
Litchi
Showing all 4 results
-


Bedana Litchi / বেদানা লিচু (Seedless)
-


Bombai Litchi / বোম্বাই লিচু
-


China 3 Litchi / চায়না-৩ লিচু
-


Shahi Muzaffarpur Litchi / শাহী মুজাফফরপুর লিচু
লিচু (Litchi / Lychee) গাছের সহজ এবং সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো। লিচু গ্রীষ্মকালের অত্যন্ত সুস্বাদু, রসালো এবং জনপ্রিয় একটি ফল। আজকাল ছাদবাগানে টবে বা ড্রামে চাষের জন্য কলমের (বিশেষ করে গুটি কলম বা Air Layering) খাটো জাতের চারা (যেমন: বোম্বাই, চায়না-৩, মুজাফফরপুরী) বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
লিচু (Litchi)
-
বৈজ্ঞানিক নাম (Scientific Name): Litchi chinensis
-
ভারতের অন্যান্য আঞ্চলিক ভাষায় নাম (Other Common Names): লিচি (হিন্দি ও মারাঠি), ইলাইচি (কিছু দক্ষিণী অঞ্চলে)। ইংরেজিতে একে 'লাইচি' বা 'লিচি' (Lychee / Litchi) বলা হয়।
-
উৎস (Origin): দক্ষিণ চীন (তবে বহু শতাব্দী ধরে ভারত ও বাংলাদেশে এটি অন্যতম প্রধান গ্রীষ্মকালীন ফল হিসেবে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে)।
-
গাছের ধরন (Plant Type): এটি একটি দীর্ঘজীবী, চিরসবুজ এবং মাঝারি থেকে বড় আকারের বৃক্ষজাতীয় উদ্ভিদ। এর পাতাগুলো গাঢ় সবুজ ও বেশ চকচকে হয়। ছাদবাগানের জন্য বীজ থেকে তৈরি গাছ একদমই উপযুক্ত নয়, কারণ তাতে ফল আসতে অনেক বছর সময় লাগে। ছাদের জন্য সবসময় গুটি কলমের (Grafted / Layered) চারা ব্যবহার করা হয়, যা ৩-৪ বছরের মধ্যেই ফল দিতে শুরু করে। সাধারণত শীতের শেষে (জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি) গাছে মুকুল আসে এবং মে-জুন মাসে ফল পাকে।
১. মাটির মিশ্রণ (Potting Mixture)
লিচু গাছ হালকা অম্লীয় (Acidic) এবং পুষ্টিসমৃদ্ধ দোআঁশ মাটি পছন্দ করে। টবের জলনিকাশ ব্যবস্থা নিখুঁত হওয়া জরুরি। আদর্শ মিশ্রণ:
-
বাগানের পুরনো দোআঁশ মাটি: ৫০%
-
ভার্মিকম্পোস্ট বা পচা গোবর সার: ২৫%
-
নদীর সাদা বা লাল বালি: ২৫% (জলনিকাশ ভালো রাখার জন্য)
-
(এর সাথে ২ মুঠো হাড়ের গুঁড়ো, ২ মুঠো নিম খোল এবং ১ চামচ ফাঙ্গিসাইড পাউডার ভালো করে মিশিয়ে নেবেন)।
-
টবের আকার: লিচু গাছের শিকড় ছড়ানোর জন্য অন্তত ১৮ থেকে ২৪ ইঞ্চির বড় টব বা হাফ ড্রাম ব্যবহার করা আবশ্যক।
২. পরিচর্যা নির্দেশিকা (Care Guide)
-
জল দেওয়ার নিয়ম: লিচু গাছ মাটিতে সবসময় হালকা আর্দ্রতা পছন্দ করে, তবে জল জমে থাকা একদম সহ্য করতে পারে না। টবের মাটির ওপরের স্তর শুকিয়ে গেলেই জল দিন। বিশেষ নিয়ম: শীতকালে (নভেম্বর-ডিসেম্বর) গাছে মুকুল আসার আগে জল দেওয়া অনেক কমিয়ে দিন। মাটি শুকিয়ে কাঠ হলে তবেই সামান্য জল দিন, এতে গাছ দ্রুত মুকুলের প্রস্তুতি নেয়। আবার গাছে যখন মুকুল চলে আসবে এবং গুটি তৈরি হবে, তখন নিয়মিত পর্যাপ্ত জল দিতে হবে। এই সময়ে জলের অভাব হলে কচি লিচু সব ঝরে যাবে।
-
সূর্যালোক: এটি একটি চরম সূর্যপ্রেমী গাছ। দিনে অন্তত ৬-৭ ঘণ্টা সরাসরি কড়া ও তীব্র সূর্যালোক পায় এমন জায়গায় টবটি রাখুন। পর্যাপ্ত রোদ না পেলে গাছের বৃদ্ধি থমকে যাবে এবং মুকুল আসবে না।
-
ফল ফেটে যাওয়া (Fruit Cracking) রোধ: গরমের সময় তীব্র রোদ এবং বাতাসে আর্দ্রতার অভাবে অনেক সময় লিচু পাকার আগেই ফেটে যায়। এটি রোধ করতে লিচুর গুটি আসার পর থেকে নিয়মিত গাছে জল দিন এবং প্রতি লিটার জলে ২ গ্রাম বোরন (Boron) পাউডার গুলে ১৫ দিন অন্তর ২-৩ বার স্প্রে করুন।
-
সার প্রয়োগ: বছরে দুইবার (একবার বর্ষার আগে জুনে এবং একবার বর্ষার পরে অক্টোবরে) টবের চারপাশের মাটি খুঁড়ে কম্পোস্ট, হাড়ের গুঁড়ো, শিং কুচি এবং সামান্য পটাশ সার দিন। মুকুল আসার পর কোনো কড়া রাসায়নিক সার দেবেন না।
৩. সাধারণ রোগ, পোকা-মাকড় ও প্রতিকার (Diseases, Pests & Cure)
-
সমস্যা:
-
লিচুর মাইট বা মাকড়সা (Litchi Mite): এটি লিচু গাছের সবচেয়ে বড় শত্রু। এর আক্রমণে পাতার নিচে মখমলের মতো বাদামী বা খয়েরি রঙের আস্তরণ তৈরি হয় এবং পাতাগুলো কুঁকড়ে চামচের মতো হয়ে যায়।
-
ফল ও কান্ড ছিদ্রকারী পোকা (Fruit/Stem Borer): এই পোকাটি কচি লিচুর বোঁটার কাছে ছিদ্র করে ভেতরে ঢুকে পড়ে, ফলে ফল নষ্ট হয়ে ঝরে যায়।
-
বাদুড় ও পাখির উপদ্রব: ফল যখন পাকতে শুরু করে এবং লাল রঙ হয়, তখন পাখি ও বাদুড় ফল খেয়ে নষ্ট করে দেয়।
-
-
প্রতিকার:
-
পাতা কুঁকড়ে যাওয়া বা মাইটের আক্রমণ রোধ করতে আক্রান্ত পাতাগুলো শুরুতেই ছাঁটাই করে পুড়িয়ে ফেলুন। এরপর গাছ নতুন পাতা ছাড়লে বা মুকুল আসার আগে ১ লিটার জলে ২ মিলি ওমাইট (Miticides) বা নিম তেল ভালো করে স্প্রে করুন।
-
ফল ছিদ্রকারী পোকা থেকে বাঁচতে গুটি আসার পর ১ লিটার জলে ২ মিলি ইমিডাক্লোপ্রিড জাতীয় কীটনাশক এবং ফাঙ্গিসাইড মিশিয়ে স্প্রে করুন (ফুল ফুটে থাকা অবস্থায় মৌমাছিদের সুরক্ষার জন্য স্প্রে করবেন না)।
-
ফল পাকার সময় পুরো গাছটি নাইলনের নেট (Net) দিয়ে ঢেকে দিলে পাখি ও বাদুড়ের হাত থেকে ফল বাঁচানো যায়।
-
