বেনারসী ল্যাংড়া / বারাণসী ল্যাংড়া (Benarasi / Baranasi Langra)
ইতিহাস ও নামকরণ: উত্তর ও পূর্ব ভারতের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও কিংবদন্তিতুল্য বাণিজ্যিক জাতগুলোর মধ্যে ল্যাংড়া অন্যতম। লোকগাথা অনুসারে, প্রায় ২৫০ বছর আগে বারাণসীর (বেনারস) এক শিব মন্দিরের এক প্রতিবন্ধী (পায়ে ল্যাংড়া বা খোঁড়া) সাধু প্রথম এই আমের গাছটি লাগিয়েছিলেন, যার কারণে এর নাম হয় ‘ল্যাংড়া’। বেনারসী ল্যাংড়া হলো এই জাতের আদি এবং আসল রূপ। ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে বারাণসী এবং এর আশেপাশের অঞ্চলের এই ঐতিহ্যবাহী আমটিকে ভৌগোলিক নির্দেশক বা GI Tag (Geographical Indication, Registration No. 716) প্রদান করা হয়েছে।
উৎস: বারাণসী (বেনারস), উত্তর প্রদেশ। তবে এটি বিহার ও পশ্চিমবঙ্গেও ব্যাপকভাবে চাষ হয়।
গাছের বৃদ্ধি: অত্যন্ত শক্তিশালী, দীর্ঘ এবং ছড়ানো আকৃতির (Vigorous and Spreading)।
ফলন: প্রচুর ফলন দেয় (Heavy Yielder)।
ফলনের ধরন: মূলত এক বছর অন্তর ফলন দেয় (Alternate Bearer), তবে অন-ইয়ারে (On-year) ফলন হয় উপচে পড়ার মতো।
টিএসএস ব্রিক্স (মিষ্টতা): ১৯.৯৫ – ২২
ওজন: ২৫০ – ৩৭০ গ্রাম (মাঝারি থেকে বড় আকার)।
গায়ের রঙ: কাঁচা অবস্থায় হালকা সবুজ। এই আমের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এটি পাকার পরও এর সবুজ ভাব (Lettuce-green/Greenish tinge) পুরোপুরি হারায় না। পাকার পর এটি হালকা সবুজাভ হলুদ বর্ণ ধারণ করে।
শাঁসের রঙ: গাঢ় লেবু-হলুদ (Lemon Yellow)।
পাকার সময়: এটি মধ্য-মরশুমের (Mid Season) জাত। উত্তর ভারতে এটি জুনের মাঝামাঝি থেকে জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত পাওয়া যায়।
সংরক্ষণ গুণমান: মাঝারি। পাকার পর এটি দ্রুত নরম হতে শুরু করে, তাই ঘরের তাপমাত্রায় ৩-৪ দিনের মধ্যে খেয়ে ফেলা ভালো।
স্বাদ ও সুবাস: ল্যাংড়াকে ভারতীয় আমের অন্যতম ‘ফ্লেভার মাস্টারপিস’ বলা হয়। এর স্বাদ শুধু মিষ্টি নয়, বরং মিষ্টির সাথে একটি হালকা টক ভাব (Sub-acid tang) এবং চমৎকার সাইট্রাস ও ফুলের মতো সুবাসের (Citrus-floral aroma) এক জটিল ও স্বর্গীয় মিশ্রণ। এর আঁটি বা আঁটি অত্যন্ত পাতলা ও চ্যাপ্টা, চামড়াও পাতলা, যার ফলে এর প্রায় ৮৫-৮৮% অংশই থাকে রসালো ও সম্পূর্ণ আঁশহীন (Fibreless) শাঁস। বিজ্ঞানীদের মতে, এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-এ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে।
(তথ্যসূত্র: GI Journal No. 166, ICAR-CISH, এবং National Horticulture Board)









