৩ টেস্ট / কিম হং / খিউ স্যাম রস (3 Taste / Kim Hong / Khiew Sam Ros)

Mango

Showing 1–16 of 171 results

আম (Mango)

  • বৈজ্ঞানিক নাম (Scientific Name): Mangifera indica

  • ভারতের অন্যান্য আঞ্চলিক ভাষায় নাম (Other Common Names): আম্র (সংস্কৃত), আম (হিন্দি), মাঙ্গাই (তামিল), মামিদি (তেলুগু)। ইংরেজিতে একে 'ম্যাঙ্গো' (Mango) বলা হয়।

  • উৎস (Origin): ভারত এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চল।

  • গাছের ধরন (Plant Type): এটি একটি দীর্ঘজীবী, চিরসবুজ এবং বৃহৎ বৃক্ষজাতীয় উদ্ভিদ। তবে ছাদবাগানের জন্য কলমের (Grafted) বামন বা খাটো জাতের গাছ (যেমন: আম্রপালি, কাটিমন বা অলটাইম, থাই ব্যানানা, বারী-৪) ব্যবহার করা হয়, যা ছোট অবস্থাতেই প্রচুর ফল দিতে শুরু করে। সাধারণত বসন্তের শুরুতে (জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি) গাছে থোকা থোকা সুগন্ধি মুকুল আসে এবং গ্রীষ্মকাল (মে থেকে আগস্ট) এর ফল পাকার মূল মরশুম।

১. মাটির মিশ্রণ (Potting Mixture)

টবে আম গাছ করার জন্য অত্যন্ত উর্বর, পুষ্টিসমৃদ্ধ এবং জলনিকাশী মাটি তৈরি করা প্রয়োজন। আদর্শ মিশ্রণ:

  • বাগানের পুরনো দোআঁশ মাটি: ৫০%

  • ভার্মিকম্পোস্ট বা ভালোভাবে পচানো গোবর সার: ৩০%

  • নদীর সাদা বা লাল বালি: ২০% (জলনিকাশ ভালো রাখার জন্য)

  • (সাথে ২ মুঠো নিম খোল, ২ মুঠো হাড়ের গুঁড়ো, ২ মুঠো শিং কুচি এবং ১ চামচ ফাঙ্গিসাইড পাউডার অবশ্যই মিশিয়ে নেবেন)।

  • টবের আকার: আম গাছের জন্য অন্তত ১৮-২৪ ইঞ্চির বড় টব বা হাফ ড্রাম ব্যবহার করা উচিত।

২. পরিচর্যা নির্দেশিকা (Care Guide)

  • জল দেওয়ার নিয়ম: আম গাছে জল দেওয়ার নিয়মটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। মাটিতে হালকা আর্দ্রতা বজায় রাখুন, তবে টবের গোড়া যেন সবসময় কাদা হয়ে না থাকে। বিশেষ নিয়ম: শীতের শেষে (জানুয়ারি মাসে) গাছে মুকুল আসার ঠিক আগে জল দেওয়া অনেকটাই কমিয়ে দিতে হয় (মাটি শুকিয়ে গেলে তবেই সামান্য জল দিন)। মাটিতে জল কম পেলে গাছ দ্রুত মুকুল আনে। আবার মুকুল যখন ছোট গুটিতে বা মটরের দানার মতো আমে পরিণত হবে, তখন নিয়মিত পর্যাপ্ত জল দিতে হবে, অন্যথায় জলের অভাবে কচি আম ঝরে যাবে।

  • সূর্যালোক: আম গাছ চরম সূর্যপ্রেমী। দিনে অন্তত ৬-৮ ঘণ্টা সরাসরি কড়া ও তীব্র সূর্যালোক পায় এমন জায়গায় টবটি রাখুন। পর্যাপ্ত রোদ না পেলে গাছের বৃদ্ধি হবে না এবং গাছে কখনো ফল আসবে না।

  • মুকুল ও গুটি আম ঝরে যাওয়া রোধ: টবের গাছে প্রথম বছর মুকুল আসলে তা ভেঙে দেওয়া ভালো, এতে গাছের গঠন শক্ত হয়। পরের বছর থেকে ফল নিতে পারেন। মুকুল আসার পর এবং ফল মটরের দানা আকৃতির হলে প্রতি লিটার জলে ২ গ্রাম বোরন (Boron) এবং ২ মিলি ফাঙ্গিসাইড গুলে স্প্রে করলে ফল ঝরে যাওয়া অনেক কমে যায়।

  • সার প্রয়োগ: আম গাছ ভারী খাদক (Heavy feeder)। বছরে তিনবার (বর্ষার আগে জুনে, বর্ষার পরে অক্টোবরে এবং বসন্তের শুরুতে জানুয়ারিতে) টবের চারপাশের মাটি খুঁড়ে কম্পোস্ট, হাড়ের গুঁড়ো ও পটাশ সার দিতে হবে। ফল বড় হওয়ার সময় প্রতি ১৫ দিনে একবার কলার খোসা ভেজানো তরল সার দেওয়া খুব উপকারী।

৩. সাধারণ রোগ, পোকা-মাকড় ও প্রতিকার (Diseases, Pests & Cure)

  • সমস্যা:

    • হপার পোকা (Mango Hopper): মুকুল আসার সময় ছোট ছোট বাদামী রঙের পোকা মুকুলের রস চুষে খায়, ফলে মুকুল কালো হয়ে ঝরে যায়। এর সাথে গাছে আঠালো ভাব বা 'হানিডিউ' তৈরি হয়, যা ঝুল রোগের (Sooty Mold) সৃষ্টি করে।

    • ফল ছিদ্রকারী পোকা (Fruit Borer): এক ধরণের পোকা কচি আমের গায়ে ছিদ্র করে ভেতরে ঢুকে পড়ে, ফলে আম নষ্ট হয়ে যায়।

    • অ্যানথ্রাকনোজ (Anthracnose): এটি একটি মারাত্মক ছত্রাকজনিত রোগ। এর ফলে পাতা, ডাল এবং কচি আমের গায়ে কালো কালো দাগ পড়ে এবং আম পচে ঝরে যায়।

  • প্রতিকার:

    • মুকুল ফোটার ঠিক আগে (যখন মুকুল কেবল বের হচ্ছে) এবং ফল গুটি বাঁধার পর—এই দুই সময়ে ১ লিটার জলে ২ মিলি 'ইমিডাক্লোপ্রিড' (কীটনাশক) এবং ২ গ্রাম ফাঙ্গিসাইড (যেমন: সাফ) একসাথে মিশিয়ে পুরো গাছে ভালো করে স্প্রে করতে হবে।

    • মনে রাখবেন: ফুল যখন সম্পূর্ণ ফুটে থাকবে এবং মৌমাছিরা পরাগায়ন (Pollination) করবে, তখন ভুলেও কোনো কীটনাশক স্প্রে করবেন না।