Allahabad Safeda Guava / এলাহাবাদ সফেদা পেয়ারা

Guava

Showing all 8 results

পেয়ারা (Guava) গাছের সহজ এবং সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো। পেয়ারা ভিটামিন সি (Vitamin C) সমৃদ্ধ একটি অত্যন্ত সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর ফল। আজকাল ছাদবাগানে টবে বা ড্রামে চাষের জন্য থাই জাতের (যেমন: থাই-৫, থাই-৭, বা কেজি পেয়ারা) এবং বারোমাসি পেয়ারার কলমের চারা অত্যন্ত জনপ্রিয়।

পেয়ারা (Guava)

  • বৈজ্ঞানিক নাম (Scientific Name): Psidium guajava

  • ভারতের অন্যান্য আঞ্চলিক ভাষায় নাম (Other Common Names): অমরুদ (হিন্দি), পেরুক্কা (তামিল), জামা কায়া (telugu), পেরু (মারাঠি)। ইংরেজিতে একে 'গোয়াভা' (Guava) বলা হয়।

  • উৎস (Origin): মধ্য আমেরিকা এবং মেক্সিকো (তবে বহু বছর ধরে এটি ভারত ও বাংলাদেশে অত্যন্ত সহজলভ্য এবং প্রধান ফল হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে)।

  • গাছের ধরন (Plant Type): এটি একটি মাঝারি আকারের, বহুবর্ষজীবী (Perennial) এবং চিরসবুজ কাস্টল উদ্ভিদ। এর কান্ড মসৃণ এবং তামাটে-বাদামী রঙের ছালযুক্ত হয়। ছাদবাগানের জন্য কলমের (Grafted বা এয়ার লেয়ারিং) বামন জাতের গাছ ব্যবহার করা হয়, যা ছোট অবস্থাতেই বা টবে লাগানোর কয়েক মাসের মধ্যেই ফল দিতে শুরু করে। সঠিক পরিচর্যা পেলে টবের বারোমাসি গাছে প্রায় সারা বছরই কম-বেশি পেয়ারা পাওয়া যায়।

১. মাটির মিশ্রণ (Potting Mixture)

পেয়ারা গাছ যেকোনো মাটিতে মানিয়ে নিতে পারলেও উর্বর, ঝুরঝুরে এবং জলনিকাশী মাটিতে ফলন সবচেয়ে ভালো হয়। আদর্শ মিশ্রণ:

  • বাগানের সাধারণ দোআঁশ মাটি: ৫০%

  • ভার্মিকম্পোস্ট বা পুরনো পচা গোবর সার: ৩০%

  • নদীর কাদা ছাড়া বালি: ২০%

  • (এর সাথে ২ মুঠো হাড়ের গুঁড়ো, ২ মুঠো নিম খোল এবং ১ চামচ ফাঙ্গিসাইড পাউডার ভালো করে মিশিয়ে মাটি তৈরি করুন)।

  • টবের আকার: পেয়ারা গাছের ভালো বৃদ্ধির জন্য অন্তত ১৪-১৮ ইঞ্চির টব বা হাফ ড্রাম ব্যবহার করা উচিত।

২. পরিচর্যা নির্দেশিকা (Care Guide)

  • জল দেওয়ার নিয়ম: পেয়ারা গাছ মাঝারি আর্দ্রতা পছন্দ করে। টবের মাটির ওপরের স্তর শুকিয়ে গেলে তবেই জল দিন। গ্রীষ্মকালে নিয়মিত জল দেওয়া প্রয়োজন। তবে মনে রাখবেন, গাছে যখন প্রচুর ফুল আসবে, তখন জল দেওয়ার পরিমাণ সামান্য কমিয়ে দিতে হবে। ফুল থাকা অবস্থায় অতিরিক্ত জল দিলে বা মাটি একদম শুকিয়ে কড়া হয়ে গেলে ফুল ঝরে যেতে পারে। ফল বড় হওয়ার সময় নিয়মিত জল দিন।

  • সূর্যালোক: এটি একটি তীব্র সূর্যপ্রেমী গাছ। প্রচুর ফুল এবং মিষ্টি ফলের জন্য দিনে অন্তত ৬-৭ ঘণ্টা সরাসরি কড়া ও উজ্জ্বল সূর্যালোক পায় এমন জায়গায় টবটি রাখুন। ছায়ায় রাখলে গাছ শুধু লম্বাই হবে, ফল আসবে না।

  • থ্রিপিং বা ডাল ছাঁটাই (Pruning): পেয়ারা গাছে নতুন ডালে ফুল ও ফল আসে। তাই ফল তুলে নেওয়ার পর বা বর্ষার শেষে গাছের ডালপালা কিছুটা ছেঁটে দিন। এছাড়া কচি ডাল যখন ৫-৬ পাতা লম্বা হবে, তখন ডগার ২-৩টি পাতা নখ দিয়ে কেটে (Pinching) দিন। এতে চারপাশ থেকে প্রচুর নতুন ডাল বের হবে এবং ফলের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যাবে।

  • সার প্রয়োগ: গাছটি ভারী খাদক (Heavy feeder)। বছরে তিনবার (ফেব্রুয়ারি, জুন এবং অক্টোবর মাসে) টবের চারপাশের মাটি খুঁড়ে কম্পোস্ট, হাড়ের গুঁড়ো ও পটাশ সার দিন। এছাড়া ফল আসার পর প্রতি ১৫ দিন অন্তর পাতলা করে তৈরি করা সরষের খোল পচা তরল সার বা কলার খোসা ভেজানো জল দেওয়া খুব উপকারী।

৩. সাধারণ রোগ, পোকা-মাকড় ও প্রতিকার (Diseases, Pests & Cure)

  • সমস্যা:

    • মিলিব্যাগ (Mealybugs): পেয়ারা গাছের সবচেয়ে বড় শত্রু। ডাল ও পাতার সংযোগস্থলে সাদা তুলোর মতো এই পোকাগুলো বসে রস চুষে খায়, ফলে ফল ও ডাল নষ্ট হয়ে যায়।

    • ফল মাছি (Fruit Fly): এক ধরণের মাছি কচি পেয়ারার গায়ে হুল ফুটিয়ে ডিম পেড়ে যায়। এর ফলে পেয়ারা বড় হলে ভেতরে পোকা বা কীড়া তৈরি হয় এবং পেয়ারাটি পচে যায়।

    • অ্যানথ্রাকনোজ (Anthracnose): ছত্রাকজনিত এই রোগের কারণে পেয়ারার গায়ে ছোট ছোট কালো বা বাদামী দাগ পড়ে এবং ফল শক্ত হয়ে নষ্ট হয়ে যায়।

  • প্রতিকার:

    • মিলিব্যাগ ও অন্যান্য পোকা দূর করতে ১০-১২ দিন অন্তর ১ লিটার জলে ২ মিলি নিম তেল এবং কয়েক ফোঁটা লিকুইড সোপ মিশিয়ে ভালো করে স্প্রে করুন। আক্রমণ খুব বেশি হলে 'ইমিডাক্লোপ্রিড' কীটনাশক ব্যবহার করতে পারেন।

    • ফল মাছি থেকে বাঁচতে পেয়ারা যখন ছোট (মার্বেল আকৃতির) থাকবে, তখনই ছোট পলিথিন বা সুতির কাপড় দিয়ে ফলটি বেঁধে (Fruit Bagging) দিন। এটি পোকা থেকে ফল বাঁচানোর সবচেয়ে নিরাপদ ও জৈব পদ্ধতি।

    • ছত্রাকের আক্রমণ ও ফল পচা এড়াতে মাসে একবার ১ লিটার জলে ২ গ্রাম ফাঙ্গিসাইড (যেমন: সাফ) গুলে গাছে স্প্রে করুন।