
Coconut
Showing all 4 results
-


Chowghat Orange Dwarf (COD) Coconut | চৌঘাট অরেঞ্জ ডোয়ার্ফ (COD) নারকেল
-


Gangabondam Green Dwarf (GGD) Coconut | গঙ্গাবোন্দাম গ্রিন ডোয়ার্ফ (GGD) নারকেল
-


Malayan Green Dwarf (MGD) Coconut | মালয়েন গ্রিন ডোয়ার্ফ (MGD) নারকেল
-


Malayan Orange Dwarf (MOD) Coconut | মালয়েন অরেঞ্জ ডোয়ার্ফ (MOD) নারকেল
নারকেল (Coconut) গাছের সহজ এবং সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো। সনাতন ধর্মে এবং ভারতীয় সংস্কৃতিতে নারকেলকে 'শ্রীফল' (শুভ ফল) এবং এর গাছকে 'কল্পবৃক্ষ' (যা সব চাহিদা পূরণ করে) বলা হয়। আজকাল ছাদবাগানে বা ছোট জায়গায় চাষের জন্য ভিয়েতনামি বা থাই বামন (Dwarf) জাতের নারকেল গাছ অত্যন্ত জনপ্রিয়, যা খুব দ্রুত এবং কম উচ্চতাতেই ফল দিতে শুরু করে।
নারকেল (Coconut)
-
বৈজ্ঞানিক নাম (Scientific Name): Cocos nucifera
-
ভারতের অন্যান্য আঞ্চলিক ভাষায় নাম (Other Common Names): নারিকেল (বাংলা), নারিয়াল (হিন্দি), তেন্নাই মারাম (তামিল), কোববাড়ি (তেলুগু), তেনগু (কন্নড়)। ইংরেজিতে একে 'কোকোনাট' (Coconut) বলা হয়।
-
উৎস (Origin): ইন্দো-মালয়েশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলীয় অঞ্চল (উপকূলের নোনা বাতাস ও বালি এদের সবচেয়ে প্রিয়)।
-
গাছের ধরন (Plant Type): এটি একটি দীর্ঘজীবী, একবীজপত্রী এবং পাম (Palm) জাতীয় চিরসবুজ বৃক্ষ। এর কোনো ডালপালা থাকে না, প্রধান কান্ডের মাথায় বড় বড় পালকের মতো পাতা ছড়ানো থাকে। ছাদবাগানে সাধারণ লম্বা জাতের নারকেল গাছ লাগানো সম্ভব নয়। ছাদের জন্য সবসময় হাইব্রিড বা থাই/ভিয়েতনামি বামন জাতের (Dwarf Variety) চারা ব্যবহার করা হয়। এই বামন জাতের গাছগুলো মাটির ৩-৪ ফুট উচ্চতা থেকেই ফল দেওয়া শুরু করে এবং গাছ লাগানোর ৩ থেকে ৪ বছরের মধ্যেই ফলন পাওয়া যায়।
১. মাটির মিশ্রণ (Potting Mixture)
নারকেল গাছ বালুকাযুক্ত, হালকা এবং লবণের উপস্থিতি আছে এমন মাটি পছন্দ করে। টবের গোড়ায় জল জমে থাকা এর জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। আদর্শ মিশ্রণ:
-
নদীর মোটা লাল বা সাদা বালি: ৪০% (বালি বেশি হওয়া আবশ্যক)
-
বাগানের দোআঁশ মাটি: ৩০%
-
ভার্মিকম্পোস্ট বা পুরনো পচা গোবর সার: ২০%
-
কোকোপিট: ১০%
-
(এর সাথে ৩-৪ মুঠো হাড়ের গুঁড়ো, ২ মুঠো নিম খোল এবং ১ মুঠো সাধারণ রান্নার নুন ভালো করে মিশিয়ে মাটি তৈরি করুন। নুন বা সোডিয়াম নারকেল গাছের পুষ্টি ও মিষ্টি জলের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী)।
-
টবের আকার: নারকেল গাছের শিকড় চারদিকে ছড়ায় এবং গাছটি ভারী হয়, তাই এর জন্য অন্তত ২৪ ইঞ্চির বড় হাফ ড্রাম বা সিমেন্টের বড় টব ব্যবহার করা উচিত।
২. পরিচর্যা নির্দেশিকা (Care Guide)
-
জল দেওয়ার নিয়ম: নারকেল গাছ আর্দ্রতা পছন্দ করলেও টবে জল জমে কাদা হয়ে থাকা একদম সহ্য করতে পারে না। টবের মাটির ওপরের স্তর শুকিয়ে গেলে তবেই ভালো করে জল দিন। গরমের দিনে নিয়মিত জল প্রয়োজন। তবে ড্রেনেজ হোল বা জলনিকাশ ছিদ্রটি সবসময় পরিষ্কার রাখুন যাতে বাড়তি জল সেকেন্ডের মধ্যে বের হয়ে যায়।
-
সূর্যালোক: এটি একটি তীব্র সূর্যপ্রেমী এবং আলো পছন্দ করা গাছ। দিনে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা সরাসরি কড়া ও উজ্জ্বল সূর্যালোক পায় এমন খোলামেলা জায়গায় টব বা ড্রামটি রাখুন। ছায়ায় বা আড়ালে রাখলে গাছের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যাবে এবং ফল আসবে না।
-
লবণের ব্যবহার (বিশেষ যত্ন): নারকেল গাছের ভালো বৃদ্ধির জন্য বছরে দুইবার (বর্ষার আগে এবং বর্ষার পরে) টবের মাটির চারপাশ হালকা খুঁড়ে ২ চামচ সাধারণ নুন বা রক সল্ট মাটির সাথে মিশিয়ে জল দিন। এটি গাছের কান্ড শক্ত করতে এবং ফলন বাড়াতে সাহায্য করে।
-
সার প্রয়োগ: গাছটি ভারী খাদক (Heavy feeder)। বছরে তিনবার (ফেব্রুয়ারি, জুন এবং অক্টোবর মাসে) কম্পোস্ট সার, হাড়ের গুঁড়ো এবং সামান্য পটাশ সার টবের মাটিতে দিন। এছাড়া কচি গাছে মাঝেমধ্যে তরল জৈব সার দেওয়া যেতে পারে।
৩. সাধারণ রোগ, পোকা-মাকড় ও প্রতিকার (Diseases, Pests & Cure)
-
সমস্যা:
-
গণ্ডার পোকা বা রাইনোসিরস বিটল (Rhinoceros Beetle): এটি নারকেল গাছের সবচেয়ে বিপজ্জনক শত্রু। এই কালো রঙের শক্ত পোকাটি গাছের একদম মাথার নরম কচি অংশ বা ডগা কুঁড়ে কুঁড়ে খায়, ফলে পাতাগুলো বড় হলে ইংরেজি 'V' অক্ষরের মতো কাটা দেখায় এবং গাছ দুর্বল হয়ে পড়ে।
-
রেড পাম উইভিল (Red Palm Weevil): এই পোকার কীড়া কান্ডের ভেতরে ঢুকে ভেতরের নরম অংশ খেয়ে ফেলে, যার ফলে গাছটি হঠাৎ মাথা ভেঙে মরে যায়।
-
কুঁড়ি পচা রোগ (Bud Rot): এটি একটি মারাত্মক ছত্রাকজনিত রোগ। বর্ষাকালে গাছের মাথায় জল জমে থাকলে কচি ডগা ও কুঁড়ি পচে দুর্গন্ধ বের হয় এবং গাছ মারা যায়।
-
-
প্রতিকার:
-
গণ্ডার পোকা ও উইভিলের হাত থেকে বাঁচাতে গাছের পাতার গোড়ায় বা মাথায় মাঝেমধ্যে নিম খোল এবং পরিষ্কার শুকনো বালি একসাথে মিশিয়ে ঢেলে দিন। পোকার উপদ্রব বেশি হলে অনুমোদিত দানাদার কীটনাশক (যেমন: ফুরাডান) কাপড়ের ছোট পুঁটুলিতে বেঁধে পাতার খাঁজে রেখে দেওয়া যায়।
-
কুঁড়ি পচা বা ছত্রাকের আক্রমণ এড়াতে বর্ষার আগে এবং পরে ১ লিটার জলে ২ গ্রাম ফাঙ্গিসাইড (যেমন: সাফ বা কপার অক্সিক্লোরাইড) গুলে গাছের মাথায় ও পাতার গোড়ায় ভালো করে স্প্রে করুন।
-
