
Tamarind
Showing all 2 results
তেঁতুল অত্যন্ত জনপ্রিয়, টক-মিষ্টি স্বাদের একটি ফল, যা মুখের রুচি বাড়াতে এবং বিভিন্ন মুখরোচক খাবার (যেমন: ফুচকা, চাটনি বা আচার) তৈরিতে অপরিহার্য। আজকাল ছাদবাগানে টবে চাষের জন্য থাই সুইট (মিষ্টি) তেঁতুল বা বারোমাসি টক তেঁতুলের কলমের চারা অত্যন্ত জনপ্রিয়, যা খুব কম পরিচর্যাতেই ছোট ড্রামে প্রচুর ফল দেয়।
তেঁতুল (Tamarind)
-
বৈজ্ঞানিক নাম (Scientific Name): Tamarindus indica
-
ভারতের অন্যান্য আঞ্চলিক ভাষায় নাম (Other Common Names): তিনতিনি বা অম্লিকা (সংস্কৃত), ইমলি (হিন্দি), পুলি (তামিল), চিন্তাপান্ডু (তেলুগু), চিন্তাচা (মারাঠি)। ইংরেজিতে একে 'ট্যামারিন্ড' (Tamarind) বলা হয়।
-
উৎস (Origin): ক্রান্তীয় আফ্রিকা, তবে বহু প্রাচীনকাল থেকেই এটি ভারত ও বাংলাদেশে প্রাকৃতিকভাবে মানিয়ে নিয়েছে।
-
গাছের ধরন (Plant Type): এটি একটি অত্যন্ত শক্তপোক্ত, ধীরগতিতে বর্ধনশীল, বহুবর্ষজীবী (Perennial) এবং চিরসবুজ কাস্টল উদ্ভিদ। এর পাতাগুলো খুব ছোট ছোট, চিরুনির মতো জোড়ায় জোড়ায় সাজানো থাকে। সাধারণ তেঁতুল গাছ বীজ থেকে তৈরি করলে ফল আসতে ১০-১২ বছর লেগে যায় এবং গাছটি বিশাল আকার ধারণ করে। কিন্তু ছাদবাগানের জন্য সবসময় জোড় কলম (Grafted) বা গুটি কলমের চারা ব্যবহার করা উচিত। কলমের উন্নত বামন (Dwarf) জাতের চারাগুলো টবে লাগানোর ২ বছরের মধ্যেই এবং মাত্র ৪-৫ ফুট উচ্চতা থেকেই ঝাঁকে ঝাঁকে তেঁতুলের ছড়া দিতে শুরু করে। সাধারণত মে-জুন মাসে গাছে ছোট ছোট হলুদ-লালচে রঙের ফুল আসে এবং শীতের শেষে ফল পাকে।
১. মাটির মিশ্রণ (Potting Mixture)
তেঁতুল গাছ অত্যন্ত সহনশীল এবং যেকোনো মাটি, এমনকি কম উর্বর বা সামান্য ক্ষারীয় মাটিতেও সহজে বেঁচে থাকে। তবে টবে ভালো বৃদ্ধি এবং প্রচুর ফলনের জন্য পুষ্টিসমৃদ্ধ ও চমৎকার জলনিকাশী মাটি প্রয়োজন। আদর্শ মিশ্রণ:
-
বাগানের সাধারণ দোআঁশ বা বেলে-দোআঁশ মাটি: ৫০%
-
ভার্মিকম্পোস্ট বা পুরনো পচা গোবর সার: ৩০%
-
নদীর কাদা ছাড়া বালি: ২০%
-
(মাটির উর্বরতা বাড়াতে এর সাথে ২ মুঠো হাড়ের গুঁড়ো, ২ মুঠো নিম খোল এবং ১ চামচ ফাঙ্গিসাইড পাউডার খুব ভালো করে মিশিয়ে মাটি তৈরি করুন)।
-
টবের আকার: তেঁতুল গাছের কান্ড ও শিকড় বেশ শক্ত হয়। তাই এর জন্য অন্তত ১৬-১৮ ইঞ্চির বড় টব বা হাফ ড্রাম ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো।
২. পরিচর্যা নির্দেশিকা (Care Guide)
-
জল দেওয়ার নিয়ম: তেঁতুল গাছ অত্যন্ত খরা সহনশীল, অর্থাৎ মাটিতে জলের অভাব হলেও এটি সহজে মরে না। তবে টবে নিয়মিত ফলনের জন্য সঠিক পরিমাণে জল দেওয়া প্রয়োজন। টবের মাটির ওপরের স্তর শুকিয়ে গেলে তবেই জল দিন। বিশেষ নিয়ম: গাছে যখন ফুল আসবে, তখন জল দেওয়ার পরিমাণ কিছুটা কমিয়ে দিতে হবে (মাটি শুকিয়ে গেলে তবেই জল দিন)। ফুল থাকা অবস্থায় অতিরিক্ত জল দিলে ফুল ঝরে যায়। ফুল থেকে যখন ছোট ছোট তেঁতুলের ছড়া বা গুটি তৈরি হয়ে যাবে, তখন আবার নিয়মিত পর্যাপ্ত জল দিতে হবে।
-
সূর্যালোক: এটি একটি তীব্র সূর্যপ্রেমী ক্রান্তীয় গাছ। ভালো বৃদ্ধি এবং ফলের সঠিক পুষ্টির জন্য দিনে অন্তত ৬-৭ ঘণ্টা সরাসরি কড়া ও তীব্র সূর্যালোক পায় এমন খোলামেলা জায়গায় টবটি রাখুন। ছায়ায় রাখলে গাছ ঝাঁকড়া হবে কিন্তু ফল আসবে না।
-
আকার নিয়ন্ত্রণ ও বনসাই (Pruning & Bonsai): তেঁতুল গাছ খুব সুন্দর ঝোপালো আকার নেয় এবং এর ছোট ছোট পাতার জন্য এটি বনসাই (Bonsai) করার জন্য বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত জনপ্রিয়। ছাদবাগানে সাধারণ ফল গাছ হিসেবে রাখলেও প্রতি বছর ফল তুলে নেওয়ার পর (শীতের শেষে) গাছের অগ্রভাগের লম্বা ডালপালা ছেঁটে (Pruning) গাছটিকে ছোট ও ঝোপালো আকারে রাখুন।
-
সার প্রয়োগ: বছরে তিনবার (জানুয়ারি, মে এবং সেপ্টেম্বর মাসে) টবের চারপাশের মাটি সামান্য খুঁড়ে কম্পোস্ট সার, হাড়ের গুঁড়ো এবং সামান্য পটাশ সার দিন। ফল বড় হওয়ার সময় প্রতি ২০-২৫ দিন অন্তর পাতলা করে তৈরি করা সরষের খোল পচা তরল সার দেওয়া খুব উপকারী।
৩. সাধারণ রোগ, পোকা-মাকড় ও প্রতিকার (Diseases, Pests & Cure)
-
সমস্যা:
-
শুঁড় পোকা বা ফল ছিদ্রকারী পোকা (Mealybugs & Fruit Borers): তেঁতুলের ছড়া যখন বড় ও নরম থাকে, তখন কিছু পোকা ফলের খোসা ফুটো করে ভেতরে ঢুকে শাঁস খেয়ে নষ্ট করে ফেলে। এছাড়া কচি ডালে মিলিবাগ বসতে পারে।
-
পাউডারি মিলডিউ (Powdery Mildew): ছত্রাকের আক্রমণে পাতা ও কচি ফলের ওপর সাদা পাউডারের মতো আস্তরণ পড়ে, যা পাতা ঝরিয়ে দেয়।
-
-
প্রতিকার:
-
সাধারণ পোকা-মাকড়ের উপদ্বব কমাতে ১০-১২ দিন অন্তর ১ লিটার জলে ২ মিলি নিম তেল এবং কয়েক ফোঁটা লিকুইড সোপ মিশিয়ে পুরো গাছে ভালো করে স্প্রে করুন।
-
ছত্রাকের আক্রমণ বা পাউডারি মিলডিউ এড়াতে ১ লিটার জলে ২ গ্রাম ফাঙ্গিসাইড (যেমন: সাফ) গুলে গাছে স্প্রে করুন এবং টবের নিচে যেন জল জমে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন।
-




