির্দেশিকা (Care Guide)

১. মাটির মিশ্রণ ও টব নির্বাচন

লণ্ঠন জবা উর্বর, পুষ্টিসমৃদ্ধ এবং জলনিকাশী মাটি পছন্দ করে। এর শেকড় পচা রোগ প্রতিরোধে আদর্শ মিশ্রণ:

  • বাগানের সাধারণ দোআঁশ মাটি: ৫০%

  • ভার্মিকম্পোস্ট বা পাতা পচা সার: ৩০%

  • নদীর কাদারহিত সাধারণ বালি: ২০%

  • (এর সাথে ১ মুঠো হাড়ের গুঁড়ো, ১ মুঠো নিম খোল এবং ১ চামচ ফাঙ্গিসাইড পাউডার খুব ভালো করে মিশিয়ে মাটি তৈরি করুন)।

  • টব নির্বাচন: যেহেতু এর ডালপালাগুলো লম্বা হয়ে চারপাশে ঝুলে পড়তে ভালোবাসে, তাই এর জন্য অন্তত একটি ১০ থেকে ১২ ইঞ্চির গভীর মাটির বা প্লাস্টিকের টব নির্বাচন করুন। অনেকে একে সুন্দর ঝুলন্ত ঝুড়িতে (Hanging Basket)-ও চাষ করেন, যা দেখতে আরও বেশি চমৎকার লাগে।

২. জল ও সূর্যালোক নিয়ন্ত্রণ

  • জল দেওয়ার নিয়ম: জবা গাছ জল পছন্দ করে, তবে গোড়ায় জল জমে থাকা একদম সহ্য করতে পারে না। টবের মাটির ওপরের স্তর সামান্য শুকিয়ে এলেই পরিমিত জল দিন। গ্রীষ্মকালে মাটিতে সবসময় হালকা আর্দ্রতা বা ময়েশ্চার বজায় রাখুন, অন্যথায় কুঁড়ি ফোটার আগেই ঝরে যাবে।

  • সূর্যালোক (সবচেয়ে জরুরি): এটি পুরোপুরি একটি সূর্যপ্রেমী (Sun-loving) ট্রপিক্যাল উদ্ভিদ। প্রচুর পরিমাণে লণ্ঠন ফুল পেতে গাছটিকে ছাদবাগানের এমন জায়গায় রাখুন যেখানে দিনে অন্তত ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা সরাসরি কড়া ও উজ্জ্বল সূর্যালোক পাওয়া যায়। পর্যাপ্ত রোদ না পেলে গাছ কেবল লতানো ডাল ছড়াবে, কিন্তু ফুলের কুঁড়ি আসবে না।

৩. সার প্রয়োগ

লণ্ঠন জবা ভারী খাবার পছন্দ করে। প্রচুর ফুল পেতে এই চার্টটি অনুসরণ করুন:

  • জৈব তরল সার: ফুল ফোটার পুরো মরসুমে প্রতি ১৫ দিন অন্তর পাতলা করে সরষের খোল পচা জল অথবা কলার খোসা ভেজানো পটাশ সমৃদ্ধ জল দিন।

  • মাসিক রাসায়নিক খাবার: প্রতি মাসে একবার ১ চামচ হাড়ের গুঁড়োর সাথে ১ চামচ পটাশ সার (SOP বা NPK 0:0:50) গোড়ার মাটিতে মিশিয়ে জল দিন। পটাশ সার এই ফুলের বোঁটা শক্ত করতে এবং চেরা পাপড়ির লাল রঙকে আরও বেশি চটকদার করতে জাদুর মতো কাজ করে।

৪. ছাঁটাই ও লণ্ঠন লুক তৈরির ট্রিক (Pruning Trick)

  • শীতের শেষের হালকা ছাঁটাই: লণ্ঠন জবা সবসময় নতুন গজানো কচি সবুজ ডালের ডগায় ফুল ফোটায়।

  • ট্রিক: প্রতি বছর শীতের ঠিক শেষে অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে গাছের অতিরিক্ত লম্বা হয়ে যাওয়া বা অগোছালো ডালগুলো কাঁচি দিয়ে হালকা থেকে মাঝারি আকারে ছেঁটে (Light to Moderate Pruning) দিন। ছাঁটাইয়ের পর নতুন কচি ডাল বের হবে এবং গাছটি ফুলে ফুলে ভরে উঠবে। তবে খেয়াল রাখবেন, এর প্রাকৃতিক ঝুলন্ত স্বভাবটি নষ্ট করবেন না, কারণ ডাল যত সুন্দর ধনুকের মতো ঝুলে থাকবে, লণ্ঠন ফুলগুলো দেখতে তত বেশি আকর্ষণীয় লাগবে।

৫. সাধারণ রোগ ও প্রতিকার

  • মিলিব্যাগ ও হোয়াইট ফ্লাই: সাধারণ জবার মতোই লণ্ঠন জবার কচি ডগা ও কুঁড়ির সংযোগস্থলে তুলোর মতো সাদা মিলিব্যাগ (Mealybugs) এবং পাতার নিচে সাদা মাছির আক্রমণ বেশি হয়।

  • প্রতিকার: পোকার আক্রমণ দমাতে প্রতি ১৫ দিন অন্তর ১ লিটার জলে ১ মিলি ইমিডাক্লোপ্রিড কীটনাশক (Imidacloprid) গুলে পুরো গাছে বিকেলের রোদে খুব ভালো করে স্প্রে করুন।