পালমার (Palmer)

SKU: APU-PAL-1385 Category:
🌿 A quick note on nature: Like all of us, every plant is one-of-a-kind! The photos show a representative sample, but your actual plant may vary slightly in size, shape, or color based on the season. We think those little differences make them special.
  • 100% Original Plants
  • Safe & Secure Packaging
  • Pest and Disease Free
  • All India Shipping
  • Replacement if DOA

পালমার (Palmer)

সিলেকশন ও আদি পরিচিতি (Selection & Native Origin Details)

  • আদি নিবাস (Native Origin): এই অত্যন্ত আকর্ষণীয় এবং বাণিজ্যিকভাবে সফল আমের জাতটির আদি উৎপত্তিস্থল মূলত ফ্লোরিডা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (Florida, USA)। ১৯২৫ সালের দিকে ফ্লোরিডার মায়ামি (Miami) অঞ্চলে মিসেস ভিক্টর মেল (Mrs. Victor Mell) এর বাগানে একটি বীজ থেকে এই গাছটির প্রথম উৎপত্তি হয় এবং ১৯৪৫ সালের দিকে এটি প্রথম একটি অনন্য জাত হিসেবে নতিভুক্ত ও প্রসার লাভ করে।

  • বাণিজ্যিক গুরুত্ব: ফ্লোরিডায় উৎপাদনে চমৎকার রেকর্ড থাকলেও বর্তমানে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিল (Brazil)-এর বাণিজ্যিক আম চাষের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় এবং বিশ্বজুড়ে প্রধান রপ্তানিযোগ্য জাত (Leading export variety) হিসেবে এটি রাজত্ব করছে। ইউরোপের বাজারে ব্রাজিল থেকে পাঠানো আমের সিংহভাগই এই পালমার জাতের।

  • জাতের প্রকৃতি (Type/Parentage): এটি ফ্লোরিডার বিখ্যাত হেইডেন (Haden) আমের একটি চ্যান্স সিডলিং বা প্রাকৃতিকভাবে মুক্ত পরাগায়নের মাধ্যমে তৈরি নির্বাচনী জাত (Chance Seedling) বলে ধারণা করা হয়। এর বীজ মূলত এক-ভ্রূণীয় (Monoembryonic)।

জাতের বৈশিষ্ট্য (Cultivar Characteristics)

  • গাছের বৃদ্ধি ও ধরণ: গাছটি জোরালো শক্তিশালী বৃদ্ধি সম্পন্ন (Vigorous grower) এবং এর ক্যানোপি বা ডালপালার বিন্যাস সোজা ও খাড়া প্রকৃতির (Upright canopy) হয়। এর পাতাগুলো বেশ লম্বা ও গাঢ় সবুজ রঙের হয়। ছাদবাগানে হাফ ড্রামে বা বড় কন্টেইনারে চাষের জন্য নিয়মিত ও সঠিক নিয়মে প্রুনিং (Pruning) বা ছাঁটাই করা আবশ্যক, যাতে গাছের আকার নিয়ন্ত্রণে থাকে।

  • ফলন: এটি অত্যন্ত উচ্চ ফলনশীল এবং একটি নির্ভরযোগ্য নিয়মিত ফলন দেওয়া জাত (Regular Bearer)।

  • ফলের আকৃতি ও ওজন:

    • আকৃতি: আমটির আকৃতি বেশ সুদৃশ্য—এটি লম্বাটে-ডিম্বাকৃতি বা নলাকার (Oblong-elongated / Cylindrical) ধরনের হয়ে থাকে। এর উপরিভাগ বা ত্বক অত্যন্ত মসৃণ ও পরিষ্কার হয়।

    • ওজন: এটি মূলত একটি বড় আকারের আম। প্রতিটি ফলের গড় ওজন সাধারণত ৬০০ থেকে ৯০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। সঠিক পরিচর্যা ও ভালো পুষ্টি পেলে এটি সহজে ১ কেজি ওজনও পার করতে পারে।

  • বাহ্যিক রূপ ও রঙ: এর প্রধান আকর্ষণ হলো এর অনন্য ও চোখধাঁধানো গায়ের রঙ। সম্পূর্ণ পরিপক্ব ও পাকার আগে থেকেই এর সবুজ ব্যাকগ্রাউন্ডের ওপর একটি চমৎকার গাঢ় লাল থেকে চেরি-লাল বা বেগুনি আভা (Stunning Dark Red to Purple/Cherry Blush) ফুটে ওঠে, যা ফলের পাকার পর আরও উজ্জ্বল দেখায়।

  • টিএসএস ব্রিক্স (মিষ্টতা): সাধারণত ১৪° থেকে ১৬° ব্রিক্স (Brix) পর্যন্ত হয়ে থাকে। তীব্র কড়া মিষ্টি না হলেও এর স্বাদে কোনো প্রকার টক ভাব বা অম্লতা থাকে না, যা হালকা ও পরিমিত মিষ্টি পছন্দকারীদের জন্য আদর্শ।

  • শাঁসের রঙ ও টেক্সচার: এর ভেতরের নিরেট শাঁস বা পাল্পটি চমৎকার গাঢ় হলুদ (Deep Yellow) রঙের হয়। এর শাঁস অত্যন্ত মাংসল, ঘন, রসালো এবং সম্পূর্ণ আঁশহীন (Completely fiberless)। এর টেক্সচার বা গঠন বেশ চমৎকার ও মাখনের মতো মসৃণ।

  • আঁটি ও বীজের বৈশিষ্ট্য: আমের বিশাল আকারের তুলনায় এর ভেতরের আঁটিটি বেশ পাতলা, লম্বা ও চ্যাপ্টা (Thin and elongated stone) হয়। এর ফলে ফলটিতে ভক্ষ্য শাঁসের অনুপাত বা পাল্প পার্সেন্টেজ (High pulp recovery) অনেক বেশি পাওয়া যায়।

  • পাকার সময়: এটি মূলত একটি নাবি মরশুমের (Late-season) জাত। আমাদের দেশের জলবায়ু ও আবহাওয়া অনুযায়ী সাধারণত জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু করে পুরো আগস্টের প্রথম সপ্তাহ জুড়ে এটি সংগ্রহের উপযুক্ত সময়ে পরিপক্ব হয়। যখন অন্যান্য আম শেষ হয়ে আসে, তখন এই আমটি বাজারে আসে।

  • সংরক্ষণ গুণমান: অত্যন্ত চমৎকার (Excellent shelf life)। এর ত্বক বা খোসা কিছুটা পুরু ও প্রতিরক্ষামূলক হওয়ায় সম্পূর্ণ পাকার পরেও এটি সহজে নষ্ট বা নরম হয় না। সংগ্রহের পর সাধারণ ঘরের তাপমাত্রায় এটি দীর্ঘ সময় ভালো থাকে, যা দূরপাল্লার আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক পরিবহনের জন্য একে একটি শীর্ষস্থানীয় জাত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

স্বাদ ও সুবাসের প্রোফাইল (Flavor Profile)

পালমার আমটি তার অত্যন্ত মৃদু, সুমিষ্ট এবং ট্রপিক্যাল আমের ফ্লেভারের জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। এতে তীব্র গন্ধের পরিবর্তে একটি চমৎকার হালকা সুমিষ্ট সুবাস (Mild pleasant aroma) পাওয়া যায়। এর শাঁসে কোনো প্রকার তন্তু বা আঁশ না থাকায় এটি সরাসরি স্লাইস করে বা চামচ দিয়ে কেটে প্রিমিয়াম টেবিল ফ্রুট হিসেবে খাওয়ার জন্য অত্যন্ত চমৎকার। এছাড়াও এর নিরেট শাঁসের কারণে এটি দিয়ে বাণিজ্যিক জুস বা ডেজার্ট তৈরিতে দারুণ ফল পাওয়া যায়।