
Gloriosa
Showing all 4 results
-


Gloriosa superba ‘Carsonii’ / গ্লোরিওসা ‘কার্সনই’ / ফ্লেম লিলি / উলটচণ্ডাল
-


Gloriosa superba ‘Greeneae’ / গ্লোরিওসা সুপারবা ‘গ্রিনই’ / ফ্লেম লিলি / উলটচণ্ডাল
-


Gloriosa superba ‘Lutea’ / গ্লোরিওসা সুপারবা ‘লুটিয়া’ / ফ্লেম লিলি / উলটচণ্ডাল
-


Gloriosa superba ‘Rothschildiana’ / গ্লোরিওসা সুপারবা ‘রথচাইল্ডিয়ানা’ / ফ্লেম লিলি / উলটচণ্ডাল
গ্লোরিওসা (Gloriosa — Gloriosa superba), যা আমাদের বাঙালি প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে অত্যন্ত পরিচিত ও আবেগ জড়ানো "উলটচণ্ডাল", "অগ্নিশিখা" বা "কলিহারী" নামে সমাদৃত, 'কোলচিকাসি' (Colchicaceae) বা লিলি পরিবারের অন্তর্গত এক অত্যন্ত চমত্কার, বিরল এবং বহুবর্ষজীবী কন্দযুক্ত লতানো উদ্ভিদ। এর আদি বাসস্থান মূলত এশিয়া (ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা) এবং আফ্রিকার ক্রান্তীয় অঞ্চল।
এর ইংরেজি নাম "ফ্লেম লিলি" (Flame Lily) বা "গ্লোরি লিলি"। এর কারণ—এর ফুলের পাপড়িগুলো ফোটার পর প্রাকৃতিকভাবেই উল্টো দিকে কুঁকড়ে সোজা আকাশের দিকে মুখ করে থাকে, যা দেখতে অবিকল জ্বলন্ত আগুনের শিখার মতো লাগে।
গ্লোরিওসা জেনাসের অধীনে মূল প্রজাতি একটিই হলেও, বিশ্বজুড়ে এর রঙ, পাপড়ির ঢেউ এবং আকারের ওপর ভিত্তি করে বেশ কয়েকটি দুর্দান্ত এবং লাক্সারি ভ্যারিয়েন্ট (Variants) বা কাল্টিভার নার্সারিতে পাওয়া যায়:
গ্লোরিওসার প্রধান এবং জনপ্রিয় ভ্যারিয়েন্ট (Variants)
১. গ্লোরিওসা সুপারবা 'রথচাইল্ডিয়ানা' (Gloriosa superba 'Rothschildiana')
এটি বিশ্বজুড়ে গ্লোরিওসা পরিবারের সবচেয়ে আইকনিক, রাজকীয় এবং সিগনেচার ভ্যারিয়েন্ট।
-
বৈশিষ্ট্য: এর ফুলগুলো আকারে বেশ বড় এবং পাপড়ির কিনারগুলো চমত্কার ঢেউখেলানো বা কুঁচকানো (Wavy margins) হয়।
-
রঙের জাদুকর: এর ফুলটি ফোটার পর পাপড়ির মাঝখানটা হয় গাঢ় টকটকে লাল বা ক্রিমসন-রেড এবং কিনার ও গোঁড়ার দিকটা থাকে উজ্জ্বল সোনা-হলুদ রঙের। ফুল যত বুড়ো হয়, হলুদাভ ভাব কেটে গিয়ে পুরো ফুলটিই গাঢ় সিঁদুরে লাল রূপ নেয়।
২. গ্লোরিওসা সুপারবা 'লুটিয়া' (Gloriosa superba 'Lutea')
যারা বাগানে লাক্সারি গোল্ডেন বা হলুদ থিম পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটি একটি পরম রত্ন। এটি অত্যন্ত বিরল ও মূল্যবান একটি জাত।
-
বৈশিষ্ট্য: এই জাতটিতে লালের কোনো ছোঁয়া থাকে না। এর পুরো ফুলটি—পাপড়ি থেকে শুরু করে পুংকেশর পর্যন্ত—সবটাই হয় এক নিখুঁত, চোখ ধাঁধানো খাঁটি লেবু-হলুদ বা সোনা-হলুদ (Pure Lemon-Yellow) রঙের। সবুজ পাতার ব্যাকগ্রাউন্ডে এই হলুদ আগুনের শিখা অপার্থিব দেখায়।
৩. গ্লোরিওসা 'কার্সনই' (Gloriosa 'Carsonii')
এটি গ্লোরিওসার এক অত্যন্ত মায়াবী ও ক্লাসিক ডার্ক ভ্যারিয়েন্ট।
-
বৈশিষ্ট্য: এর ফুলের পাপড়িগুলো রথচাইল্ডিয়ানার মতো অত চওড়া বা ছড়ানো হয় না, বরং কিছুটা সরু ও সুচালো হয়।
-
রঙ: এর রঙ প্রাকৃতিকভাবেই গাঢ় চকলেট-বাদামী, খয়েরী বা কালচে-বেগুনি (Deep Purple-Brown) হয়, যার কিনারায় হালকা হলুদের বর্ডার উঁকি মারে। বাগানে একটি ড্রামাটিক লুক আনার জন্য এটি সেরা।
৪. গ্লোরিওসা সুপারবা 'গ্রিনই' (Gloriosa superba 'Greeneae')
এটি গ্লোরিওসা সংগ্রাহকদের কাছে এক অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও ইউনিক জাত।
-
বৈশিষ্ট্য: এর ফুলগুলো প্রথম অবস্থায় সম্পূর্ণ কচি-সবুজ বা হলুদাভ-সবুজ রঙের হয়, যা পাতার রঙের সাথে মিশে থাকে। ফুল পরিপক্ক হলে তা হালকা হলুদাভ-কমলা রঙে রূপ নেয়।
প্রধান বৈশিষ্ট্য ও বৃদ্ধির ধরণ
-
পাতার ডগায় নখ বা আকর্ষী: এটি কোনো সাধারণ লতার মতো পেঁচিয়ে ওপরে ওঠে না। এর পাতাগুলোর শেষ প্রান্ত প্রাকৃতিকভাবেই সরু সুতোর মতো হুক বা আকর্ষীতে (Leaf-tip tendrils) রূপান্তরিত হয়, যার সাহায্যে এটি পাশের ডালপালাকে আলতো করে ছুঁয়ে ওপরে চড়ে যায়।
-
আদাকার কন্দ (Rhizomatous Tuber): মাটির নিচে এর একটি 'L' বা 'V' আকৃতির বিষাক্ত কন্দ থাকে। শীতকালে এই লতাটি পুরোপুরি শুকিয়ে মাটির নিচে ঘুমিয়ে পড়ে (Dormancy). বসন্তের শেষে বা বর্ষার শুরুতে কন্দ থেকে আবার নতুন কচি লতা গজিয়ে ওঠে।
-
সতর্কতা (Toxicity Warning): মনে রাখা জরুরি, উলটচণ্ডাল বা ফ্লেম লিলির পুরো গাছ—বিশেষ করে এর মাটির নিচের কন্দটি অত্যন্ত বিষাক্ত (Highly Toxic)। এতে 'কোলচিসিন' নামক শক্তিশালী অ্যালকালয়েড থাকে। তাই বাড়িতে পোষ্য বিড়াল-কুকুর বা ছোট শিশু থাকলে এটি তাদের নাগালের বাইরে রাখা উচিত এবং গ্লাভস পরে কন্দ প্রতিস্থাপন করা ভালো।
ছাদবাগানে টবে পরিচর্যা নির্দেশিকা (Care Guide for Pots)
১. মাটির মিশ্রণ ও টব নির্বাচন
এর কন্দ অতিরিক্ত জল বা কাদা-মাটি একবিন্দু সহ্য করতে পারে না, দ্রুত পচে যায়। এর জন্য মাটির স্পঞ্জি ভাব ও দ্রুত জলনিকাশী ব্যবস্থা আবশ্যক।
-
আদর্শ মিশ্রণ: ৫০% সাধারণ বেলে-দোআঁশ মাটি, ৩০% ভার্মিকম্পোস্ট এবং ২০% কোকোপিট বা নদীর সাদা বালি।
-
টব রোপণ: এর লম্বা কন্দটিকে টবের মাটিতে খাড়া করে নয়, বরং মাটির ২ ইঞ্চি গভীরে আড়াআড়ি বা সমান্তরালভাবে (Horizontally) শুইয়ে রোপণ করতে হবে। এর জন্য ১০ থেকে ১২ ইঞ্চির চওড়া টব পারফেক্ট।
২. জল ও সূর্যালোক নিয়ন্ত্রণ
-
সূর্যালোক: এরা দৈনিক ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা সকালের বা বিকালের মিষ্টি রোদ সবচেয়ে বেশি পছন্দ করে। উজ্জ্বল আলোযুক্ত আংশিক ছায়া বা সেমি-শেড এর জন্য আদর্শ।
-
জল: বর্ষাকালে যখন গাছটি হুহু করে বাড়ে, তখন মাটি যেন হালকা আর্দ্র বা নরম থাকে। শীতকালে যখন লতা শুকিয়ে যাবে, তখন টবে জল দেওয়া একদম বন্ধ করে দিতে হবে, নয়তো কন্দ পচে যাবে। পরবর্তী বর্ষায় জল পেলে কন্দ থেকে আবার চারা বের হবে।
