জমাদার (Jamadar)
ইতিহাস ও নামকরণ: ‘জমাদার’ আমটি মূলত ভারতের গুজরাট ও উত্তর প্রদেশ অঞ্চলের একটি ঐতিহ্যবাহী এবং বিশেষায়িত জাত। ভারতের পুলিশ বা রাজকীয় প্রশাসনিক পদ ‘জমাদার’-এর সাথে এই আমটির নামের সূত্র জড়িয়ে রয়েছে। লোকগাথা অনুসারে, কোনো এক বাগিচার প্রধান জমাদার বা দ্বাররক্ষী প্রথম এই চমৎকার স্বাদের আমগাছটি বীজ থেকে বা বিশেষ সিলেকশনের মাধ্যমে চিহ্নিত করেছিলেন এবং তাঁর হাত ধরেই এটি রাজপরিবার বা জমিদারদের নজরে আসে। পরবর্তীতে সেই সংগ্রাহক জমাদারের সম্মানার্থেই এই জাতটির নামকরণ করা হয়।
উৎস: উত্তর ও পশ্চিম ভারত (প্রধানত উত্তর প্রদেশ এবং গুজরাটের কিছু পকেট অঞ্চল)।
গাছের বৃদ্ধি: মাঝারি থেকে শক্তিশালী (Moderately Vigorous)।
ফলন: মাঝারি থেকে ভালো (Moderate to Good)।
ফলনের ধরন: মূলত এক বছর অন্তর ভালো ফলন দেয় (Alternate Bearer)।
টিএসএস ব্রিক্স (মিষ্টতা): ১৮ – ২০
ওজন: ২৫০ – ৩৫০ গ্রাম (মাঝারি আকার)।
গায়ের রঙ: কাঁচা অবস্থায় গাঢ় সবুজ। সম্পূর্ণ পাকার পর এটি একটি অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন হালকা হলুদাভ সবুজ থেকে উজ্জ্বল সোনালী হলুদ বর্ণ ধারণ করে। এর চামড়া বেশ মসৃণ হয়।
শাঁসের রঙ: আকর্ষণীয় গাঢ় হলুদ বা হালকা কেসরী হলুদ।
পাকার সময়: এটি মূলত মধ্য-মরশুমের (Mid Season) একটি জাত। সাধারণত জুন মাসের মাঝামাঝি থেকে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে এটি পাকার উপযুক্ত হয়।
সংরক্ষণ গুণমান: বেশ ভালো (Good)। এর শাঁস ও চামড়ার গঠন উন্নত হওয়ায় পাড়ার পর কয়েক দিন সহজে নষ্ট হয় না।
স্বাদ ও সুবাস: জমাদার আমের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর নিরেট (Firm), ঘন এবং সম্পূর্ণ আঁশহীন (Fiberless) শাঁস। স্বাদের দিক থেকে এটি চমৎকার মিষ্টি এবং এতে একটি মৃদু দেশি সুবাস রয়েছে। কামড় দিলে এর মাখনের মতো মসৃণ টেক্সচার এবং সুষম মিষ্টি রস মুখের ভেতর এক দারুণ তৃপ্তি এনে দেয়। ভারতের আঞ্চলিক বাজারে আমপ্রেমী ও সংগ্রাহকদের কাছে এটি একটি বিশেষ ঐতিহ্যবাহী জাত হিসেবে সমাদৃত।
(তথ্যসূত্র: ভারতের আঞ্চলিক উদ্যানপালন রেকর্ড ও দেশি আম বৈচিত্র্য সমীক্ষা)























