Red Diamond Guava / রেড ডায়মন্ড পেয়ারা

SKU: APU-REDI-1107 Category:
🌿 A quick note on nature: Like all of us, every plant is one-of-a-kind! The photos show a representative sample, but your actual plant may vary slightly in size, shape, or color based on the season. We think those little differences make them special.
  • 100% Original Plants
  • Safe & Secure Packaging
  • Pest and Disease Free
  • All India Shipping
  • Replacement if DOA

রেড ডায়মন্ড পেয়ারা (Red Diamond Guava) বর্তমান সময়ে ছাদবাগানীদের কাছে সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত, আভিজাত্যপূর্ণ এবং প্রিমিয়াম একটি হাইব্রিড পেয়ারার জাত। থাইল্যান্ডের এই জাতটিকে পেয়ারা জগতের “সবচেয়ে দামী এবং সেরা” জাতগুলোর একটি হিসেবে গণ্য করা হয়।

এর অবিশ্বাস্য টকটকে লাল রঙ, তরমুজের মতো কম বীজ এবং আপেলের মতো মুচমুচে মিষ্টি স্বাদের কারণে এটি বাজারে যেমন চড়া দামে বিক্রি হয়, তেমনই ছাদবাগানের হাফ ড্রামে খুব কম যত্নেই বছর জুড়ে চমৎকার ফলন দেয়।

রেড ডায়মন্ড পেয়ারার প্রধান বৈশিষ্ট্য (Characteristics)

  • অনন্য বাহ্যিক রূপ: রেড ডায়মন্ড পেয়ারা আকারে বেশ বড় (প্রায় ৩০০ থেকে ৫০০ গ্রাম) এবং দেখতে কিছুটা ডিম্বাকার বা নাশপাতির মতো লম্বাটে গোল হয়। এর বাহ্যিক চামড়াটি বেশ মসৃণ ও চকচকে হয় এবং সম্পূর্ণ পাকার পরও এর গায়ের রঙ চমৎকার গাঢ় সবুজ (Deep Green) থাকে।

  • টকটকে রক্তলাল শাঁস (Ruby Red Flesh – প্রধান আকর্ষণ): এর সবচেয়ে বড় চমক ও ইউএসপি (USP) হলো এর ভেতরের শাঁস। ফলটি কাটার সাথে সাথেই চোখ জুড়িয়ে দেওয়া চমৎকার টকটকে রক্তলাল বা রুবি রেড কালারের শাঁস দেখা যায়। এই গাঢ় লাল রঙের শাঁসে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও লাইকোপিন থাকে।

  • তরমুজের মতো কম বীজ (Seedless-like textue): সাধারণ পেয়ারার মতো এর ভেতরে বীজের কোনো হিজিবিজি বা শক্ত শক্ত দানা থাকে না। এর বীজ অত্যন্ত কম এবং ফলের একেবারে কেন্দ্রে সামান্য একটু অংশে পুঞ্জীভূত থাকে। বীজগুলো এতই নরম যে খাওয়ার সময় মুখে একদমই বাঁধে না, মনে হয় যেন বীজহীন পেয়ারা খাচ্ছেন।

  • আপেলের মতো ক্রিস্পি ও কড়া মিষ্টি স্বাদ: থাই পেয়ারাগুলো সাধারণত কিছুটা পানসে হলেও রেড ডায়মন্ড সম্পূর্ণ আলাদা। এটি অত্যন্ত রসালো, মধুর মতো কড়া মিষ্টি এবং এর টেক্সচারটি চমৎকার মুচমুচে বা ক্রঞ্চ (Extremely Crunchy)। কামড় দিলে হুবহু একটি ভালো জাতের আপেল খাওয়ার মতো অনুভূতি হয়।

  • বারোমাসি ফলন: এটি একটি অত্যন্ত উচ্চ ফলনশীল এবং বারোমাসি (All-time) জাত। ছাদবাগানের একটি গাছে একই সাথে ফুল, ছোট কচি গুটি এবং পাকা পেয়ারা সবসময়ই ঝুলতে দেখা যায়।

১. মাটির মিশ্রণ ও ড্রাম নির্বাচন

রেড ডায়মন্ড পেয়ারা গাছ গোড়ায় জল জমে থাকা একদম সহ্য করতে পারে না। এর জন্য পুষ্টিসমৃদ্ধ ও দ্রুত জলনিকাশী মাটি প্রয়োজন। আদর্শ মিশ্রণ:

  • বাগানের সাধারণ দোআঁশ বা বেলে-দোআঁশ মাটি: ৫০%

  • ভার্মিকম্পোস্ট বা পুরনো পচা গোবর সার: ৩০%

  • নদীর কাদারহিত বালি: ২০%

  • (মাটির পুষ্টি ও সুরক্ষার জন্য এর সাথে ৩ মুঠো হাড়ের গুঁড়ো, ২ মুঠো শিং কুচি, ২ মুঠো নিম খোল এবং ১ চামচ ফাঙ্গিসাইড পাউডার খুব ভালো করে মিশিয়ে মাটি তৈরি করুন)।

  • টব বা ড্রামের আকার: যেহেতু ফলটির পুষ্টির চাহিদা বেশি এবং ফলের সাইজ বড় হয়, তাই এর ভরপুর ফলন ধরে রাখতে শুরুতে অন্তত ১৪ থেকে ১৬ ইঞ্চির টব অথবা সবচেয়ে ভালো হয় একটি ১৮ থেকে ২২ ইঞ্চির হাফ ড্রাম ব্যবহার করলে।

২. পরিচর্যা নির্দেশিকা (Care Guide)

  • জল দেওয়ার নিয়ম: মাটিতে সবসময় হালকা আর্দ্রতা (Moisture) বজায় রাখুন, কিন্তু মাটি কাদা বা প্যাচপ্যাচে করবেন না। মাটির ওপরের স্তর সামান্য শুকিয়ে গেলেই জল দিন। গাছে যখন একসাথে প্রচুর ফুল আসবে, তখন জল সামান্য কমিয়ে দিন। ফুল থেকে যখন ছোট গুটি সেট হয়ে যাবে, তখন আবার নিয়মিত পর্যাপ্ত জল দিতে হবে। জলের ভারসাম্য ঠিক না থাকলে কচি গুটি ঝরে যেতে পারে।

  • সূর্যালোক: এটি একটি তীব্র সূর্যপ্রেমী (Sun-loving) গাছ। ফলের কড়া মিষ্টি স্বাদ এবং ভেতরের সুন্দর লাল রঙ ফুটিয়ে তোলার জন্য দিনে অন্তত ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা সরাসরি কড়া ও উজ্জ্বল সূর্যালোক পায় এমন খোলা জায়গায় বা ছাদে ড্রামটি রাখুন।

  • সার প্রয়োগ (নিয়মিত পুষ্টি): যেহেতু এটি বারোমাসি গাছ, তাই এর খাবারের চাহিদা একটু বেশি থাকে।

    • বছরে দুইবার প্রধান সার: বর্ষার আগে (মে-জুন) এবং শীতের শুরুতে (নভেম্বর) ড্রামের চারপাশের মাটি হালকা খুঁড়ে কম্পোস্ট সার, হাড়ের গুঁড়ো, শিং কুচি এবং নিম খোল মিশিয়ে দিন।

    • নিয়মিত পুষ্টি: প্রতি ১৫-২০ দিন অন্তর পাতলা সরষের খোল পচা তরল সার অথবা কলার খোসা ভেজানো পটাশ সমৃদ্ধ জল দিন।

    • বোরন ও ক্যালসিয়াম: ফুল থেকে ফল সেটিং ভালো হওয়ার জন্য এবং ফলের চামড়া নিখুঁত রাখতে কচি গুটি আসার পর ১ লিটার জলে ২ গ্রাম বোরন (Boron) গুলে স্প্রে করতে পারেন।

৩. প্রুনিং (Pruning) ও ফ্রুট ব্যাগিং (Fruit Bagging – অত্যন্ত জরুরী)

  • ডাল ছাঁটাই বা প্রুনিং: পেয়ারা গাছ সবসময় নতুন কচি ডালপালায় (New shoots) ফল দিয়ে থাকে। তাই প্রতি বছর ফল তোলার পর ডালগুলোর অগ্রভাগ ১-২ ফুট করে ছেঁটে (Pruning) দিন। এতে নতুন কচি ডাল বের হবে এবং পরবর্তী ঋতুতে ফলন বহুগুণ বেড়ে যাবে।

  • ফ্রুট ব্যাগিং: রেড ডায়মন্ড পেয়ারা মিষ্টি ও রসালো হওয়ায় এতে ফল মাছি পোকার আক্রমণ বেশি হতে পারে। তাই পেয়ারা যখন মার্বেল বা ছোট সুপুরির আকৃতির হবে, তখনই পুরো ফলটিকে সাদা পলিথিন (নিচে ছোট ছিদ্র করা) এবং তার ওপর পেপার বা কাগজ দিয়ে মুড়ে বেঁধে দিন (Fruit Bagging)। এটি করলে ফল মাছি পোকার আক্রমণ থেকে পেয়ারা সম্পূর্ণ রক্ষা পাবে এবং ফলের গায়ের রঙ চমৎকার দাগহীন ও আকর্ষণীয় হবে।

৪. সাধারণ রোগ ও প্রতিকার

  • মিলিবাগ (Mealybug): কচি ডাল ও পাতার নিচে সাদা তুলোর মতো পোকা বসে রস শুষে নেয়। এটি দেখলে জোরেশোরে জলের স্প্রে দিয়ে ধুয়ে দিন অথবা ১ লিটার জলে ২ মিলি নিম তেল ও লিকুইড সোপ মিশিয়ে স্প্রে করুন।

  • ছত্রাকের আক্রমণ: পাতায় বা ফলে কালো দাগ পড়া এড়াতে মাসে একবার ফাঙ্গিসাইড (যেমন: সাফ বা ব্লু-কপার) স্প্রে করা ভালো।

বাগানীদের জন্য কুইক টিপস: বাজারে রেড ডায়মন্ডের নামে অনেক সময় সাধারণ লাল বা থাই পেয়ারার চারা ধরিয়ে দেওয়া হয়। তাই চারা কেনার সময় পাতা ভালো করে খেয়াল করবেন—আসল রেড ডায়মন্ড পেয়ারার পাতাগুলো সাধারণ পেয়ারা পাতার চেয়ে কিছুটা বড়, লম্বাটে, মোটা এবং সামান্য ঢেউখেলানো টাইপের হয়। সবসময় কোনো বিশ্বস্ত (APU Nursery) অপু নার্সারি থেকে গ্রাফটিং (জোড় কলম) থেকে তৈরি আসল চারা সংগ্রহ করবেন।