Thai 7 Guava / থাই ৭ পেয়ারা

SKU: APU-THGU-1092 Category:
🌿 A quick note on nature: Like all of us, every plant is one-of-a-kind! The photos show a representative sample, but your actual plant may vary slightly in size, shape, or color based on the season. We think those little differences make them special.
  • 100% Original Plants
  • Safe & Secure Packaging
  • Pest and Disease Free
  • All India Shipping
  • Replacement if DOA

থাই ৭ পেয়ারা (Thai 7 Guava) বর্তমান সময়ে বাণিজ্যিক চাষী এবং ছাদবাগানীদের কাছে অন্যতম সফল, লাভজনক এবং অত্যন্ত বিশ্বস্ত একটি হাইব্রিড জাত। থাইল্যান্ডের এই জনপ্রিয় জাতটি তার বিশাল আকৃতি, চমৎকার ক্রিস্পি টেক্সচার এবং কম পরিশ্রমে বছর জুড়ে রেকর্ড পরিমানে ফলন দেওয়ার ক্ষমতার কারণে ফলপ্রেমীদের কাছে দারুণ সমাদৃত।

ছাদবাগানের একটি মাঝারি সাইজের টব বা হাফ ড্রামে এই গাছটি খুব দ্রুত ঝোপালো হয়ে ওঠে এবং লাগানোর মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই ফল দেওয়া শুরু করে।

থাই ৭ পেয়ারার প্রধান বৈশিষ্ট্য (Characteristics)

  • ফলের বিশাল আকার: থাই ৭ পেয়ারার সবচেয়ে বড় চমক হলো এর আকার। সাধারণ দেশী পেয়ারার তুলনায় এটি অনেক বড় হয়। সঠিক পরিচর্যা পেলে প্রতিটি পেয়ারার ওজন প্রায় ৩০০ থেকে ৭০০ গ্রাম পর্যন্ত হতে পারে।

  • আকৃতি ও রূপ: ফলগুলো সাধারণত গোলগাল বা সামান্য ডিম্বাকার হয়। এর বাহ্যিক চামড়াটি কিছুটা অসমান বা সামান্য খাঁজকাটা (Bumpy surface) হতে পারে। সম্পূর্ণ পাকার পর এর গায়ের রঙ গাঢ় সবুজ থেকে হালকা হলুদাভ-সবুজ বর্ণ ধারণ করে।

  • ক্রিস্পি শাঁস ও কম বীজ (প্রধান আকর্ষণ): এর ভেতরের শাঁসটি ধবধবে সাদা রঙের এবং অত্যন্ত পুরু (Thick flesh) হয়। এই পেয়ারাটির মূল আকর্ষণ হলো এর মুচমুচে বা ক্রঞ্চ (Crunchy) টেক্সচার। ফলটি আধা-পাকা বা কাঁচা-পাকা অবস্থায় খেলেও আপেলের মতো মুচমুচে লাগে। ফলের কেন্দ্রে বীজের পরিমাণ বেশ কম থাকে এবং বীজগুলো নরম প্রকৃতির হয়।

  • স্বাদ: থাই ৭ পেয়ারার স্বাদ অত্যন্ত রিফ্রেশিং এবং হালকা থেকে মাঝারি মিষ্টি (Mild sweet) প্রকৃতির হয়। শীতকালে উৎপাদিত পেয়ারাগুলোর মিষ্টিতা গরম বা বর্ষাকালের চেয়ে অনেক বেশি এবং চমৎকার মানের হয়।

  • বারোমাসি ও অবিশ্বাস্য ফলন: এটি একটি অত্যন্ত উচ্চ ফলনশীল এবং বারোমাসি (All-time) জাত। ছাদবাগানের একটি গাছে একই সাথে ফুল, ছোট গুটি এবং বড় পেয়ারা সবসময়ই ঝুলতে দেখা যায়।

১. মাটির মিশ্রণ ও ড্রাম নির্বাচন

অন্যান্য হাইব্রিড পেয়ারা গাছের মতোই থাই ৭ গাছ গোড়ায় জল জমে থাকা একদম সহ্য করতে পারে না। এর জন্য পুষ্টিসমৃদ্ধ ও দ্রুত জলনিকাশী মাটি প্রয়োজন। আদর্শ মিশ্রণ:

  • বাগানের সাধারণ দোআঁশ বা বেলে-দোআঁশ মাটি: ৫০%

  • ভার্মিকম্পোস্ট বা পুরনো পচা গোবর সার: ৩০%

  • নদীর কাদারহিত বালি: ২০%

  • (মাটির পুষ্টি ও সুরক্ষার জন্য এর সাথে ৩ মুঠো হাড়ের গুঁড়ো, ২ মুঠো শিং কুচি, ২ মুঠো নিম খোল এবং ১ চামচ ফাঙ্গিসাইড পাউডার খুব ভালো করে মিশিয়ে মাটি তৈরি করুন)।

  • টব বা ড্রামের আকার: যেহেতু পেয়ারাটির সাইজ বেশ বড় হয়, তাই এর ভরপুর ফলন ও পুষ্টি ধরে রাখতে শুরুতে অন্তত ১৪ থেকে ১৬ ইঞ্চির টব অথবা সবচেয়ে ভালো হয় একটি ১৮ থেকে ২২ ইঞ্চির হাফ ড্রাম ব্যবহার করলে।

২. পরিচর্যা নির্দেশিকা (Care Guide)

  • জল দেওয়ার নিয়ম: মাটিতে সবসময় হালকা আর্দ্রতা (Moisture) বজায় রাখুন, কিন্তু মাটি কাদা বা প্যাচপ্যাচে করবেন না। মাটির ওপরের স্তর সামান্য শুকিয়ে গেলেই জল দিন। গাছে যখন একসাথে প্রচুর ফুল আসবে, তখন জল সামান্য কমিয়ে দিন। ফুল থেকে যখন ছোট গুটি সেট হয়ে যাবে, তখন আবার নিয়মিত পর্যাপ্ত জল দিতে হবে।

  • সূর্যালোক: এটি একটি তীব্র সূর্যপ্রেমী (Sun-loving) গাছ। ফলের ভালো সাইজ এবং দ্রুত বৃদ্ধির জন্য দিনে অন্তত ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা সরাসরি কড়া ও উজ্জ্বল সূর্যালোক পায় এমন খোলা জায়গায় ড্রামটি রাখুন।

  • সার প্রয়োগ (নিয়মিত পুষ্টি): যেহেতু এটি বারোমাসি গাছ এবং ফলের সাইজ বড় হয়, তাই এর খাবারের চাহিদা একটু বেশি থাকে।

    • বছরে দুইবার প্রধান সার: বর্ষার আগে (মে-জুন) এবং শীতের শুরুতে (নভেম্বর) ড্রামের চারপাশের মাটি হালকা খুঁড়ে কম্পোস্ট সার, হাড়ের গুঁড়ো, শিং কুচি এবং নিম খোল মিশিয়ে দিন।

    • নিয়মিত পুষ্টি: প্রতি ১৫-২০ দিন অন্তর পাতলা সরষের খোল পচা তরল সার অথবা কলার খোসা ভেজানো পটাশ সমৃদ্ধ জল দিন।

    • বোরন: ফুল থেকে ফল সেটিং ভালো হওয়ার জন্য এবং ফলের বিকৃতি রোধ করতে কচি গুটি আসার পর ১ লিটার জলে ২ গ্রাম বোরন (Boron) গুলে স্প্রে করতে পারেন।

৩. প্রুনিং (Pruning) ও ফ্রুট ব্যাগিং (Fruit Bagging)

  • ডাল ছাঁটাই বা প্রুনিং: থাই ৭ পেয়ারা গাছের ফলন বাড়ানোর মূল চাবিকাঠি হলো ছাঁটাই। পেয়ারা সবসময় নতুন কচি ডালপালায় ফল দিয়ে থাকে। তাই প্রতি বছর ফল তোলার পর ডালগুলোর অগ্রভাগ ১-২ ফুট করে ছেঁটে (Pruning) দিন। এতে নতুন কচি ডাল বের হবে এবং পরবর্তী ঋতুতে ফলন বহুগুণ বেড়ে যাবে।

  • ফ্রুট ব্যাগিং (অত্যন্ত জরুরী): পেয়ারা যখন মার্বেল বা ছোট সুপুরির আকৃতির হবে, তখনই পুরো ফলটিকে সাদা পলিথিন (নিচে ছোট ছিদ্র করা) এবং তার ওপর পেপার বা কাগজ দিয়ে মুড়ে বেঁধে দিন (Fruit Bagging)। এটি করলে ফল মাছি পোকার আক্রমণ থেকে পেয়ারা সম্পূর্ণ রক্ষা পাবে এবং ফলের গায়ের রঙ চমৎকার ফর্সা, দাগহীন ও আকর্ষণীয় হবে।

৪. সাধারণ রোগ ও প্রতিকার

  • মিলিবাগ (Mealybug): কচি ডাল ও পাতার নিচে সাদা তুলোর মতো পোকা বসে রস শুষে নেয়। এটি দেখলে জোরেশোরে জলের স্প্রে দিয়ে ধুয়ে দিন অথবা ১ লিটার জলে ২ মিলি নিম তেল ও লিকুইড সোপ মিশিয়ে স্প্রে করুন।

  • ছত্রাকের আক্রমণ: পাতায় বা ফলে কালো দাগ পড়া এড়াতে মাসে একবার ফাঙ্গিসাইড (যেমন: সাফ বা ব্লু-কপার) স্প্রে করা ভালো।

বাগানীদের জন্য কুইক টিপস: ছাদবাগানের জন্য সবসময় কোনো বিশ্বস্ত (APU Nursery) অপু নার্সারি থেকে গ্রাফটিং (জোড় কলম) বা গুটি কলম থেকে তৈরি আসল “থাই ৭” পেয়ারার চারা সংগ্রহ করবেন। কলমের চারা হলে ড্রামে লাগানোর মাত্র ৩-৪ মাসের মধ্যেই গাছ জুড়ে চমৎকার বড় বড় মুচমুচে পেয়ারা পেতে শুরু করবেন।