Assam Arecanut / Kahikuchi Selection / আসাম সুপারি

SKU: APU-ASAR-1456 Category:
🌿 A quick note on nature: Like all of us, every plant is one-of-a-kind! The photos show a representative sample, but your actual plant may vary slightly in size, shape, or color based on the season. We think those little differences make them special.
  • 100% Original Plants
  • Safe & Secure Packaging
  • Pest and Disease Free
  • All India Shipping
  • Replacement if DOA

আসাম সুপারি (Assam Arecanut / Kahikuchi Selection) উত্তর-পূর্ব ভারতের আসাম, মেঘালয় এবং অবিভক্ত বাংলার ডুয়ার্স ও সমতল অঞ্চলের অত্যন্ত সুপরিচিত, ঐতিহ্যবাহী এবং বাণিজ্যিকভাবে অত্যন্ত সফল একটি সুপারির জাত। আসামের গুয়াহাটির ‘কাহিকুচি’ আঞ্চলিক গবেষণা কেন্দ্র (CPCRI) দ্বারা এই জাতের সুপারি নিয়ে ব্যাপক কাজ হওয়ায় এটি কৃষি মহলে বেশ সমাদৃত।

এটি অত্যন্ত শক্ত প্রকৃতির এবং যেকোনো প্রতিকূল আবহাওয়া সহ্য করে বছরের পর বছর একটানা বিপুল ফলন দিতে পারে। ছাদবাগানে যারা পাম জাতীয় গাছের রাজকীয় সৌন্দর্যের পাশাপাশি খাঁটি দেশী ও ঐতিহ্যবাহী সুপারির স্বাদ পেতে চান, তাদের জন্য এটি একটি চমৎকার জাত।

আসাম সুপারির প্রধান বৈশিষ্ট্য (Characteristics)

  • ঐতিহ্যবাহী ও দীর্ঘজীবী গাছ: আসাম সুপারি গাছ অত্যন্ত মজবুত ও খাড়া প্রকৃতির হয়। এটি দীর্ঘজীবী এবং একবার পরিপক্ক হয়ে গেলে ঝোড়ো হাওয়া বা তীব্র রোদ-বৃষ্টিতেও নিজের ভারসাম্য চমৎকারভাবে বজায় রাখতে পারে।

  • বিপুল ও থোকা থোকা ফলন (Prolific Bearer): এই জাতের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর বিপুল ফলন ক্ষমতা। এর প্রতিটি ছড়া বা কাঁদি (Bunch) আকারে বেশ বড় হয় এবং সুপারিগুলো অত্যন্ত ঠাঁসা ও ঘন অবস্থায় ধরে থাকে। একটি সুস্থ ও পূর্ণবয়স্ক গাছ থেকে বছরে প্রায় ৪ থেকে ৫টি ভারী কাঁদি অনায়াসে পাওয়া যায়।

  • ফলের আকার ও চমৎকার গুণমান: আসাম সুপারি আকারে মাঝারি থেকে বেশ বড় এবং ডিম্বাকার (Oval) আকৃতির হয়। কাঁচা অবস্থায় এটি গাঢ় সবুজ থাকলেও সম্পূর্ণ পাকার পর টকটকে গাঢ় কমলা বা লালচে-হলুদ রঙ ধারণ করে। এর ভেতরের সুপারি বা শাঁসটি অত্যন্ত নিরেট, শক্ত এবং প্রিমিয়াম কোয়ালিটির হওয়ায় বাজারে এটি শুকনো সুপারি এবং ‘চালি সুপারি’ তৈরির জন্য এক নম্বর পছন্দ।

  • অনুকূল আবহাওয়া: আসাম এবং উত্তরবঙ্গের আর্দ্র ও বৃষ্টিবহুল জলবায়ু এই গাছের জন্য সবচেয়ে আদর্শ হলেও, এটি ভারতের ও বাংলাদেশের যেকোনো সাধারণ সমতল আবহাওয়াতেও সমানভাবে চমৎকার ফলন দিতে সক্ষম।

  • সহনশীল প্রকৃতি: অন্যান্য হাইব্রিড বা বিদেশী জাতের তুলনায় আসামের এই স্থানীয় সিলেকশন জাতটির রোগবালাই এবং ছত্রাকজনিত সংক্রমণ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা অনেক বেশি থাকে।

১. মাটির মিশ্রণ ও ড্রাম নির্বাচন

সুপারি গাছ মাটিতে আর্দ্রতা পছন্দ করলেও গোড়ায় জল জমে কাদা হয়ে থাকা একদম সহ্য করতে পারে না। তাই ড্রামে চাষের জন্য দ্রুত জলনিকাশী মাটি তৈরি করা জরুরি। আদর্শ মিশ্রণ:

  • বাগানের সাধারণ উর্বর দোআঁশ মাটি: ৫০%

  • ভার্মিকম্পোস্ট বা পুরনো পচা গোবর সার: ৩০%

  • নদীর কাদারহিত বালি (জল নিষ্কাশন ভালো রাখার জন্য): ২০%

  • (মাটির উর্বরতা ও সুরক্ষার জন্য এর সাথে ৩ মুঠো হাড়ের গুঁড়ো, ২ মুঠো শিং কুচি, ২ মুঠো নিম খোল এবং ১ চামচ ফাঙ্গিসাইড পাউডার খুব ভালো করে মিশিয়ে মাটি তৈরি করুন)।

  • টব বা ড্রামের আকার: সুপারি গাছের শিকড় নিচের দিকে গভীর হতে পছন্দ করে। ছাদবাগানে দীর্ঘ মেয়াদে ভালো ফলন ধরে রাখতে শুরুতে অন্তত একটি ১৮ থেকে ২২ ইঞ্চির হাফ ড্রাম বা বড় প্লাস্টিক ড্রাম ব্যবহার করা আবশ্যিক।

২. পরিচর্যা নির্দেশিকা (Care Guide)

  • জল দেওয়ার নিয়ম: আসাম সুপারি গাছ আর্দ্রতা পছন্দ করে। তাই ড্রামের মাটি যাতে পুরোপুরি শুকিয়ে খটখটে না হয়ে যায়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। মাটিতে সবসময় হালকা ভেজা ভাব বা আর্দ্রতা (Moisture) বজায় রাখলে গাছের বৃদ্ধি খুব দ্রুত হয়। তবে খেয়াল রাখবেন যেন ড্রামের নিচে জল জমে কাদা না হয়।

  • সূর্যালোক: এটি পুরোপুরি একটি সূর্যপ্রেমী গাছ। ভালো ফলন এবং গাঢ় সবুজ পাতার জন্য দিনে অন্তত ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা সরাসরি কড়া ও উজ্জ্বল সূর্যালোক পায় এমন খোলা জায়গায় বা ছাদে ড্রামটি রাখুন।

  • সার প্রয়োগ:

    • বছরে দুইবার প্রধান সার: বর্ষার শুরুতে (জুন) এবং বর্ষার শেষে (অক্টোবর-নভেম্বর) ড্রামের চারপাশের মাটি হালকা খুঁড়ে মিশ্র জৈব সার (কম্পোস্ট, হাড়ের গুঁড়ো, শিং কুচি, নিম খোল) দিন।

    • লবণ প্রয়োগ (ঐচ্ছিক কিন্তু কার্যকরী): সুপারি গাছের জন্য বছরে একবার বর্ষার শেষে ড্রামের মাটিতে ১ চামচ সাধারণ খাওয়ার লবণ দিলে গাছের কাণ্ড শক্ত হয় এবং ফলন বাড়ে।

৩. সাধারণ রোগ ও প্রতিকার

  • কুঁড়ি পচা বা ডগা পচা (Bud Rot): বর্ষার সময় অতিরিক্ত আর্দ্রতা বা জল জমার কারণে ছত্রাকের আক্রমণে সুপারি গাছের একদম ভেতরের কচি ডগা বা কুঁড়ি পচে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

  • প্রতিকার: বর্ষা শুরু হওয়ার আগে এবং বর্ষার মাঝামাঝি সময়ে ১ লিটার জলে ২ গ্রাম কপার অক্সিক্লোরাইড (যেমন: Blitox) ফাঙ্গিসাইড গুলে পুরো গাছে এবং পাতার গোড়ায় ভালো করে স্প্রে করে দিন।

বাগানীদের জন্য কুইক টিপস: আসাম সুপারি মূলত বীজের চারা থেকেই তৈরি হয়। (APU Nursery) অপু নার্সারি থেকে চারা কেনার সময় সবসময় অন্তত ১ থেকে ১.৫ বছর বয়সী, মোটা কাণ্ডযুক্ত এবং গাঢ় সবুজ সতেজ পাতাসম্পন্ন ভালো মানের সুস্থ চারা দেখে সংগ্রহ করবেন।