Agniswar Red Banana / অগ্নিশ্বর লাল কলা

Banana

Showing all 2 results

কলা (Banana) গাছের সহজ এবং সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো। কলা অত্যন্ত পুষ্টিকর, এনার্জি সমৃদ্ধ এবং বারোমাসি একটি ফল। সনাতন ধর্মে পূজা-পার্বণে কলার ছড়া এবং এর পাতা অত্যন্ত পবিত্র উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আজকাল ছাদবাগানে টবে বা ড্রামে চাষের জন্য জি-নাইন (G-9), বামন জাতের কাঁঠালি বা সিঙ্গাপুরি কলার টিস্যু কালচারের চারা দারুণ জনপ্রিয়।

কলা গাছ (Banana)

  • বৈজ্ঞানিক নাম (Scientific Name): Musa acuminata বা Musa balbisiana

  • ভারতের অন্যান্য আঞ্চলিক ভাষায় নাম (Other Common Names): কদলী (সংস্কৃত), केला (হিন্দি), ভাল্লাই মারাম (তামিল), অরাতি আন্টু (তেলুগু)। ইংরেজিতে একে 'বানানা' (Banana) বলা হয়।

  • উৎস (Origin): ইন্দো-মালয়েশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ক্রান্তীয় অঞ্চল (তবে প্রাচীনকাল থেকেই ভারতে এর ব্যাপক চাষ রয়েছে)।

  • গাছের ধরন (Plant Type): একটি মজার বিষয় হলো, কলা গাছ দেখতে বিশাল হলেও এটি কিন্তু কোনো 'বৃক্ষ' বা কাঠজাতীয় গাছ নয়; এটি পৃথিবীর বৃহত্তম তৃণ বা ভেষজ উদ্ভিদ (Herbaceous Plant)। এর কান্ডটি আসলে পাতাগুলোর গোড়া শক্তভাবে জড়িয়ে তৈরি হওয়া একটি ছদ্ম-কান্ড (Pseudostem)। ছাদবাগানের জন্য সাধারণ লম্বা জাতের কলা গাছ একদমই অনুপযুক্ত। ছাদের জন্য সবসময় জি-নাইন (G-9) বা ডোয়ার্ফ ক্যাভেন্ডিশ (Dwarf Cavendish)-এর মতো বামন জাতের টিস্যু কালচারের চারা ব্যবহার করা উচিত, যা মাত্র ৪-৫ ফুট উচ্চতাতেই চমৎকার কলার কাঁদি বা ছড়া দেয়। গাছ লাগানোর ১০-১২ মাসের মধ্যে গাছে মোচা আসে।

১. মাটির মিশ্রণ (Potting Mixture)

কলা গাছ প্রচুর পুষ্টি এবং জল পছন্দ করলেও টবের গোড়ায় জল জমে কাদা হয়ে থাকা একদম সহ্য করতে পারে না। এর জন্য হালকা ও উর্বর মাটি প্রয়োজন। আদর্শ মিশ্রণ:

  • বাগানের সাধারণ দোআঁশ মাটি: ৪০%

  • ভার্মিকম্পোস্ট বা পুরনো পচা গোবর সার: ৪০% (কলা গাছ জৈব সার খুব বেশি পছন্দ করে)

  • নদীর কাদা ছাড়া বালি: ২০%

  • (এর সাথে ২ মুঠো হাড়ের গুঁড়ো, ২ মুঠো নিম খোল এবং ১ চামচ ফাঙ্গিসাইড পাউডার খুব ভালো করে মিশিয়ে মাটি তৈরি করুন)।

  • টবের আকার: কলা গাছের শিকড় ও কন্দের বৃদ্ধির জন্য অন্তত ২০-২৪ ইঞ্চির বড় টব বা বড় হাফ ড্রাম ব্যবহার করা আবশ্যক।

২. পরিচর্যা নির্দেশিকা (Care Guide)

  • জল দেওয়ার নিয়ম: কলা গাছের বড় বড় পাতার কারণে এর বাষ্পীভবন দ্রুত হয়, তাই এর নিয়মিত জলের প্রয়োজন। টবের মাটির ওপরের স্তর শুকিয়ে গেলেই ভালো করে জল দিন, যাতে মাটি সবসময় হালকা আর্দ্র বা ভেজা থাকে। তবে খেয়াল রাখবেন, ড্রেনেজ হোল যেন পরিষ্কার থাকে, জল জমে কাদা হয়ে থাকলে ভেতরের কন্দ (Rhizome) পচে গাছটি মারা যাবে।

  • সূর্যালোক: এটি একটি তীব্র সূর্যপ্রেমী ক্রান্তীয় গাছ। ভালো বৃদ্ধি এবং কলার পুষ্টির জন্য দিনে অন্তত ৬-৭ ঘণ্টা সরাসরি কড়া ও তীব্র সূর্যালোক পায় এমন জায়গায় ড্রামটি রাখুন। পর্যাপ্ত রোদ না পেলে গাছ দুর্বল ও লম্বা হয়ে যাবে কিন্তু মোচা আসবে না।

  • তেউড় বা সাকার (Sucker) নিয়ন্ত্রণ: কলা গাছের গোড়া থেকে প্রতিনিয়ত ছোট ছোট নতুন চারা (সাকার বা তেউড়) বের হয়। টবের গাছে প্রধান গাছটিতে ফল না আসা পর্যন্ত গোড়ার এই নতুন চারাগুলো ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে ফেলতে হবে। অন্যথায় এগুলো মূল গাছের সব পুষ্টি শুষে নেবে এবং ফলন ভালো হবে না। ফল পাকার পর মূল গাছটি কেটে ফেলে যেকোনো একটি সুস্থ সাকারকে পরবর্তী গাছের জন্য বড় হতে দিতে পারেন।

  • সার প্রয়োগ: কলা গাছ অত্যন্ত ভারী খাদক (Heavy feeder)। প্রতি ২০ দিন অন্তর টবের চারপাশে কম্পোস্ট সার, ২ চামচ হাড়ের গুঁড়ো এবং ১ চামচ পটাশ সার (কলার আকার ও মিষ্টিভাব বাড়াতে) দিন। এছাড়া প্রতি ১০-১২ দিন অন্তর কলার খোসা ভেজানো জল বা পাতলা সরষের খোল পচা তরল সার দেওয়া এই গাছের জন্য অমৃতের মতো কাজ করে।

৩. সাধারণ রোগ, পোকা-মাকড় ও প্রতিকার (Diseases, Pests & Cure)

  • সমস্যা:

    • পানামা রোগ (Panama Wilt): এটি কলা গাছের একটি মারাত্মক মাটিবাহিত ছত্রাকজনিত রোগ। এর আক্রমণে নিচের পাতাগুলো প্রথমে হলুদ হয়ে বোঁটার কাছে ভেঙে ঝুলে পড়ে এবং আস্তে আস্তে পুরো গাছটি শুকিয়ে মারা যায়।

    • বানচি টপ (Bunchy Top): এটি একটি ভাইরাসজনিত রোগ যা জাব পোকার (Aphids) মাধ্যমে ছড়ায়। এর ফলে গাছের মাথায় পাতাগুলো জটলা পাকিয়ে ছোট হয়ে যায় এবং মোচা আসে না।

    • কন্দ বা রাইজোম বোরর (Rhizome Weevil): এক ধরণের পোকার কীড়া মাটির নিচে কলার কন্দ ফুটো করে ভেতরে ঢুকে পড়ে, ফলে গাছ পুষ্টি পায় না এবং দুর্বল হয়ে পড়ে।

  • প্রতিকার:

    • পানামা রোগ ও কন্দ পচা এড়াতে টবে জল জমতে দেবেন না এবং প্রতি মাসে একবার ১ লিটার জলে ২ গ্রাম কপার অক্সিক্লোরাইড বা ভালো ফাঙ্গিসাইড (যেমন: সাফ) গুলে গোড়ার মাটিতে দিন।

    • বানচি টপ এবং পোকার আক্রমণ রোধ করতে ১৫ দিন অন্তর ১ লিটার জলে ২ মিলি নিম তেল এবং কয়েক ফোঁটা লিকুইড সোপ মিশিয়ে পুরো গাছে ভালো করে স্প্রে করুন।