Thai King Jamun / KG 10 Jamun / কিং জাম / কেজি ১০ জাম

Jamun / Java Plum

Showing all 2 results

কালোজাম বা জাম (Jamun / Java Plum) গাছের সহজ এবং সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো। জাম গ্রীষ্মকালের অত্যন্ত সুস্বাদু, কষযুক্ত মিষ্টি স্বাদের এবং আয়রন সমৃদ্ধ একটি ফল। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে বলে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অত্যন্ত উপকারী। আজকাল ছাদবাগানে টবে বা ড্রামে চাষের জন্য থাই বারোমাসি জাম, সিডলেস (বীজহীন) জাম বা খাটো জাতের কলমের চারা দারুণ জনপ্রিয়।

কালোজাম বা জাম (Jamun / Java Plum)

  • বৈজ্ঞানিক নাম (Scientific Name): Syzygium cumini

  • ভারতের অন্যান্য আঞ্চলিক ভাষায় নাম (Other Common Names): জম্বু (সংস্কৃত), জামুন (হিন্দি), নাভাল পাজহাম (তামিল), নেরাডু পান্ডু (তেলুগু), জাম্বুল (مারাঠি)। ইংরেজিতে একে 'জাভা প্লাম' (Java Plum), 'ব্ল্যাক প্লাম' (Black Plum) বা 'জামুন' (Jamun) বলা হয়।

  • উৎস (Origin): ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা এবং দক্ষিণ এশিয়ার ক্রান্তীয় অঞ্চল।

  • গাছের ধরন (Plant Type): এটি একটি মাঝারি থেকে বিশাল আকারের, অত্যন্ত দ্রুত বর্ধনশীল, বহুবর্ষজীবী (Perennial) এবং চিরসবুজ কাস্টল উদ্ভিদ। এর পাতাগুলো চওড়া, মসৃণ, চামড়ার মতো শক্ত এবং গাঢ় সবুজ রঙের হয়। সাধারণ জাম গাছ বীজ থেকে তৈরি করলে ফল আসতে ৮-১০ বছর সময় লেগে যায় এবং গাছটি বিশাল আকার ধারণ করে, যা ছাদের জন্য একদমই উপযুক্ত নয়। তাই ছাদবাগানের জন্য সবসময় গুটি কলম (Air Layering) বা জোড় কলমের (Grafted) উন্নত বামন জাতের চারা ব্যবহার করা উচিত। কলমের চারা ২-৩ বছরের মধ্যেই এবং মাত্র ৪-৫ ফুট উচ্চতা থেকেই থোকা থোকা জাম দিতে শুরু করে। সাধারণত বসন্তের শেষে (মার্চ-এপ্রিল) গাছে হালকা সবুজ-সাদা রঙের সুগন্ধি ফুল আসে এবং গ্রীষ্মের মাঝামাঝি বা বর্ষার শুরুতে (জুন-জুলাই) ফল পাকে।

১. মাটির মিশ্রণ (Potting Mixture)

জাম গাছ অত্যন্ত শক্তপোক্ত এবং যেকোনো ধরনের মাটিতে সহজে মানিয়ে নিতে পারে। তবে টবে ভালো ফলন ও মিষ্টি ফলের জন্য পুষ্টিসমৃদ্ধ ও চমৎকার জলনিকাশী দোআঁশ মাটি প্রয়োজন। এটি সামান্য অম্লীয় মাটি পছন্দ করে। আদর্শ মিশ্রণ:

  • বাগানের সাধারণ দোআঁশ মাটি: ৫০%

  • ভার্মিকম্পোস্ট বা পুরনো পচা গোবর সার: ৩০%

  • নদীর কাদার ভাগ ছাড়া বালি: ২০%

  • (মাটির গুনাগুণ বাড়াতে এর সাথে ২ মুঠো হাড়ের গুঁড়ো, ২ মুঠো নিম খোল এবং ১ চামচ ফাঙ্গিসাইড পাউডার খুব ভালো করে মিশিয়ে মাটি তৈরি করুন)।

  • টবের আকার: জাম গাছের শিকড় খুব দ্রুত এবং গভীরভাবে ছড়ায়। তাই শুরুতে ১৪-১৬ ইঞ্চির টব এবং গাছ একটু বড় হলে অন্তত ১৮-২৪ ইঞ্চির বড় টব বা হাফ ড্রাম ব্যবহার করা আবশ্যক।

২. পরিচর্যা নির্দেশিকা (Care Guide)

  • জল দেওয়ার নিয়ম: জাম গাছ মাঝারি আর্দ্রতা পছন্দ করে। টবের মাটির ওপরের স্তর শুকিয়ে গেলেই ভালো করে জল দিন, যেন মাটিতে হালকা ভেজা ভাব থাকে। তবে টবের গোড়ায় জল জমে কাদা হয়ে থাকা এই গাছের শিকড় পচিয়ে দিতে পারে। विशेष নিয়ম: বসন্তের শেষে গাছে যখন ফুল আসবে, তখন জল দেওয়ার পরিমাণ কিছুটা কমিয়ে দিতে হবে (মাটি শুকিয়ে গেলে তবেই জল দিন)। ফুল থাকা অবস্থায় অতিরিক্ত জল দিলে ফুল ঝরে যায়। ফুল থেকে যখন ছোট ছোট কচি সবুজ জামের গুটি তৈরি হবে, তখন থেকে ফল পাকা পর্যন্ত আবার নিয়মিত পর্যাপ্ত জল দিতে হবে, অন্যথায় ফল কুঁকড়ে ঝরে যেতে পারে।

  • সূর্যালোক: এটি একটি তীব্র সূর্যপ্রেমী ক্রান্তীয় গাছ। প্রচুর ফুল এবং ফলের সুন্দর গাঢ় বেগুনি রঙের জন্য দিনে অন্তত ৬-৭ ঘণ্টা সরাসরি কড়া ও তীব্র সূর্যালোক পায় এমন খোলা জায়গায় টবটি রাখুন। ছায়াযুক্ত বা কম আলোযুক্ত জায়গায় রাখলে গাছে ফুল ও ফল আসবে না।

  • সার প্রয়োগ: বছরে তিনবার (জানুয়ারি, মে এবং সেপ্টেম্বর মাসে) টবের চারপাশের মাটি সামান্য খুঁড়ে কম্পোস্ট সার, হাড়ের গুঁড়ো এবং ১ চামচ পটাশ সার (ফলের মিষ্টিভাব ও আকার বাড়াতে) দিন। ফল বড় হওয়ার সময় প্রতি ১৫-২০ দিন অন্তর পাতলা করে তৈরি করা সরষের খোল পচা তরল সার বা কলার খোসা ভেজানো জল দেওয়া খুব উপকারী।

  • ডাল ছাঁটাই (Pruning): জাম গাছ প্রাকৃতিকভাবেই খুব দ্রুত লম্বা হতে চায়। তাই ছাদবাগানে গাছের আকার নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতি বছর ফল তুলে নেওয়ার পর (আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে) গাছের অগ্রভাগের লম্বা ডাল ও অপ্রয়োজনীয় ডালপালা ছেঁটে (Pruning) গাছটিকে একটি সুন্দর ঝোপালো আকারে রাখুন।

৩. সাধারণ রোগ, পোকা-মাকড় ও প্রতিকার (Diseases, Pests & Cure)

  • সমস্যা:

    • ফল মাছি বা শুঁয়োপোকা (Fruit Fly & Caterpillars): জাম যখন পাকতে শুরু করে এবং নরম হয়, তখন ফল মাছি ফলের গায়ে ডিম পাড়ে, যার ফলে ফল ভেতরে পোকা হয়ে পচে যায়। এছাড়া কচি পাতা বেরোনোর সময় শুঁয়োপোকা পাতা খেয়ে নষ্ট করে।

    • পাখি ও কাঠবিড়ালি: জাম পাকা শুরু হলে এর গাঢ় রঙ ও মিষ্টি স্বাদের আকর্ষণে পাখি এবং কাঠবিড়ালির উপদ্রব খুব বেড়ে যায়।

    • পাতার দাগ রোগ (Leaf Spot): ছত্রাকের আক্রমণে বর্ষাকালে পাতার গায়ে ছোট ছোট বাদামী বা কালো দাগ পড়ে এবং পাতা হলুদ হয়ে ঝরে যায়।

  • প্রতিকার:

    • ফল মাছি ও পাখির হাত থেকে ফল বাঁচাতে, জামের থোকাগুলো বড় হতে শুরু করলেই পুরো গাছটি মশারির মতো হালকা নেট দিয়ে ঢেকে দিতে পারেন। এটি ছাদবাগানের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি।

    • পোকা-মাকড়ের উপদ্বব কমাতে ১০-১২ দিন অন্তর ১ লিটার জলে ২ মিলি নিম তেল এবং কয়েক ফোঁটা লিকুইড সোপ মিশিয়ে পুরো গাছে ভালো করে স্প্রে করুন।

    • ছত্রাকের আক্রমণ এড়াতে ১ লিটার জলে ২ গ্রাম ফাঙ্গিসাইড (যেমন: সাফ) গুলে গাছে স্প্রে করুন।