Golden 8 Guava / গোল্ডেন ৮ পেয়ারা

SKU: APU-GOGU-1086 Category:
🌿 A quick note on nature: Like all of us, every plant is one-of-a-kind! The photos show a representative sample, but your actual plant may vary slightly in size, shape, or color based on the season. We think those little differences make them special.
  • 100% Original Plants
  • Safe & Secure Packaging
  • Pest and Disease Free
  • All India Shipping
  • Replacement if DOA

গোল্ডেন ৮ পেয়ারা (Golden 8 Guava) বর্তমান সময়ে বাণিজ্যিক চাষী এবং ছাদবাগানীদের কাছে অত্যন্ত আলোচিত, আধুনিক এবং একটি অন্যতম সেরা হাইব্রিড পেয়ারার জাত। থাইল্যান্ডের গোল্ডেন সিরিজের পেয়ারাগুলোর মধ্যে এটি তার চমৎকার আকৃতি, কম বীজ এবং অবিশ্বাস্য রকমের কড়া মিষ্টি স্বাদের জন্য খুব দ্রুত জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠে এসেছে।

ছাদবাগানের হাফ ড্রামে বা মাঝারি সাইজের টবে এই জাতটি খুব দ্রুত বাড়ে এবং লাগানোর প্রথম বছর থেকেই থোকা থোকা ফলন দিতে শুরু করে।

গোল্ডেন ৮ পেয়ারার প্রধান বৈশিষ্ট্য (Characteristics)

  • আকার ও রূপ: গোল্ডেন ৮ পেয়ারা আকারে বেশ বড় এবং দেখতে কিছুটা নাশপাতি (Pear-shaped) বা লম্বাটে ডিম্বাকার হয়। এর বাহ্যিক চামড়াটি সাধারণ পেয়ারার মতো ঢেউখেলানো বা অসমান নয়, বরং বেশ মসৃণ ও চকচকে হয়। সম্পূর্ণ পাকার পর এর খোসাটি গাঢ় সবুজ থেকে হালকা হলুদাভ-সবুজ (Golden tint) রঙ ধারণ করে।

  • ক্রিস্পি টেক্সচার ও পুরু শাঁস (প্রধান আকর্ষণ): এর ভেতরের শাঁস বা পাল্প ধবধবে সাদা রঙের হয়। এই পেয়ারাটির সবচেয়ে বড় ইউএসপি (USP) হলো এর অবিশ্বাস্য ক্রিস্পি বা মুচমুচে (Extremely Crunchy) ভাব। ফলটি কাঁচা-পাকা (আধা-পাকা) অবস্থায় খেলেও আপেলের মতো মুচমুচে লাগে, যা খেতে দারুণ আরামদায়ক। এর শাঁসটি অত্যন্ত পুরু হওয়ায় ফলের ভেতরের সিংহভাগ অংশই খাওয়ার যোগ্য থাকে।

  • খুব কম বীজ (Semi-seedless): সাধারণ দেশী বা পাতি পেয়ারার মতো এর ভেতর বীজের হিজিবিজি থাকে না। এর বীজ অত্যন্ত কম এবং ফলের একেবারে কেন্দ্রে সামান্য একটু অংশে পুঞ্জীভূত থাকে। বীজগুলো চিবানোর সময় দাঁতে খুব একটা লাগে না।

  • মধুর মতো কড়া মিষ্টি স্বাদ: থাই পেয়ারাগুলো সাধারণত কিছুটা পানসে বা হালকা মিষ্টি স্বাদের হয়, কিন্তু গোল্ডেন ৮ জাতটি এর সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। এর মিষ্টিতা বা ব্রিক্স লেভেল (Brix level) অন্য সব থাই পেয়ারার চেয়ে অনেক বেশি। মুখে দিলেই এক ধরণের কড়া মিষ্টি ও রিফ্রেশিং স্বাদ পাওয়া যায়।

  • বারোমাসি ফলন: এটি একটি অত্যন্ত উচ্চ ফলনশীল এবং বারোমাসি (All-time) জাত। সঠিক পরিচর্যা পেলে বছরের প্রায় প্রতিটি ঋতুতেই এই গাছে একই সাথে ফুলের কুঁড়ি, কচি গুটি এবং পাকা পেয়ারা ঝুলতে দেখা যায়।

১. মাটির মিশ্রণ ও ড্রাম নির্বাচন

অন্যান্য হাইব্রিড পেয়ারা গাছের মতোই গোল্ডেন ৮ গাছ গোড়ায় জল জমে থাকা একদম সহ্য করতে পারে না। এর জন্য পুষ্টিসমৃদ্ধ ও দ্রুত জলনিকাশী মাটি প্রয়োজন। আদর্শ মিশ্রণ:

  • বাগানের সাধারণ দোআঁশ বা বেলে-দোআঁশ মাটি: ৫০%

  • ভার্মিকম্পোস্ট বা পুরনো পচা গোবর সার: ৩০%

  • নদীর কাদারহিত বালি: ২০%

  • (মাটির পুষ্টি ও সুরক্ষার জন্য এর সাথে ২ মুঠো হাড়ের গুঁড়ো, ২ মুঠো শিং কুচি, ২ মুঠো নিম খোল এবং ১ চামচ ফাঙ্গিসাইড পাউডার খুব ভালো করে মিশিয়ে মাটি তৈরি করুন)।

  • টব বা ড্রামের আকার: যেহেতু গাছটি খুব দ্রুত বাড়ে এবং কচি ডালপালা ছড়ায়, তাই শুরুতে অন্তত ১২ থেকে ১৪ ইঞ্চির টব ব্যবহার করলেও, ১ বছর পর এর ভরপুর ফলন ধরে রাখতে একে অবশ্যই ১৬ থেকে ১৮ ইঞ্চির টব বা হাফ ড্রামে প্রতিস্থাপন করতে হবে।

২. পরিচর্যা নির্দেশিকা (Care Guide)

  • জল দেওয়ার নিয়ম: মাটিতে সবসময় হালকা আর্দ্রতা (Moisture) বজায় রাখুন, কিন্তু মাটি কাদা করবেন না। মাটির ওপরের স্তর সামান্য শুকিয়ে গেলেই জল দিন। গাছে যখন একসাথে প্রচুর ফুল আসবে, তখন জল সামান্য কমিয়ে দিন। ফুল থেকে যখন ছোট গুটি সেট হয়ে যাবে, তখন আবার নিয়মিত পর্যাপ্ত জল দিতে হবে। জলের অভাব হলে কচি গুটি ঝরে যেতে পারে।

  • সূর্যালোক: এটি একটি তীব্র সূর্যপ্রেমী (Sun-loving) গাছ। ফলের কড়া মিষ্টি স্বাদ এবং ভালো সাইজের জন্য দিনে অন্তত ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা সরাসরি কড়া ও উজ্জ্বল সূর্যালোক পায় এমন খোলা জায়গায় ড্রামটি রাখুন।

  • সার প্রয়োগ (নিয়মিত পুষ্টি): যেহেতু এটি বারোমাসি গাছ, তাই এর খাবারের চাহিদা একটু বেশি থাকে।

    • বছরে দুইবার প্রধান সার: বর্ষার আগে (মে-জুন) এবং শীতের শুরুতে (নভেম্বর) ড্রামের চারপাশের মাটি হালকা খুঁড়ে কম্পোস্ট সার, হাড়ের গুঁড়ো, শিং কুচি এবং নিম খোল মিশিয়ে দিন।

    • নিয়মিত পুষ্টি: প্রতি ১৫-২০ দিন অন্তর পাতলা সরষের খোল পচা তরল সার অথবা কলার খোসা ভেজানো পটাশ সমৃদ্ধ জল দিন। ফলের সাইজ ও মিষ্টিতা বাড়াতে এটি দারুণ কাজ করে।

    • বোরন ও জিংক: ফুল থেকে ফল সেটিং ভালো হওয়ার জন্য এবং ফলের চামড়া চকচকে রাখতে কচি গুটি আসার পর ১ লিটার জলে ২ গ্রাম বোরন (Boron) গুলে স্প্রে করতে পারেন।

৩. প্রুনিং (Pruning) ও ফ্রুট ব্যাগিং (Fruit Bagging)

  • ছাঁটাই: গোল্ডেন ৮ পেয়ারা গাছের ফলন বাড়ানোর মূল চাবিকাঠি হলো ছাঁটাই। পেয়ারা সবসময় নতুন কচি ডালপালায় ফল দেয়। তাই প্রতি বছর ফল তোলার পর ডালগুলোর অগ্রভাগ ১ ফুট করে ছেঁটে (Pruning) দিন। এতে নতুন কচি ডাল বের হবে এবং পরবর্তী ঋতুতে ফলন ডাবল হয়ে যাবে।

  • ফ্রুট ব্যাগিং (অত্যন্ত জরুরী): পেয়ারা যখন মার্বেল বা ছোট সুপুরির আকৃতির হবে, তখনই পুরো ফলটিকে সাদা পলিথিন (নিচে ছোট ছিদ্র করা) এবং তার ওপর পেপার বা কাগজ দিয়ে মুড়ে বেঁধে দিন (Fruit Bagging)। এটি করলে ফল মাছি পোকার আক্রমণ থেকে পেয়ারা সম্পূর্ণ রক্ষা পাবে এবং ফলের গায়ের রঙ চমৎকার ফর্সা ও দাগহীন হবে।

৪. সাধারণ রোগ ও প্রতিকার

  • মিলিবাগ (Mealybug): কচি ডাল ও পাতার নিচে সাদা তুলোর মতো পোকা বসে রস শুষে নেয়। এটি দেখলে জলের স্প্রে দিয়ে ধুয়ে দিন অথবা ১ লিটার জলে ২ মিলি নিম তেল ও লিকুইড soap মিশিয়ে স্প্রে করুন।

  • ছত্রাকের আক্রমণ: পাতায় বা ফলে কালো দাগ পড়া এড়াতে মাসে একবার ফাঙ্গিসাইড স্প্রে করা ভালো।

বাগানীদের জন্য কুইক টিপস: (APU Nursery) অপু নার্সারি থেকে চারা কেনার সময় সবসময় বিশ্বস্ত জায়গা থেকে গ্রাফটিং (জোড় কলম) থেকে তৈরি আসল “থাই গোল্ডেন ৮” পেয়ারার চারা সংগ্রহ করবেন। কলমের চারা হলে ড্রামে লাগানোর মাত্র ৩-৪ মাসের মধ্যেই গাছ জুড়ে চমৎকার আপেলের মতো মুচমুচে পেয়ারা পেতে শুরু করবেন।