₹750.00Original price was: ₹750.00.₹550.00Current price is: ₹550.00.Add to basket
আপেল অত্যন্ত পুষ্টিকর, সুস্বাদু এবং সারাবছর চাহিদাসম্পন্ন একটি ফল। আগে ধারণা করা হতো আপেল কেবল ঠাণ্ডা পার্বত্য অঞ্চলেই চাষ সম্ভব, তবে বর্তমানে কৃষি প্রযুক্তির কল্যাণে সমতল অঞ্চলের তীব্র গরম সহ্য করতে পারে এমন কিছু চমৎকার উষ্ণ জলবায়ু সহনশীল (Low-chill বা Hot-climate) জাত আবিষ্কার হয়েছে। ছাদবাগানে টবে বা ড্রামে চাষের জন্য এই জাতগুলোর কলমের চারা দারুণ উপযোগী।
আপেল (Apple)
বৈজ্ঞানিক নাম (Scientific Name):Malus domestica
ভারতের অন্যান্য আঞ্চলিক ভাষায় নাম (Other Common Names): সেব (হিন্দি), আপ্পিল (তামিল), আপেল পান্ডু (তেলুগু)। ইংরেজিতে একে 'অ্যাপেল' (Apple) বলা হয়।
উৎস (Origin): মধ্য এশিয়া (তবে বর্তমানে ভারতের হিমাচল প্রদেশ, জম্মু-কাশ্মীর ও উত্তরাখণ্ডে এর ব্যাপক বাণিজ্যিক চাষ হয়)।
ছাদবাগানের জন্য উপযোগী জাত (Hot-Climate Varieties): সমতল অঞ্চলের তীব্র গরমের ছাদবাগানের জন্য প্রধানত ৩টি জাত সবচেয়ে সফল:
HRMN-99 (হরিমন-৯৯): সমতল ভূমির জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় জাত, যা ৪৫° সেলসিয়াস গরমেও প্রচুর ফল দেয়।
Anna (আন্না): এটি একটি ইসরায়েলি জাত, যা গরমে দারুণ ফলন দেয়।
Dorsett Golden (ডরসেট গোল্ডেন): এটি হালকা হলদে-সবুজ রঙের মিষ্টি আপেলের জাত।
গাছের ধরন (Plant Type): এটি একটি মাঝারি আকারের, বহুবর্ষজীবী (Perennial) এবং পর্ণমোচী বা পাতাঝরা (Deciduous) কাস্টল উদ্ভিদ। এর পাতাগুলো ডিম্বাকার ও হালকা খসখসে হয়। ছাদবাগানের জন্য সবসময় টিস্যু কালচার বা জোড় কলমের (Grafted) চারা ব্যবহার করা আবশ্যক। কলমের চারা লাগানোর ২ বছরের মধ্যেই এবং মাত্র ৪-৫ ফুট উচ্চতা থেকেই গাছে ফুল ও ফল আসতে শুরু করে। সাধারণত বসন্তের শুরুতে (ফেব্রুয়ারি-মার্চ) গাছে চমৎকার সাদা বা হালকা গোলাপি ফুল আসে এবং গ্রীষ্মের শেষে বা বর্ষার মাঝামাঝি সময়ে (জুন-আগস্ট) ফল পাকে।
১. মাটির মিশ্রণ (Potting Mixture)
টবে আপেল চাষের জন্য পুষ্টিসমৃদ্ধ, জৈব উপাদানযুক্ত এবং চমৎকার জলনিকাশী বেলে-দোআঁশ মাটি প্রয়োজন। মাটির পিএইচ (pH) মাত্রা ৬.০ থেকে ৭.০ (সামান্য অম্লীয় থেকে নিরপেক্ষ) হওয়া আদর্শ। আদর্শ মিশ্রণ:
বাগানের দোআঁশ মাটি: ৪০%
ভার্মিকম্পোস্ট বা পুরনো পচা গোবর সার: ৩০%
নদীর কাদা ছাড়া বালি বা কোকোপিট: ২০% (মাটি হালকা ও ঝুরঝুরে রাখার জন্য)
ধানের তুষ বা কয়লার গুঁড়ো: ১০%
(এর সাথে ২ মুঠো হাড়ের গুঁড়ো, ২ মুঠো নিম খোল, ১ চামচ চুন বা ডলোমাইট এবং ১ চামচ ফাঙ্গিসাইড পাউডার খুব ভালো করে মিশিয়ে মাটি তৈরি করুন)।
টবের আকার: আপেল গাছের শিকড় দ্রুত ছড়ায়, তাই শুরুতে ১৪-১৬ ইঞ্চির টব এবং গাছ একটু বড় হলে অন্তত ১৮-২৪ ইঞ্চির ড্রাম ব্যবহার করা আবশ্যক।
২. পরিচর্যা নির্দেশিকা (Care Guide)
জল দেওয়ার নিয়ম: আপেল গাছ মাটিতে সবসময় হালকা আর্দ্রতা পছন্দ করে, তবে গাছের গোড়ায় জল জমে থাকা এর শিকড় পচার প্রধান কারণ। টবের মাটির ওপরের স্তর ১ ইঞ্চি শুকিয়ে গেলে তবেই জল দিন। বিশেষ নিয়ম: বসন্তের শুরুতে যখন গাছে ফুল আসবে, তখন জল দেওয়ার পরিমাণ কিছুটা কমিয়ে দিতে হবে (মাটি শুকিয়ে গেলে তবেই জল দিন)। ফুল থাকা অবস্থায় অতিরিক্ত জল দিলে ফুল ঝরে যায়। ফুল থেকে যখন ছোট ছোট আপেলের গুটি তৈরি হয়ে যাবে, তখন থেকে ফল পাকা পর্যন্ত আবার নিয়মিত পর্যাপ্ত জল দিতে হবে।
সূর্যালোক: এটি একটি রোদ পছন্দ করা গাছ। ভালো বৃদ্ধি এবং ফলের সুন্দর রঙের জন্য দিনে অন্তত ৬-৭ ঘণ্টা সরাসরি উজ্জ্বল ও কড়া সূর্যালোক পায় এমন খোলামেলা জায়গায় টবটি রাখুন।
পাতা ঝরার মরশুম ও ছাঁটাই (Dormancy & Pruning): শীতকালের শুরুতে (নভেম্বর-ডিসেম্বর) আপেল গাছের সব পাতা হলুদ হয়ে ঝরে যায় এবং গাছটি সম্পূর্ণ সুপ্তাবস্থায় (Dormancy) চলে যায়। এটি এই গাছের একটি স্বাভাবিক প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে গাছের অগ্রভাগের অতিরিক্ত লম্বা, আঁকাবাঁকা, শুকনো বা রোগাক্রান্ত ডালগুলো ধারালো কাঁচি দিয়ে ছেঁটে (Pruning) দিতে হবে। ছাঁটাইয়ের পর কাটা অংশে ফাঙ্গিসাইড লাগিয়ে দিন। বসন্তের শুরুতে এই ছাঁটাই করা অংশ থেকে নতুন ডাল বের হবে এবং তাতেই প্রচুর ফুল আসবে।
সার প্রয়োগ: বছরে তিনবার (জানুয়ারি মাসের ছাঁটাইয়ের পর, মে মাসে এবং সেপ্টেম্বর মাসে) টবের চারপাশের মাটি সামান্য খুঁড়ে প্রচুর কম্পোস্ট সার, হাড়ের গুঁড়ো, শিং কুচি এবং সামান্য পটাশ সার (ফলের মিষ্টিভাব ও আকার বাড়াতে) দিন। ফল বড় হওয়ার সময় প্রতি ১৫ দিন অন্তর পাতলা করে তৈরি করা সরষের খোল পচা তরল সার বা কলার খোসা ভেজানো জল দেওয়া খুব উপকারী।
৩. সাধারণ রোগ, পোকা-মাকড় ও প্রতিকার (Diseases, Pests & Cure)
সমস্যা:
এফিডস বা জাব পোকা ও মিলিবাগ (Aphids & Mealybugs): বসন্তকালে নতুন কচি পাতা ও ফুলের থোকায় এই ছোট ছোট পোকা লেগে রস চুষে খায় এবং পাতা কুঁকড়ে দেয়।
আপেল স্ক্যাব বা ছাতরা রোগ (Apple Scab): এটি একটি মারাত্মক ছত্রাকজনিত রোগ। এর আক্রমণে পাতা এবং ফলের গায়ে কালো বা মখমলের মতো বাদামী রঙের দাগ পড়ে, যার ফলে ফল বিকৃত হয়ে যায়।