Black Diamond Guava / ব্ল্যাক ডায়মন্ড পেয়ারা

SKU: APU-BLDI-1117 Category:
🌿 A quick note on nature: Like all of us, every plant is one-of-a-kind! The photos show a representative sample, but your actual plant may vary slightly in size, shape, or color based on the season. We think those little differences make them special.
  • 100% Original Plants
  • Safe & Secure Packaging
  • Pest and Disease Free
  • All India Shipping
  • Replacement if DOA

ব্ল্যাক ডায়মন্ড পেয়ারা (Black Diamond Guava) বর্তমান সময়ে ছাদবাগানীদের কাছে অত্যন্ত কৌতূহল উদ্দীপক, বিরল এবং একটি চরম আভিজাত্যপূর্ণ প্রিমিয়াম ডার্ক-হাইব্রিড জাত। থাইল্যান্ডের ডায়মন্ড সিরিজের (রেড ও হোয়াইট ডায়মন্ড) পর এটি পেয়ারা জগতে সম্পূর্ণ নতুন একটি চমক হিসেবে হাজির হয়েছে।

এর অনন্য ডার্ক বা কালচে রঙের পাতা, কান্ড এবং ফল ছাদবাগানের পুরো চেহারাটাই বদলে দেয়। সাধারণ পেয়ারার চেয়ে এটি দেখতে যেমন রাজকীয়, এর ফলন ও স্বাদের গুণগত মানও তেমনই চমৎকার।

ব্ল্যাক ডায়মন্ড পেয়ারার প্রধান বৈশিষ্ট্য (Characteristics)

  • অনন্য কালচে-বেগুনী রূপ (প্রধান আকর্ষণ): এই জাতটির সবচেয়ে বড় চমক হলো এর অদ্ভুত সুন্দর কালচে-বেগুনী রূপ। এর কচি ডাল, পাতা এবং ফল—সবকিছুর মধ্যেই একটি গাঢ় খয়েরি, কালচে-বেগুনী বা চকলেট রঙের (Deep Purple/Blackish-Maroon) আভা দেখা যায়। সম্পূর্ণ পাকার পরও ফলের বাইরের খোসাটি কালচে-বেগুনী রঙের থাকে, যা দূর থেকে দেখলে ডার্ক চকোলেট বা কালো হীরার (Black Diamond) মতো দেখায়।

  • ভেতরের শাঁস ও টেক্সচার: খোসা ছাড়ালে এর ভেতরে সাধারণত গাঢ় গোলাপী থেকে রক্তলাল (Deep Pink to Ruby Red) রঙের শাঁস বা পাল্প পাওয়া যায়। এর শাঁসটি বেশ পুরু ও ঘন হয়। এই ফলের গাঢ় রঙ মূলত প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন অ্যান্থোসায়ানিন এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের উপস্থিতি নির্দেশ করে।

  • খুব কম বীজ: ডায়মন্ড সিরিজের অন্যান্য পেয়ারার মতোই এতে বীজের পরিমাণ থাকে অত্যন্ত কম। ফলের একেবারে কেন্দ্রে সামান্য একটু অংশে নরম বীজ পুঞ্জীভূত থাকে, যা খাওয়ার সময় মুখে একদমই বাঁধে না।

  • মুচমুচে ও রিফ্রেশিং মিষ্টি স্বাদ: এর টেক্সচারটি চমৎকার মুচমুচে বা ক্রিস্পি (Crunchy)। এটি অত্যন্ত রসালো এবং এর মিষ্টিতা বেশ কড়া প্রকৃতির হয়। কালচে খোসা ও লাল শাঁসের এই পেয়ারাটি কামড় দিয়ে খাওয়ার অভিজ্ঞতা একদম অন্যরকম অনুভূতি দেয়।

  • বারোমাসি ফলন: এটি একটি অত্যন্ত উচ্চ ফলনশীল এবং বারোমাসি (All-time) জাত। ছাদবাগানের একটি গাছে একই সাথে ফুল, ছোট কচি গুটি এবং পাকা কালচে পেয়ারা বছর জুড়েই ঝুলতে দেখা যায়।

১. মাটির মিশ্রণ ও ড্রাম নির্বাচন

ব্ল্যাক ডায়মন্ড পেয়ারা গাছ কড়া রোদ সহ্য করতে পারলেও গোড়ায় জল জমে থাকা একদম সহ্য করতে পারে না। এর জন্য পুষ্টিসমৃদ্ধ ও দ্রুত জলনিকাশী মাটি প্রয়োজন। আদর্শ মিশ্রণ:

  • বাগানের সাধারণ দোআঁশ বা বেলে-দোআঁশ মাটি: ৫০%

  • ভার্মিকম্পোস্ট বা পুরনো পচা গোবর সার: ৩০%

  • নদীর কাদারহিত বালি: ২০%

  • (মাটির পুষ্টি ও সুরক্ষার জন্য এর সাথে ৩ মুঠো হাড়ের গুঁড়ো, ২ মুঠো শিং কুচি, ২ মুঠো নিম খোল এবং ১ চামচ ফাঙ্গিসাইড পাউডার খুব ভালো করে মিশিয়ে মাটি তৈরি করুন)।

  • টব বা ড্রামের আকার: এর ভরপুর ফলন ধরে রাখতে শুরুতে অন্তত ১৪ থেকে ১৬ ইঞ্চির টব অথবা সবচেয়ে ভালো হয় একটি ১৮ থেকে ২২ ইঞ্চির হাফ ড্রাম ব্যবহার করলে।

২. পরিচর্যা নির্দেশিকা (Care Guide)

  • জল দেওয়ার নিয়ম: মাটিতে সবসময় হালকা আর্দ্রতা (Moisture) বজায় রাখুন, কিন্তু মাটি কাদা করবেন না। মাটির ওপরের স্তর সামান্য শুকিয়ে গেলেই জল দিন। গাছে যখন ফুল আসবে, তখন জল সামান্য কমিয়ে দিন। ফুল থেকে যখন ছোট গুটি সেট হয়ে যাবে, তখন আবার নিয়মিত পর্যাপ্ত জল দিতে হবে।

  • সূর্যালোক (রঙ ফুটিয়ে তোলার চাবিকাঠি): এটি একটি চরম সূর্যপ্রেমী (Sun-loving) গাছ। এর পাতার গাঢ় কালচে রঙ এবং ফলের সুন্দর ডার্ক কালার ফুটিয়ে তোলার জন্য দিনে অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা সরাসরি কড়া ও তীব্র সূর্যালোক পায় এমন খোলা জায়গায় বা ছাদে ড্রামটি রাখুন। আলো কম পেলে পাতার রঙ সবুজ হয়ে যেতে পারে।

  • সার প্রয়োগ (নিয়মিত পুষ্টি): যেহেতু এটি বারোমাসি গাছ, তাই এর খাবারের চাহিদা একটু বেশি থাকে।

    • বছরে দুইবার প্রধান সার: বর্ষার আগে (মে-জুন) এবং শীতের শুরুতে (নভেম্বর) ড্রামের চারপাশের মাটি হালকা খুঁড়ে কম্পোস্ট সার, হাড়ের গুঁড়ো, শিং কুচি এবং নিম খোল মিশিয়ে দিন।

    • নিয়মিত পুষ্টি: প্রতি ১৫-২০ দিন অন্তর পাতলা সরষের খোল পচা তরল সার অথবা কলার খোসা ভেজানো পটাশ সমৃদ্ধ জল দিন।

    • বোরন ও মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট: ফুল থেকে ফল সেটিং ভালো হওয়ার জন্য এবং ফলের চামড়া নিখুঁত রাখতে কচি গুটি আসার পর ১ লিটার জলে ২ গ্রাম বোরন (Boron) গুলে স্প্রে করতে পারেন।

৩. প্রুনিং (Pruning) ও ফ্রুট ব্যাগিং (Fruit Bagging)

  • ডাল ছাঁটাই বা প্রুনিং: পেয়ারা গাছ সবসময় নতুন কচি ডালপালায় (New shoots) ফল দিয়ে থাকে। তাই প্রতি বছর ফল তোলার পর ডালগুলোর অগ্রভাগ ১-২ ফুট করে ছেঁটে (Pruning) দিন। এতে নতুন নতুন ডার্ক কচি ডাল বের হবে এবং পরবর্তী ঋতুতে ফলন বহুগুণ বেড়ে যাবে।

  • ফ্রুট ব্যাগিং: ব্ল্যাক ডায়মন্ড পেয়ারা মিষ্টি ও রসালো হওয়ায় এতে ফল মাছি পোকার আক্রমণ হতে পারে। তাই পেয়ারা যখন মার্বেল বা ছোট সুপুরির আকৃতির হবে, তখনই পুরো ফলটিকে সাদা পলিথিন (নিচে ছোট ছিদ্র করা) এবং তার ওপর পেপার বা কাগজ দিয়ে মুড়ে বেঁধে দিন (Fruit Bagging)।

৪. সাধারণ রোগ ও প্রতিকার

  • মিলিবাগ (Mealybug): কচি ডাল ও পাতার নিচে সাদা তুলোর মতো পোকা বসে রস শুষে নেয়। এটি দেখলে জোরেশোরে জলের স্প্রে দিয়ে ধুয়ে দিন অথবা ১ লিটার জলে ২ মিলি নিম তেল ও লিকুইড সোপ মিশিয়ে স্প্রে করুন।

  • ছত্রাকের আক্রমণ: পাতায় বা ফলে কালো দাগ পড়া এড়াতে মাসে একবার ফাঙ্গিসাইড (যেমন: সাফ বা ব্লু-কপার) স্প্রে করা ভালো।

বাগানীদের জন্য কুইক টিপস: ব্ল্যাক ডায়মন্ড পেয়ারার গাছ চেনা খুবই সহজ কারণ এর কচি পাতা ও ডালপালা গাঢ় খয়েরি বা চকলেট কালারের হয়, যা সাধারণ সবুজ পেয়ারা গাছের চেয়ে একদম আলাদা। ছাদবাগানে ইউনিক লুক আনতে এবং চমৎকার কালচে রঙের কড়া মিষ্টি পেয়ারা পেতে কোনো বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য (APU Nursery) অপু নার্সারি থেকে গ্রাফティング (জোড় কলম) করা আসল চারা সংগ্রহ করবেন।