
Geranium
Showing all 4 results
-


টকটকে লাল ও স্কারলেট জিরােনিয়াম (Vibrant Red & Scarlet Geranium)
-


মিষ্টি গোলাপি, রোজ ও স্যামন জিরােনিয়াম (Sweet Pink, Rose & Salmon Geranium)
-


রাজকীয় বেগুনি, ভায়োলেট ও বারগান্ডি জিরােনিয়াম (Rich Purple, Violet & Burgundy Geranium)
-


শুভ্র সাদা ও আইভি বাইকালার জিরােনিয়াম (Pure White & Bicolor Ivy Geranium)
জেরানিয়াম (Geranium) শীতকাল, বসন্ত এবং এমনকি গ্রীষ্মের শুরু পর্যন্ত ছাদবাগানের অন্যতম সেরা ও দীর্ঘস্থায়ী একটি ফুল। এর রাজকীয় রঙের ফুলের থোকা এবং সুগন্ধি পাতার কারণে এটি বিশ্বজুড়ে দারুণ জনপ্রিয়। সঠিক পরিচর্যা ও বর্ষার হাত থেকে একটু বাঁচিয়ে রাখতে পারলে এই গাছকে বছরের পর বছর বাঁচিয়ে রাখা যায়, অর্থাৎ এটি একটি চমৎকার বহুবর্ষজীবী (Perennial) উদ্ভিদ।
জেরানিয়াম (Geranium)
-
বৈজ্ঞানিক নাম (Scientific Name): Pelargonium × hortorum (সাধারণ গার্ডেন জেরানিয়াম)।
-
উৎস (Origin): দক্ষিণ আফ্রিকা।
-
রঙ ও জাত: জেরানিয়াম ফুল ছোট ছোট ছাতার মতো গোল থোকা (Umbels) আকারে ফোটে। এটি টকটকে লাল, গাঢ় গোলাপি, হালকা গোলাপি, বেগুনি, ল্যাভেন্ডার, কমলা এবং ধবধবে সাদা রঙের হয়ে থাকে। ছাদবাগানে মূলত দুই ধরণের জেরানিয়াম দেখা যায়:
-
জোনাল জেরানিয়াম (Zonal Geranium): এর পাতাগুলো গোল ও মখমলের মতো হয় এবং পাতার ওপর গাঢ় রঙের একটি রিং বা জোন (Zone) থাকে। কান্ড খাড়া ও ঝোপালো হয়।
-
আইভি জেরানিয়াম (Ivy Geranium): এর পাতাগুলো আইভি লতার মতো মসৃণ ও কোণাকার হয় এবং এর ডালগুলো লতানো প্রকৃতির হয় (ঝুলন্ত বাস্কেটের জন্য সেরা)।
-
-
গাছের ধরন (Plant Type): এটি একটি শক্ত ও রসালো (Semi-succulent) কান্ডযুক্ত, বহুবর্ষজীবী (Perennial) উদ্ভিদ। এর পাতাগুলো হাত দিয়ে হালকা ঘষলে একটি দারুণ চমৎকার ভেষজ সুগন্ধ পাওয়া যায়। অক্টোবর-নভেম্বর মাসে নার্সারি থেকে এর চারা কিনে বা ডাল কেটে (Cuttings) টবে লাগানো হয়। ডিসেম্বর থেকে শুরু করে মে মাস পর্যন্ত এই গাছে অনবরত ফুল ফুটতে থাকে।
১. মাটির মিশ্রণ (Potting Mixture)
জেরানিয়াম গাছ তার রসালো কান্ডে জল জমিয়ে রাখে, তাই এটি অতিরিক্ত ভেজা মাটি বা কাদা একদম সহ্য করতে পারে না। এর জন্য হালকা, ঝুরঝুরে এবং দ্রুত জল নিষ্কাশন হয় এমন মাটি প্রয়োজন। আদর্শ মিশ্রণ:
-
বাগানের সাধারণ দোআঁশ বা বেলে-দোআঁশ মাটি: ৫০%
-
ভার্মিকম্পোস্ট বা পাতা পচা সার: ২৫%
-
নদীর কাদা ছাড়া বালি: ২৫% (জল দ্রুত বের করে দেওয়ার জন্য)
-
(মাটির গুনাগুণ বাড়াতে এর সাথে ১ মুঠো হাড়ের গুঁড়ো, ১ মুঠো নিম খোল এবং ১ চামচ ফাঙ্গিসাইড পাউডার খুব ভালো করে মিশিয়ে মাটি তৈরি করুন)।
-
টবের আকার: জেরানিয়াম গাছের জন্য ৮ থেকে ১০ ইঞ্চির টব একদম আদর্শ। আইভি বা লতানো জাতের জন্য ঝুলন্ত টব (Hanging Basket) ব্যবহার করলে ফুল ফোটার পর ডালগুলো চারপাশ দিয়ে নিচের দিকে ঝুলে পড়ে, যা দেখতে অসাধারণ লাগে।
২. পরিচর্যা নির্দেশিকা (Care Guide)
-
জল দেওয়ার নিয়ম: জেরানিয়াম গাছে জল দেওয়ার ক্ষেত্রে "কম জল দেওয়া"-ই হলো মূল নিয়ম। টবের মাটির ওপরের স্তর হাত দিয়ে ছুঁয়ে যদি ১ ইঞ্চি গভীর পর্যন্ত শুকনো মনে হয়, তবেই জল দিন। মাটিতে সবসময় প্যাচপ্যাচে ভেজা ভাব থাকলে গাছের কান্ড কালো হয়ে পচে যাবে এবং পাতা হলুদ হয়ে ঝরে যাবে। জল দেওয়ার সময় সরাসরি পাতায় জল না দিয়ে গোড়ার মাটিতে দিন।
-
সূর্যালোক: এটি একটি তীব্র সূর্যপ্রেমী গাছ। প্রচুর ফুল এবং গাঢ় রঙের জন্য দিনে অন্তত ৫-৬ ঘণ্টা সরাসরি উজ্জ্বল সূর্যালোক পায় এমন খোলামেলা জায়গায় টবটি রাখুন। রোদ কম পেলে গাছের ডালপালা লিকলিকে লম্বা হয়ে যাবে এবং ফুল আসা বন্ধ হয়ে যাবে। তবে মার্চ-এপ্রিলের তীব্র দুপুরের কড়া রোদ থেকে বাঁচাতে গাছটিকে সামান্য হালকা ছায়ায় রাখলে ফুল অনেক দিন বেশি স্থায়ী হয়।
-
পিঞ্চিং ও ডেডহেডিং (Pinching & Deadheading):
-
পিঞ্চিং: নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে চারা গাছটি যখন বাড়ে, তখন ডালগুলোর অগ্রভাগ নখ দিয়ে হালকা কেটে (Pinching) দিলে চারপাশ থেকে প্রচুর নতুন ডাল বের হয় এবং গাছটি ঝোপালো হয়।
-
ডেডহেডিং: একটি ফুলের থোকা যখন সম্পূর্ণ ফুটে শুকিয়ে বা বিবর্ণ হয়ে যাবে, তখন সেই ফুলের স্টিকটি কাঁচি দিয়ে একদম গোড়া থেকে কেটে ফেলে দিন। নিয়মিত শুকনো ফুল কাটলে নিচের অংশ থেকে নতুন ফুলের স্টিক দ্রুত বের হবে।
-
-
সার প্রয়োগ: চারা লাগানোর ১৫ দিন পর থেকে প্রতি ১০-১২ দিন অন্তর পাতলা করে তৈরি করা সরষের খোল পচা তরল সার দিতে হবে। গাছে কুঁড়ি আসার লক্ষণ দেখা দিলে এই তরল সারের সাথে সামান্য পটাশ সার বা কলার খোসা ভেজানো জল মিশিয়ে দিলে ফুলের রঙ অত্যন্ত গাঢ় ও দীর্ঘস্থায়ী হয়।
৩. সাধারণ রোগ, পোকা-মাকড় ও প্রতিকার (Diseases, Pests & Cure)
-
সমস্যা:
-
কালো কান্ড পচা বা ব্ল্যাক লেগ (Black Leg/Rot): এটি জেরানিয়ামের সবচেয়ে মারাত্মক ছত্রাকজনিত রোগ। অতিরিক্ত জল দিলে বা টবে জল জমলে মাটির কাছাকাছি থাকা কান্ড কালো হয়ে পচে যায় এবং গাছটি মারা যায়।
-
শুঁয়োপোকা ও জাব পোকা (Caterpillars & Aphids): কচি পাতা ও ফুলের কুঁড়ি শুঁয়োপোকা কেটে নষ্ট করে ফেলে এবং জাব পোকা রস চুষে খায়।
-
-
প্রতিকার:
-
কান্ড বা গোড়া পচা রোগ এড়াতে ১৫ দিন অন্তর ১ লিটার জলে ২ গ্রাম ফাঙ্গিসাইড (যেমন: সাফ) গুলে গাছের গোড়ার মাটিতে দিন এবং জল দেওয়ার পরিমাণ কমিয়ে দিন।
-
পোকা-মাকড়ের উপদ্বব কমাতে ১০-১২ দিন অন্তর ১ লিটার জলে ২ মিলি নিম তেল এবং কয়েক ফোঁটা লিকুইড সোপ মিশিয়ে পুরো গাছে ভালো করে স্প্রে করুন।
-
গ্রীষ্ম ও বর্ষায় বাঁচিয়ে রাখার উপায়: মে-জুন মাসে ফুল ফোটা শেষ হয়ে গেলে গাছটিকে ছাদের এমন জায়গায় রাখুন যেখানে সরাসরি তীব্র রোদ বা বর্ষার জল পড়ে না (যেমন: বারান্দা বা সেমি-শেড)। এই সময়ে জল খুবই কম দিন। পরবর্তী অক্টোবর মাসে গাছটির ডাল ছেঁটে (Pruning) নতুন মাটিতে বসালে এটি আবার নতুন গাছের মতো ফুলে ভরে উঠবে।
