Anna Apple / আন্না আপেল

Original price was: ₹750.00.Current price is: ₹500.00.

Order via WhatsApp
SKU: APU-ANAP-716 Category: Tags: , , , ,
🌿 A quick note on nature: Like all of us, every plant is one-of-a-kind! The photos show a representative sample, but your actual plant may vary slightly in size, shape, or color based on the season. We think those little differences make them special.
  • 100% Original Plants
  • Safe & Secure Packaging
  • Pest and Disease Free
  • All India Shipping
  • Replacement if DOA

আন্না আপেল (Anna Apple) সমতল এবং গরম অঞ্চলে চাষের উপযোগী সবচেয়ে সফল, বিশ্বখ্যাত এবং অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি আপেলের জাত। এইচআরএমএন-৯৯ এবং গোল্ডেন ডরসেটের মতোই এটি একটি লো-চিল (Low-chill) জাত, যা ফল দেওয়ার জন্য পাহাড়ি অঞ্চলের মতো তীব্র ঠান্ডা বা তুষারপাতের ওপর নির্ভর করে না। আমাদের দেশের সমতল ভূমির উচ্চ তাপমাত্রা ও তীব্র গরমের মধ্যেও (এমনকি ৪0°C এর বেশি তাপমাত্রায়) এটি প্রচুর পরিমাণে এবং সুস্বাদু আপেল উৎপাদনে সক্ষম। ছাদবাগানের হাফ ড্রামে চাষের জন্য এটি একটি চমৎকার জাত।

আন্না আপেল (Anna Apple)

  • বৈজ্ঞানিক নাম (Scientific Name): Malus domestica ‘Anna’

  • উদ্ভাবক ও উৎস (Origin): ১৯৫৯ সালে ইসরায়েলের (Israel) এইন শেমিরা নামক স্থানে আবা স্টেইন (Abba Stein) নামের এক গবেষক গরম আবহাওয়ার উপযোগী করে এই জাতটি উদ্ভাবন করেন।

  • ফলের বৈশিষ্ট্য: এর ফলগুলো দেখতে অনেকটা বিখ্যাত ‘রেড ডেলিশিয়াস’ আপেলের মতো চমৎকার লম্বাটে-গোল আকৃতির হয়। কাঁচা অবস্থায় ফল সবুজ থাকে, তবে মে-জুন মাসের দিকে পাকার পর এর গায়ের রঙে আকর্ষণীয় হলদে-সবুজের ওপর লালচে আভা বা টকটকে লাল (Red Blush) রঙ ফুটে ওঠে। এর ভেতরের শাঁসটি ধবধবে সাদা, অত্যন্ত মুচমুচে (Crispy), রসালো এবং মিষ্টি-টকের এক দারুণ সুস্বাদু সংমিশ্রণ।

  • গাছের ধরন (Plant Type): এটি একটি পাতাঝরা (Deciduous) বহুবর্ষজীবী ফল গাছ। অন্য সব আপেল গাছের মতো সমতল অঞ্চলেও শীতকালে (ডিসেম্বর-জানুয়ারি) এর সব পাতা স্বাভাবিকভাবেই ঝরে যায় এবং গাছটি ঘুমে বা সুপ্তাবস্থায় (Dormancy) চলে যায়। এরপর ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে নতুন পাতার সাথে সাথে হালকা গোলাপি-সাদা রঙের থোকা থোকা ফুলে গাছ ভরে যায়।

১. পরাগায়ন বা পলিনেশনের বিশেষ তথ্য (Cross-Pollination)

যদিও আন্না আপেল জাতটি আংশিকভাবে স্ব-পরাগায়িত (Partially self-fertile), তবে ছাদবাগানে আপনি যদি প্রচুর পরিমাণে এবং বড় আকারের ফল পেতে চান, তবে এর সাথে ক্রস-পরাগায়ন (Cross-pollination) ঘটানো অত্যন্ত জরুরি।

  • এর জন্য আন্না আপেল গাছের ঠিক পাশেই আরেকটি সমতল অঞ্চলের আপেল গাছ, বিশেষ করে ‘গোল্ডেন ডরসেট আপেল’ (Dorsett Golden Apple) বা ‘এইচআরএমএন-৯৯’ (HRMN-99) রাখা উচিত। গোল্ডেন ডরসেট ও আন্না আপেলের ফুল ফোটার সময় একই হওয়ায় এরা একে অপরের পরাগায়নে দারুণ সাহায্য করে এবং ফলন বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এই জোড়টিকে বিশ্বের অন্যতম সেরা ‘আপেল পার্টনার’ বলা হয়।

২. মাটির মিশ্রণ ও ড্রাম নির্বাচন

আপেল গাছ শিকড়ে জল জমে থাকা একদম পছন্দ করে না। এর জন্য প্রয়োজন উর্বর, হালকা এবং জলনিকাশী সুবিধাযুক্ত মাটি।ুর। আদর্শ মিশ্রণ:

  • বাগানের সাধারণ দোআঁশ বা বেলে-দোআঁশ মাটি: ৫০%

  • ভার্মিকম্পোস্ট বা পুরনো পচা গোবর সার: ৩০%

  • নদীর কাদারহিত বালি বা পার্লাইট: 🔍 ২০% (জল দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য)

  • (মাটির পুষ্টি ও সুরক্ষার জন্য ২ মুঠো হাড়ের গুঁড়ো, ২ মুঠো শিং কুচি, ২ মুঠো িনম খোল এবং ১ চামচ ফাঙ্গিসাইড পাউডার খুব ভালো করে মিশিয়ে মাটি তৈরি করুন)।

  • ড্রামের আকার: কলমের চারা কিনে শুরুতে অন্তত ১৪ থেকে ১৬ ইঞ্চির টবে লাগান। গাছ ১ বছর পুরনো হয়ে গেলে তাকে ১৮ থেকে ২২ ইঞ্চির একটি হাফ ড্রামে স্থানান্তরিত করুন। ড্রামের নিচের জলনিকাশী ছিদ্রগুলো সবসময় পরিষ্কার রাখুন।

৩. পরিচর্যা নির্দেশিকা (Care Guide)

  • জল দেওয়ার নিয়ম: মাটিতে হালকা আর্দ্রতা বজায় রাখুন, কিন্তু মাটি কাদা করবেন না। মাটির ওপরের স্তর শুকিয়ে গেলে তবেই জল দিন। বিশেষ সতর্কতা: ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে যখন গাছ জুড়ে ফুল আসবে, তখন জল সামান্য কমিয়ে দিন। ফুল থাকা অবস্থায় অতিরিক্ত জল দিলে বা মাটি একদম শুকিয়ে ফেললে ফুল ও কচি ফল ঝরে যায়। ফল সেট হয়ে বড় হতে শুরু করলে আবার নিয়মিত সুষম জল দিতে হবে।

  • সূর্যালোক: এটি একটি তীব্র সূর্যপ্রেমী গাছ। ফলের মিষ্টি স্বাদ এবং ভালো বৃদ্ধির জন্য দিনে অন্তত ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা সরাসরি কড়া ও উজ্জ্বল সূর্যালোক পায় এমন খোলামেলা জায়গায় বা ছাদে ড্রামটি রাখুন।

  • শীতকালীন ছাঁটাই (Pruning): প্রতি বছর ডিসেম্বর বা জানুয়ারি মাসে যখন গাছটি সম্পূর্ণ পাতাশূন্য হয়ে সুপ্তাবস্থায় থাকবে, তখন মরা, রোগাক্রান্ত ও অপ্রয়োজনীয় ডালপালা ছাঁটাই করে দিন। আপেল গাছের ২-৩ বছরের পুরনো ছোট ছোট ডাল বা স্পার (Spurs)-এ ফল আসে, তাই প্রধান ডালগুলো খুব বেশি না কেটে হালকা প্রুনিং করতে হবে। ছাঁটাইয়ের পর কাটা অংশে ফাঙ্গিসাইড পেস্ট লাগিয়ে দিন।

  • সার প্রয়োগ:

    • জানুয়ারি মাসে: গাছের সুপ্ত দশা ভাঙার জন্য ড্রামের চারপাশের মাটি খুঁড়ে ৩ মুঠো কম্পোস্ট, ২ মুঠো হাড়ের গুঁড়ো এবং ১ মুঠো নিম খোল দিয়ে জল দিয়ে দিন।

    • ফল আসার পর: ফল যখন ছোট মার্বেল দানার মতো আকার নেবে, তখন থেকে প্রতি ১৫ দিন অন্তর পাতলা সরষের খোল পচা তরল সার এবং মাসে একবার ১ চামচ পটাশ সার (SOP) দিলে ফলের আকার বড় ও মিষ্টি হয়। মে মাসের পর থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারী সার দেওয়া বন্ধ রাখুন।

৪. সাধারণ রোগ, পোকা-মাকড় ও প্রতিকার (Diseases, Pests & Cure)

  • সমস্যা:

    • শিকড় পচা (Root Rot) ও ছালখেকো পোকা: অতিরিক্ত জলের কারণে শিকড় পচে গাছ ঢলে পড়তে পারে এবং কিছু পোকা কান্ডের ছাল খেয়ে গাছ দুর্বল করে দেয়।

    • পাখি ও কাঠবিড়ালি: ফল যখন পাকতে শুরু করে (মে-জুন), তখন এদের উপদ্রব সবচেয়ে বেশি হয়।

  • প্রতিকার:

    • ফুল আসার আগে এবং ফল ধরার পর প্রতি ১৫ দিন অন্তর ১ লিটার জলে ২ গ্রাম ফাঙ্গিসাইড (যেমন: সাফ) গুলে স্প্রে করুন। গাছে ফুল থাকা অবস্থায় কোনো স্প্রে করবেন না।

    • ফল আসার পর সেগুলোকে পোকা, পাখি ও কাঠবিড়ালির হাত থেকে বাঁচাতে ফ্রুট ব্যাগিং (Tissue paper bags) বা নেট দিয়ে পুরো গাছ ঢেকে দিন।

আন্না আপেলের কলমের গাছ হলে লাগানোর ২য় বছর থেকেই ফল দেওয়া শুরু করে। মে মাসের শেষ থেকে জুনের মাঝামাঝি সময়ে (যখন সমতল ভূমিতে তীব্র গরম থাকে) এর ফল সম্পূর্ণ পেকে তোলার উপযোগী হয়।