
Carnation
Showing all 4 results
-


উজ্জ্বল হলুদ ও পিচ কার্নেশন (Sunny Yellow & Peach Carnation)
-


টকটকে লাল, রুবি ও মারুন কার্নেশন (Deep Red, Crimson & Scarlet Carnation)
-


মিষ্টি গোলাপি, রোজ ও ব্লাশ কার্নেশন (Soft Pink, Rose & Blush Carnation)
-


শুভ্র সাদা, বেগুনি ও বাইকালার কার্নেশন (Pristine White, Purple & Picotee Bicolor Carnation)
কার্নেশন (Carnation) ফুলের সহজ এবং সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো। কার্নেশন বিশ্বজুড়ে কাট-ফ্লাওয়ার (Cut-flower) বা তোড়া তৈরির ফুল হিসেবে গোলাপের পরেই দ্বিতীয় জনপ্রিয়। এটি অত্যন্ত অভিজাত, চমৎকার ডাবল পাপড়িযুক্ত এবং দীর্ঘস্থায়ী একটি ফুল। এর ফুলের পাপড়িগুলোর কিনারা এত সুন্দর খাঁজকাটা এবং বিন্যাস এত নিখুঁত হয় যে, দূর থেকে দেখলে মনে হয় মখমল বা কাপড়ের তৈরি কোনো কৃত্রিম ফুল। ছাদবাগানে টবে বা লনে আভিজাত্যের ছোঁয়া আনতে কার্নেশনের কোনো জুড়ি নেই।
কার্নেশন (Carnation)
-
বৈজ্ঞানিক নাম (Scientific Name): Dianthus caryophyllus (এটি মূলত ডায়ান্থাস বা পিঙ্কস গোত্রেরই একটি বড় ও প্রধান জাত)।
-
উৎস (Origin): ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল।
-
রঙ ও জাত: কার্নেশন ফুল মূলত দুই ধরণের হয়—এক বোঁটায় একটি বড় ফুল (Standard) এবং এক বোঁটায় থোকা থোকা ছোট ফুল (Spray)। এটি লাল, গোলাপি, হলুদ, বেগুনি, সাদা এবং মনোহর দ্বৈত রঙের (Dual color) হয়ে থাকে। এর ফুল থেকে লবঙ্গের মতো (Clove-like) একটি হালকা ও মিষ্টি সুগন্ধ পাওয়া যায়।
-
গাছের ধরন (Plant Type): এটি একটি শক্ত, গিঁটযুক্ত কান্ডবিশিষ্ট এবং বহুবর্ষজীবী (Perennial) উদ্ভিদ। তবে আমাদের সমতল অঞ্চলের অতিরিক্ত গরম ও বর্ষার কারণে একে সাধারণত একবর্ষজীবী (Annual) শীতকালীন ফুল হিসেবেই বেশি চাষ করা হয়। গাছগুলো জাতভেদে ১ থেকে ২ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। এর পাতাগুলো সুঁচালো, সরু এবং ধূসর-সবুজ বা নীলচে-সবুজ রঙের হয়ে থাকে। অক্টোবর-নভেম্বর মাসে নার্সারি থেকে এর চারা কিনে লাগানো হয় এবং জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত এই গাছে অনবরত ফুল ফুটতে থাকে।
১. মাটির মিশ্রণ (Potting Mixture)
কার্নেশন গাছ হালকা, প্রচুর পুষ্টি উপাদানসমৃদ্ধ এবং চমৎকার জলনিকাশী মাটি পছন্দ করে। এর মাটি যেন কখনোই খুব বেশি অম্লীয় (Acidic) না হয়, এটি নিরপেক্ষ বা সামান্য ক্ষারীয় মাটি পছন্দ করে। আদর্শ মিশ্রণ:
-
বাগানের সাধারণ দোআঁশ বা বেলে-দোআঁশ মাটি: ৫০%
-
ভার্মিকম্পোস্ট বা পুরনো পচা গোবর সার: ৩০%
-
নদীর কাদা ছাড়া বালি: ২০% (জল দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য)
-
(মাটির গুনাগুণ বাড়াতে এবং অম্লতা কমাতে এর সাথে ১ মুঠো হাড়ের গুঁড়ো, ২ মুঠো নিম খোল, ১ মুঠো চক পাউডার বা চুন এবং ১ চামচ ফাঙ্গিসাইড পাউডার খুব ভালো করে মিশিয়ে মাটি তৈরি করুন)।
-
টবের আকার: কার্নেশন গাছের জন্য ৮ থেকে ১০ ইঞ্চির টব একদম আদর্শ (১টি টবে ১টি চারা)।
২. পরিচর্যা নির্দেশিকা (Care Guide)
-
জল দেওয়ার নিয়ম: কার্নেশন গাছে জল দেওয়ার ক্ষেত্রে খুব সতর্ক থাকতে হবে। এটি মাটিতে হালকা আর্দ্রতা পছন্দ করে, কিন্তু স্যাঁতসেঁতে ভেজা বা কাদা ভাব একদম সহ্য করতে পারে না। টবের মাটির ওপরের স্তর সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেলে তবেই জল দিন। জল দেওয়ার সময় সরাসরি গাছের পাতার ওপর বা ফুলের কুঁড়িতে জল না দিয়ে গোড়ার মাটিতে দিন।
-
সূর্যালোক: এটি একটি তীব্র সূর্যপ্রেমী গাছ। প্রচুর ফুল এবং পাপড়ির উজ্জ্বল রঙের জন্য দিনে অন্তত ৫-৬ ঘণ্টা সরাসরি কড়া ও উজ্জ্বল সূর্যালোক পায় এমন খোলামেলা জায়গায় টবটি রাখুন। রোদ কম পেলে গাছের কান্ড দুর্বল ও ফ্যাকাশে হয়ে যাবে এবং ফুল কম আসবে।
-
খুঁটি বা সাপোর্ট দেওয়া (Staking): কার্নেশন গাছের ফুলগুলো বেশ বড় ও ভারী হয়। তাই ফুল ফুটলে বা হাওয়া দিলে কান্ড যেন ভেঙে বা হেলে না পড়ে, সেজন্য গাছটি ১০-১২ ইঞ্চি লম্বা হলেই টবের মাটিতে একটি সরু বাঁশের কাঠি বা লাঠি পুঁতে তার সাথে গাছের মূল কান্ডটি হালকা করে সুতো দিয়ে বেঁধে সাপোর্ট দিতে হবে।
-
পিঞ্চিং ও ডেডহেডিং (Pinching & Deadheading):
-
পিঞ্চিং: চারা গাছটি যখন ৪-৫ ইঞ্চি লম্বা হবে, তখন এর একদম অগ্রভাগের কচি ডগাটি নখ দিয়ে কেটে (Pinching) দিন। এর ফলে কাটা অংশ থেকে প্রচুর নতুন শক্তিশালী ডাল বের হবে এবং গাছটি খুব সুন্দর ঝোপালো আকার নেবে।
-
ডিসবাডিং (Disbudding): আপনি যদি একটি ডালে একটি মাত্র বিশাল বড় আকারের রাজকীয় ফুল পেতে চান, তবে প্রধান কুঁড়িটি রেখে চারপাশের ছোট ছোট পার্শ্ববর্তী কুঁড়িগুলো ভেঙে ফেলে দিন। আর যদি থোকা ফুল চান, তবে এটি করার দরকার নেই।
-
ডেডহেডিং: ফুল ফোটার পর তা যখন শুকিয়ে যাবে, তখন সেই ফুলটিকে বোঁটাসহ কাঁচি দিয়ে কেটে ফেলে দিতে হবে। এতে গাছ নতুন নতুন ডাল ছাড়তে এবং নতুন কুঁড়ি তৈরি করতে উদ্বুদ্ধ হয়।
-
-
সার প্রয়োগ: চারা লাগানোর ১৫ দিন পর থেকে প্রতি ১০-১২ দিন অন্তর পাতলা করে তৈরি করা সরষের খোল পচা তরল সার দিতে হবে। গাছে কুঁড়ি আসার পর থেকে এই তরল সারের সাথে সামান্য পটাশ সার বা কলার খোসা ভেজানো জল মিশিয়ে দিলে ফুলের আকার ও রঙের উজ্জ্বলতা দারুণ বৃদ্ধি পায়।
৩. সাধারণ রোগ, পোকা-মাকড় ও প্রতিকার (Diseases, Pests & Cure)
-
সমস্যা:
-
গোড়া পচা ও কান্ড পচা (Root & Stem Rot): কার্নেশনের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ছত্রাকের আক্রমণ। টবে জল জমে থাকলে বা অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে মাটির কাছাকাছি থাকা কান্ড ও শিকড় পচে গাছটি হঠাৎ মরে যায়।
-
লাল মাকড়সা ও থ্রিপস (Spider Mites & Thrips): গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ায় পাতার নিচে ছোট ছোট মাকড়সা বা থ্রিপস লেগে রস চুষে খায়, ফলে পাতা ফ্যাকাশে বা কুঁকড়ে যায়।
-
-
প্রতিকার:
-
ছত্রাকের আক্রমণ বা গোড়া পচা এড়াতে ১৫ দিন অন্তর ১ লিটার জলে ২ গ্রাম ফাঙ্গিসাইড (যেমন: সাফ) গুলে গাছে স্প্রে করুন এবং টবের গোড়ার দিকের মরা বা শুকনো পাতা সবসময় পরিষ্কার রাখুন।
-
মাকড়সা ও থ্রিপসের হাত থেকে বাঁচতে ১০-১২ দিন অন্তর ১ লিটার জলে ২ মিলি নিম তেল এবং কয়েক ফোঁটা লিকুইড সোপ মিশিয়ে পুরো গাছে ভালো করে স্প্রে করুন।
-
