
Custard Apple / Sugar Apple
Showing all 3 results
-


Balanagar Sugar Apple / Custard Apple / Sitaphal | বালানগর আতা / বালানগর সুগার অ্যাপেল
-


NMK-01 Golden Custard Apple / Sugar Apple | এনএমকে-০১ গোল্ডেন আতা
-


Red Sitaphal / Red Sugar Apple | লাল আতা / রেড সীতাফল
আতা বা শরিফা (Custard Apple) গাছের সহজ এবং সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো। আতা অত্যন্ত মিষ্টি, সুস্বাদু এবং ক্যালশিয়াম, আয়রন ও ফাইবার সমৃদ্ধ একটি ফল। ছাদবাগানে টবে বা ড্রামে চাষের জন্য এর হাইব্রিড বা কলমের চারা (যেমন: থাই গোল্ডেন আতা, লাল আতা বা বালানগর জাত) দারুণ উপযোগী এবং খুব ছোট অবস্থাতেই প্রচুর ফল দেয়।
আতা বা শরিফা (Custard Apple / Sugar Apple)
-
বৈজ্ঞানিক নাম (Scientific Name): Annona squamosa
-
ভারতের অন্যান্য আঞ্চলিক ভাষায় নাম (Other Common Names): সীতাফল / শরিফা (হিন্দি), সীতাপ্পাঝাম (তামিল), সীতা পান্ডু (তেলুগু), সীতাকলাই (কন্নড়)। ইংরেজিতে একে 'কাস্টার্ড অ্যাপেল' (Custard Apple) বা 'সুগার অ্যাপেল' (Sugar Apple) বলা হয়।
-
উৎস (Origin): আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের ক্রান্তীয় এলাকা (তবে বহু বছর আগে ওলন্দাজদের মাধ্যমে এটি ভারতে আসে এবং এখন এদেশীয় ফলের মতোই মানিয়ে নিয়েছে)।
-
গাছের ধরন (Plant Type): এটি একটি ছোট ও মাঝারি আকারের, বহুবর্ষজীবী (Perennial) এবং আধা-পর্ণমোচী (Semi-deciduous) কাস্টল উদ্ভিদ। এর পাতাগুলো লম্বাটে এবং গাঢ় সবুজ রঙের হয়। ছাদবাগানের জন্য বীজ থেকে তৈরি গাছ একদমই উপযুক্ত নয়, কারণ তাতে ফল আসতে অনেক সময় লাগে। ছাদের জন্য সবসময় চোখ কলম বা জোড় কলমের (Grafted) চারা ব্যবহার করা উচিত, যা টবে লাগানোর ১ বছরের মধ্যে এবং মাত্র ৩-৪ ফুট উচ্চতা থেকেই ফল দেওয়া শুরু করে। সাধারণত মে-জুন মাসে গাছে হালকা সবুজ রঙের সুগন্ধি ফুল আসে এবং শরৎ বা শীতের শুরুতে ফল পাকে।
১. মাটির মিশ্রণ (Potting Mixture)
আতা গাছ খুব শক্তপোক্ত এবং যেকোনো মাটিতে, এমনকি পাথুরে বা কম উর্বর মাটিতেও বেঁচে থাকতে পারে। তবে টবে ভালো ফলনের জন্য হালকা ও চমৎকার জলনিকাশী মাটি প্রয়োজন। আদর্শ মিশ্রণ:
-
বাগানের সাধারণ দোআঁশ মাটি: ৫০%
-
ভার্মিকম্পোস্ট বা পুরনো গোবর সার: ৩০%
-
নদীর কাদা ছাড়া বালি: ২০% (জল দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য)
-
(মাটির পুষ্টি বাড়াতে এর সাথে ২ মুঠো হাড়ের গুঁড়ো, ২ মুঠো নিম খোল এবং ১ চামচ ফাঙ্গিসাইড পাউডার ভালো করে মিশিয়ে নেবেন)।
-
টবের আকার: আতা গাছের শিকড় খুব বেশি গভীরে যায় না, তবে ফলনের ওজনকে সাপোর্ট দেওয়ার জন্য শুরুতে ১৪-১৬ ইঞ্চির টব এবং গাছ বড় হলে ১৮-২৪ ইঞ্চির ড্রাম ব্যবহার করা ভালো।
২. পরিচর্যা নির্দেশিকা (Care Guide)
-
জল দেওয়ার নিয়ম: আতা গাছ বেশ খরা সহনশীল, তবে টবের মাটিতে নিয়মিত জল প্রয়োজন। মাটির ওপরের স্তর শুকিয়ে গেলেই জল দিন। বিশেষ নিয়ম: গাছে যখন ফুল (হালকা সবুজ রঙের উল্টানো কলির মতো) আসবে, তখন জল দেওয়ার পরিমাণ কিছুটা কমিয়ে দিতে হবে (মাটি শুকিয়ে গেলে তবেই জল দিন)। ফুল থাকা অবস্থায় অতিরিক্ত জল দিলে বা মাটি একদম শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেলে ফুল ও কচি গুটি ঝরে যায়। ফল যখন মার্বেল আকৃতির হয়ে যাবে, তখন নিয়মিত পর্যাপ্ত জল দিতে হবে। শীতকালে যখন পাতা ঝরে যাবে, তখন জল দেওয়া অনেক কমিয়ে দিন।
-
সূর্যালোক: এটি একটি সম্পূর্ণ সূর্যপ্রেমী ক্রান্তীয় গাছ। ভালো বৃদ্ধি এবং ফলের মিষ্টিভাব বাড়াতে দিনে অন্তত ৫-৬ ঘণ্টা সরাসরি কড়া ও তীব্র সূর্যালোক পায় এমন জায়গায় টবটি রাখুন। ছায়ায় রাখলে ফুল ঝরে যাবে এবং ফল ধরবে না।
-
হস্ত-পরাগায়ন বা হ্যান্ড পলিনেশন (Hand Pollination - বিশেষ টিপস): টবে আতা গাছের ফুল ঝরে যাওয়ার একটি বড় কারণ হলো পরাগায়নের অভাব। আতা ফুলের স্ত্রী অংশ সকালে এবং পুরুষ অংশ বিকেলের দিকে সক্রিয় হয়। তাই বিকেলের দিকে ফুল থেকে একটি নরম তুলির (Paint Brush) সাহায্যে পরাগরেণু সংগ্রহ করে কচি ফুলের ভেতরের অংশে হালকা করে ছুঁইয়ে দিলে (হস্ত-পরাগায়ন) প্রতিটি ফুল থেকে ১০০% ফল সেট হয়।
-
সার প্রয়োগ: বছরে তিনবার (জানুয়ারি, মে এবং সেপ্টেম্বর মাসে) টবের চারপাশের মাটি সামান্য খুঁড়ে কম্পোস্ট সার, হাড়ের গুঁড়ো এবং সামান্য পটাশ সার দিন। ফল বড় হওয়ার সময় প্রতি ১৫-২০ দিন অন্তর পাতলা করে তৈরি করা সরষের খোল পচা তরল সার বা কলার খোসা ভেজানো জল দেওয়া খুব উপকারী।
৩. সাধারণ রোগ, পোকা-মাকড় ও প্রতিকার (Diseases, Pests & Cure)
-
সমস্যা:
-
মিলিবাগ বা ছাতরা পোকা (Mealybugs): এটি আতা গাছের সবচেয়ে বড় শত্রু। আতা ফলের গায়ের খাঁজে খাঁজে এবং ফলের বোঁটায় সাদা তুলোর মতো পোকা জমে রস চুষে খায়। এর ফলে ফল কালো হয়ে শুকিয়ে যায়।
-
ফল পচা রোগ বা অ্যানথ্রাকনোজ (Anthracnose): ছত্রাকের আক্রমণে কচি আতা ফলগুলো কালো বা বাদামী হয়ে শক্ত হয়ে যায় এবং পাকার আগেই গাছ থেকে ঝরে পড়ে।
-
-
প্রতিকার:
-
মিলিবাগের উপদ্রব কমাতে প্রাথমিক অবস্থায় তীব্র গতির জলের স্প্রে দিয়ে পোকা ধুয়ে ফেলুন। অথবা ১০-১২ দিন অন্তর ১ লিটার জলে ২ মিলি নিম তেল এবং কয়েক ফোঁটা লিকুইড সোপ মিশিয়ে ফলের খাঁজে খাঁজে ভালো করে স্প্রে করুন।
-
ফল পচা রোগ বা ছত্রাকের আক্রমণ এড়াতে ফুল আসার পর এবং ফলের গুটি ছোট থাকা অবস্থায় ১০-১২ দিন অন্তর ১ লিটার জলে ২ গ্রাম ফাঙ্গিসাইড (যেমন: সাফ বা কপার অক্সিক্লোরাইড) গুলে পুরো গাছে ও ফলে ভালো করে স্প্রে করুন।
-
