Hass Avocado / হাস অ্যাভোকাডো

Original price was: ₹1,100.00.Current price is: ₹650.00.

Order via WhatsApp
SKU: APU-HAAV-721 Category: Tags: , , ,
🌿 A quick note on nature: Like all of us, every plant is one-of-a-kind! The photos show a representative sample, but your actual plant may vary slightly in size, shape, or color based on the season. We think those little differences make them special.
  • 100% Original Plants
  • Safe & Secure Packaging
  • Pest and Disease Free
  • All India Shipping
  • Replacement if DOA

হাস অ্যাভোকাডো (Hass Avocado) বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে জনপ্রিয়, বাণিজ্যিকভাবে সফল এবং পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি প্রিমিয়াম জাতের অ্যাভোকাডো। এর চমৎকার মাখনের মতো মসৃণ শাঁস, বাদামের মতো হালকা মিষ্টি সোয়াড এবং দীর্ঘস্থায়ী সংরক্ষণের সুবিধার জন্য বিশ্ববাজারে মোট উৎপাদিত অ্যাভোকাডোর প্রায় ৮০% জায়গা জুড়েই রয়েছে এই ‘হাস’ জাতটি। সাধারণত এটি একটি উপ-উষ্ণমন্ডলীয় (Sub-tropical) ফল গাছ হলেও, সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে আমাদের দেশের ছাদবাগানের হাফ ড্রামে বা বাড়ির আঙিনায় এটি খুব সফলভাবে চাষ করা সম্ভব।

হাস অ্যাভোকাডো (Hass Avocado)

  • বৈজ্ঞানিক নাম (Scientific Name): Persea americana ‘Hass’

  • উদ্ভাবক ও উৎস (Origin): ১৯২০-এর দশকে আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ার এক ডাকপিয়ন রুডলফ হাস (Rudolph Hass) ভুলবশত তাঁর পেছনের উঠোনে একটি ভিন্নধর্মী চারাগাছ থেকে এই অনন্য জাতটি আবিষ্কার করেন এবং ১৯৩৫ সালে এর পেটেন্ট নেন।

  • ফলের বৈশিষ্ট্য: হাস অ্যাভোকাডোর খোসা সাধারণ অ্যাভোকাডোর মতো মসৃণ নয়, বরং বেশ খসখসে, কুঁচকানো এবং নুড়িপাথরের মতো (Pebbly) চামড়াবিশিষ্ট হয়। এর সবচেয়ে বড় অনন্যতা হলো ফলের রঙের পরিবর্তন—কাঁচা অবস্থায় এটি গাঢ় সবুজ থাকে, তবে সম্পূর্ণ পাকলে এর খোসার রঙ পরিবর্তন হয়ে কালচে-বেগুনি বা প্রায় কালো (Purplish-Black) রঙ ধারণ করে। এর ভেতরের শাঁসটি উজ্জ্বল হালকা হলুদ-সবুজ রঙের এবং অত্যন্ত উচ্চ ফ্যাটযুক্ত বা মাখনের মতো (Buttery) ও ক্রিমি হয়, যা সালাদ, স্মুদি বা গুয়াকামোল (Guacamole) তৈরিতে দারুণ।

  • গাছের ধরন (Plant Type): এটি একটি চিরসবুজ (Evergreen), মাঝারি থেকে বড় আকৃতির এবং দীর্ঘজীবী বহুবর্ষজীবী ফল গাছ। এর পাতাগুলো বেশ বড়, গাঢ় সবুজ এবং উপবৃত্তাকার হয়। সাধারণত বসন্তের শুরুতে (ফেব্রুয়ারি-মার্চ) গাছ জুড়ে লাখ লাখ ছোট ছোট হলদে-সবুজ রঙের ফুল ফোটে।

১. পরাগায়ন বা পলিনেশনের অদ্ভুত রহস্য (Type A and Type B Flowering)

অ্যাভোকাডো গাছের ফুল ফোটার এবং পরাগায়নের প্রক্রিয়াটি প্রকৃতির এক অদ্ভুত ও জটিল বিস্ময়, যাকে “সিনক্রোনাইজড ডাইকোগ্যামি” (Synchronized Dichogamy) বলা হয়। একটি ফুলের মধ্যেই পুরুষ ও স্ত্রী উভয় অংশ থাকলেও তারা একই সময়ে সক্রিয় হয় না।

  • টাইপ-এ (Type A – হাস অ্যাভোকাডো): হাস হলো একটি টাইপ-এ জাত। এর ফুলগুলো ১ম দিনের সকালে ‘স্ত্রী’ (Female) হিসেবে খোলে এবং দুপুরে বন্ধ হয়ে যায়। ২য় দিনের দুপুরে সেই ফুলগুলো আবার ‘পুরুষ’ (Male) হিসেবে খোলে এবং বিকেলে পরাগরেণু ছড়িয়ে ঝরে যায়।

  • পরামর্শ: হাস অ্যাভোকাডো গাছ আংশিকভাবে স্ব-পরাগায়িত হলেও, ছাদবাগানে একা থাকলে ফুল ঝরে যাওয়ার এবং ফল না টেকার হার খুব বেশি থাকে। তাই প্রচুর ফলন নিশ্চিত করতে হাস (Type A) গাছের ঠিক পাশেই একটি টাইপ-বি (Type B) জাতের অ্যাভোকাডো গাছ (যেমন: Fuerte, Zutano বা Bacon) রাখা অত্যন্ত জরুরি। এদের ফুল ফোটার সময় একে অপরের বিপরীত হওয়ায় পরাগায়ন নিখুঁত হয় এবং প্রচুর ফল ধরে।

২. মাটির মিশ্রণ ও ড্রাম নির্বাচন

অ্যাভোকাডো গাছের প্রধান ও সবচেয়ে বড় শত্রু হলো মাটিতে জল জমে থাকা। এর শিকড় অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং মাটিতে সামান্য জল জমলে বা মাটি কাদা হলে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এর শিকড় পচে গাছটি মারা যায়। তাই এর জন্য অত্যন্ত হালকা, ঝুরঝুরে এবং স্পঞ্জের মতো জলনিকাশী মাটি প্রয়োজন। আদর্শ মিশ্রণ:

  • বাগানের সাধারণ দোআঁশ মাটি: ৪০%

  • ভার্মিকম্পোস্ট বা পাতা পচা সার: ৩০%

  • নদীর কাদা ছাড়া মোটা বালি বা পার্লাইট: ২০% (জল দ্রুত বের করার জন্য)

  • কোকোপিট বা ধানের তুষ: ১০% (মাটি হালকা রাখার জন্য)

  • (মাটির সুরক্ষার জন্য এর সাথে ২ মুঠো হাড়ের গুঁড়ো, ২ মুঠো নিম খোল এবং ১ বড় চামচ ফাঙ্গিসাইড পাউডার খুব ভালো করে মিশিয়ে মাটি তৈরি করুন)।

  • ড্রামের আকার: অ্যাভোকাডো গাছের জন্য ছোট টব একদম চলবে না। (APU Nursery) অপু নার্সারি থেকে গ্রাফটিং বা কলমের চারা কিনে শুরুতে অন্তত ১৬ থেকে ১৮ ইঞ্চির টব বা হাফ ড্রামে লাগাতে হবে। ড্রামের নিচে জল নিষ্কাশনের জন্য অন্তত ৪-৫টি বড় ছিদ্র এবং নিচে খোলামকুচি ও বালির স্তর থাকা আবশ্যক।

৩. পরিচর্যা নির্দেশিকা (Care Guide)

  • জল দেওয়ার কঠোর নিয়ম: অ্যাভোকাডো গাছে জল দেওয়ার ক্ষেত্রে সবসময় “কম জল দেওয়া ভালো” নীতি মেনে চলুন। টবের মাটির ওপরের ২-৩ ইঞ্চি স্তর হাত দিয়ে দেখে যদি সম্পূর্ণ শুকনো মনে হয়, তবেই জল দিন। মাটি সবসময় স্যাঁতসেঁতে বা ভেজা থাকলে পাতা হলুদ হয়ে ঝরে যাবে এবং শিকড় পচে যাবে।

  • সূর্যালোক: এটি একটি রোদ পছন্দ করা গাছ। দিনে অন্তত ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা সরাসরি উজ্জ্বল সূর্যালোক পায় এমন খোলামেলা জায়গায় ড্রামটি রাখুন। তবে চারা গাছটি যখন খুব ছোট থাকবে (প্রথম বছর), তখন গ্রীষ্মকালের দুপুরের তীব্র কড়া রোদ থেকে বাঁচাতে এর ওপর হালকা শেড বা গ্রিন নেট দিতে পারেন, কারণ কচি কান্ড রোদে পুড়ে (Sunburn) কালো হয়ে যেতে পারে।

  • সার প্রয়োগ: অ্যাভোকাডো গাছ খুব বেশি চড়া বা রাসায়নিক সার পছন্দ করে না।

    • বছরে দুইবার (বর্ষার আগে এবং শীতের শেষে) ড্রামের চারপাশের মাটি হালকা খুঁড়ে কম্পোস্ট সার, হাড়ের গুঁড়ো ও নিম খোল মিশিয়ে দিন।

    • গাছ বৃদ্ধির সময়ে প্রতি ২০-২৫ দিন অন্তর অত্যন্ত পাতলা করে তৈরি করা সরষের খোল পচা তরল সার বা তরল সী-উইড (Seaweed) সার দিতে পারেন। গাছে ফুল আসার পর থেকে ফল মটর দানার আকার নেওয়া পর্যন্ত সব ধরণের সার দেওয়া বন্ধ রাখুন।

    • এই গাছটি মাটিতে সাইট্রাস গাছের মতো সামান্য টক বা অম্লীয় ভাব এবং জিঙ্ক ও বোরন পছন্দ করে। তাই বছরে ২-৩ বার সামান্য চিলেটেড জিঙ্ক ও বোরন স্প্রে করলে ফলের গুটি ঝরা বন্ধ হয়।

৪. সাধারণ রোগ, পোকা-মাকড় ও প্রতিকার (Diseases, Pests & Cure)

  • সমস্যা:

    • রুট রট বা শিকড় পচা (Phytophthora Root Rot): এটি অ্যাভোকাডো গাছের এক নম্বর মারণব্যাধি। অতিরিক্ত জল দিলে বা মাটি ভারী হলে এই ছত্রাক আক্রমণ করে, যার ফলে গাছের ডগা ওপর থেকে নিচের দিকে শুকিয়ে মরতে শুরু করে (Dieback) এবং গাছটি মারা যায়।

    • মিলিবাগ ও স্পাইডার মাইটস: কচি পাতার নিচে সাদা তুলোর মতো মিলিবাগ বা ছোট মাকড়সা লেগে রস চুষে খায়।

  • প্রতিকার:

    • শিকড় পচা রোগ থেকে বাঁচতে প্রতি মাসে অন্তত একবার ১ লিটার জলে ২ গ্রাম ফাঙ্গিসাইড (যেমন: মেটালেক্সিল বা সাফ) গুলে টবের মাটিতে দিন এবং টবটিকে চমৎকার বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় রাখুন।

    • পোকার আক্রমণ এড়াতে ১০-১২ দিন অন্তর ১ লিটার জলে ২ মিলি নিম তেল এবং কয়েক ফোঁটা লিকুইড সোপ মিশিয়ে পুরো গাছে ভালো করে স্প্রে করুন।

বিশেষ নোট: বীজ থেকে তৈরি অ্যাভোকাডো গাছে ফল আসতে ৮ থেকে ১০ বছর বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে এবং সেই ফলের গুণগত মান ভালো নাও হতে পারে। তাই ছাদবাগানের জন্য সবসময় বিশ্বস্ত (APU Nursery) অপু নার্সারি থেকে কলমের বা গ্রাফটিংয়ের (Grafted) হাস অ্যাভোকাডোর চারা সংগ্রহ করবেন। কলমের চারা হলে লাগানোর ৩ থেকে ৪ বছরের মধ্যেই গাছটি প্রিমিয়াম কোয়ালিটির অ্যাভোকাডোতে ভরে উঠবে। সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর মাসের মধ্যে এর ফল তোলার উপযোগী হয়।