
Hollyhock / Alcea
Showing all 4 results
-


উজ্জ্বল গোলাপি, রোজ ও ম্যাজেন্টা হলিহক (Vibrant Pink, Rose & Magenta Hollyhock)
-


উজ্জ্বল হলুদ, পিচ ও অ্যাপ্রিকট হলিহক (Radiant Yellow, Peach & Apricot Hollyhock)
-


টকটকে লাল, স্কারলেট ও কালচে-মারুন হলিহক (Deep Crimson, Scarlet & Black-Maroon Hollyhock)
-


শুভ্র সাদা, ক্রিম ও বাইকালার হলিহক (Pristine White, Cream & Bicolor Hollyhock)
হলিহক (Hollyhock) বা আলসিয়া ফুল শীতকাল ও বসন্তের অন্যতম রাজকীয়, দীর্ঘকায় এবং চোখ ধাঁধানো একটি ফুল। ছাদবাগানে বা লনের পেছনের সারিতে (Background) একটি রঙিন দেওয়াল বা পর্দা তৈরি করতে হলিহকের কোনো জুড়ি নেই। এর লম্বা ডাঁটার নিচ থেকে ওপর পর্যন্ত সারিবদ্ধভাবে ফোটা বড় বড় ফুলগুলো দূর থেকে দেখতে অত্যন্ত আকর্ষণীয় লাগে।
হলিহক (Hollyhock)
-
বৈজ্ঞানিক নাম (Scientific Name): Alcea rosea
-
উৎস (Origin): এশিয়া ও ইউরোপ।
-
রঙ ও জাত: হলিহক ফুল সিঙ্গল (Single - এক সারির পাপড়ি) এবং ডাবল (Double - গোল বলের মতো ঘন পাপড়ি) দুই ধরণেরই হয়ে থাকে। এটি লাল, গোলাপি, ম্যাজেন্টা, বেগুনি, হলুদ, সাদা এবং প্রায় কালো (Black Hollyhock) রঙের হয়ে থাকে। ছাদবাগানের জন্য এর মূলত দুটি জাত দেখা যায়:
-
টল জাত (Tall): এগুলো ৫ থেকে ৮ ফুট বা তার বেশি লম্বা হয়।
-
ডোয়ার্ফ জাত (Dwarf): এগুলো ২ থেকে ৩ ফুট লম্বা হয় (টবের জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক)।
-
-
গাছের ধরন (Plant Type): এটি একটি খাড়াভাবে বর্ধনশীল, শক্ত কান্ডযুক্ত এবং সাধারণত দ্বিবর্ষজীবী (Biennial) বা বহুবর্ষজীবী (Perennial) উদ্ভিদ। তবে আমাদের দেশের আবহাওয়ার কারণে একে একবর্ষজীবী (Annual) শীতকালীন ফুল হিসেবেই চাষ করা হয়। এর পাতাগুলো বেশ বড়, খসখসে, গোল ও খাঁজকাটা হয়। সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে বীজ থেকে এর চাষ শুরু হয় এবং শীতের শেষ থেকে গ্রীষ্মের শুরু (ফেব্রুয়ারি থেকে মে) পর্যন্ত এতে অনবরত ফুল ফুটতে থাকে।
১. মাটির মিশ্রণ (Potting Mixture)
হলিহক গাছ প্রচুর পুষ্টি পছন্দ করে এবং এর শিকড় বেশ গভীরে যায়। তাই এর মাটি উর্বর ও চমৎকার জলনিকাশী হওয়া জরুরি। আদর্শ মিশ্রণ:
-
বাগানের সাধারণ দোআঁশ মাটি: ৫০%
-
ভার্মিকম্পোস্ট বা পুরনো পচা গোবর সার: ৩০%
-
নদীর কাদা ছাড়া বালি: ২০%
-
(মাটির শক্তি বাড়াতে এর সাথে ২ মুঠো হাড়ের গুঁড়ো, ২ মুঠো নিম খোল এবং ১ চামচ ফাঙ্গিসাইড পাউডার খুব ভালো করে মিশিয়ে মাটি তৈরি করুন)।
-
টবের আকার: হলিহক গাছ যেহেতু বেশ বড় এবং লম্বা হয়, তাই এর জন্য ছোট টব একদম চলবে না। ডোয়ার্ফ জাতের জন্য অন্তত ১০ ইঞ্চির টব এবং লম্বা বা টল জাতের জন্য ১২ থেকে ১৪ ইঞ্চির গভীর টব আবশ্যক (১টি টবে ১টি চারা)।
২. পরিচর্যা নির্দেশিকা (Care Guide)
-
জল দেওয়ার নিয়ম: হলিহক গাছ মাটিতে সবসময় হালকা আর্দ্রতা বা ভেজা ভাব পছন্দ করে। তবে খেয়াল রাখবেন টবের গোড়ায় যেন জল জমে কাদা না হয়ে থাকে। মাটির ওপরের স্তর সামান্য শুকিয়ে গেলেই জল দিন। জল দেওয়ার সময় সরাসরি পাতার ওপর জল না দিয়ে গাছের গোড়ার মাটিতে জল দেওয়া ভালো।
-
সূর্যালোক: এটি একটি তীব্র সূর্যপ্রেমী গাছ। প্রচুর ফুল এবং মজবুত কান্ডের জন্য দিনে অন্তত ৫-৬ ঘণ্টা সরাসরি কড়া ও উজ্জ্বল সূর্যালোক পায় এমন খোলামেলা জায়গায় টবটি রাখুন। রোদ কম পেলে গাছ দুর্বল হয়ে হেলে পড়বে এবং ফুল কম আসবে।
-
খুঁটি বা সাপোর্ট দেওয়া (Staking - অত্যন্ত জরুরি): হলিহকের লম্বা জাতগুলো যখন ৩-৪ ফুট লম্বা হয়ে যায়, তখন সামান্য হাওয়া দিলে বা ফুলের ভারে কান্ড ভেঙে বা হেলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এই কারণে গাছটি কিছুটা বড় হলেই টবের মাটিতে একটি মজবুত বাঁশের লাঠি বা খুঁটি পুঁতে তার সাথে গাছের মূল কান্ডটি হালকা করে সুতো দিয়ে বেঁধে দিতে হবে।
-
পিঞ্চিং ও ডেডহেডিং:
-
পিঞ্চিং: হলিহক গাছে ভুল করেও পিঞ্চিং বা মাথা কাটা যাবে না। এটি সোজা একটি প্রধান ডাঁটা বা স্টিক আকারে বাড়ে এবং তাতেই ফুল ফোটে। মাথা কেটে দিলে এর স্বাভাবিক বৃদ্ধি নষ্ট হয়ে যাবে।
-
ডেডহেডিং: নিচের দিকের ফুলগুলো যখন ফুটে শুকিয়ে যাবে, তখন সেগুলো কেটে ফেলে দিন। এতে ওপরের কুঁড়িগুলো বড় হওয়ার জন্য বেশি পুষ্টি পায়।
-
-
সার প্রয়োগ: চারা লাগানোর ১৫ দিন পর থেকে প্রতি ১০-১২ দিন অন্তর পাতলা করে তৈরি করা সরষের খোল পচা তরল সার দিতে হবে। গাছে ফ্লাওয়ার স্টিক বা কুঁড়ি আসার লক্ষণ দেখা দিলে এই তরল সারের সাথে সামান্য পটাশ সার বা কলার খোসা ভেজানো জল মিশিয়ে দিলে ফ্লাওয়ার স্টিকটি অনেক বড় ও জমকালো হয়।
৩. সাধারণ রোগ, পোকা-মাকড় ও প্রতিকার (Diseases, Pests & Cure)
-
সমস্যা:
-
রাস্ট বা মরচে রোগ (Hollyhock Rust): এটি হলিহক গাছের সবচেয়ে সাধারণ এবং মারাত্মক ছত্রাকজনিত রোগ। এর আক্রমণে পাতার নিচে এবং কান্ডে ছোট ছোট হলদে-কমলা বা মরচে রঙের গুঁড়ো দাগ দেখা যায়, যা পাতা শুকিয়ে গাছকে দুর্বল করে দেয়।
-
জাব পোকা ও মাকড়সা (Aphids & Spider Mites): কচি পাতা এবং ফুলের কুঁড়িতে এই ছোট ছোট পোকা লেগে রস চুষে খায়, ফলে পাতা কুঁকড়ে যায়।
-
-
প্রতিকার:
-
রাস্ট বা মরচে রোগ এড়াতে গাছ লাগানোর পর থেকেই ১৫ দিন অন্তর ১ লিটার জলে ২ গ্রাম ফাঙ্গিসাইড (যেমন: সাফ বা ম্যানকোজেব) গুলে পুরো গাছে স্প্রে করুন। আক্রান্ত পাতা দেখা মাত্রই তা কেটে পুড়িয়ে বা দূরে ফেলে দিন।
-
পোকা-মাকড়ের উপদ্বব কমাতে ১০-১২ দিন অন্তর ১ লিটার জলে ২ মিলি নিম তেল এবং কয়েক ফোঁটা লিকুইড সোপ মিশিয়ে পুরো গাছে ভালো করে স্প্রে করুন।
-
