White Diamond Guava / হোয়াইট ডায়মন্ড পেয়ারা

SKU: APU-WHDI-1112 Category:
🌿 A quick note on nature: Like all of us, every plant is one-of-a-kind! The photos show a representative sample, but your actual plant may vary slightly in size, shape, or color based on the season. We think those little differences make them special.
  • 100% Original Plants
  • Safe & Secure Packaging
  • Pest and Disease Free
  • All India Shipping
  • Replacement if DOA

হোয়াইট ডায়মন্ড পেয়ারা (White Diamond Guava) বর্তমান সময়ে ছাদবাগানীদের কাছে অত্যন্ত কাঙ্ক্ষিত, অভিজাত এবং একটি প্রিমিয়াম থাই হাইব্রিড পেয়ারার জাত। বিখ্যাত ‘রেড ডায়মন্ড’ পেয়ারার মতোই এই জাতটিকেও পেয়ারা জগতের “সুপার প্রিমিয়াম” ক্যাটাগরিতে গণ্য করা হয়।

যারা রেড ডায়মন্ডের মতো কম বীজ ও আপেলের মতো অবিশ্বাস্য মুচমুচে টেক্সচার পছন্দ করেন, কিন্তু ভেতরের শাঁসটি ধবধবে সাদা এবং রাজকীয় কড়া মিষ্টি স্বাদের চান—তাদের জন্য হোয়াইট ডায়মন্ড হলো ছাদবাগানের সেরা কালেকশন।

হোয়াইট ডায়মন্ড পেয়ারার প্রধান বৈশিষ্ট্য (Characteristics)

  • আকার ও রূপ: হোয়াইট ডায়মন্ড পেয়ারা আকারে বেশ বড় এবং ভারী হয়। সঠিক পরিচর্যা পেলে প্রতিটি পেয়ারার ওজন প্রায় ৩০০ থেকে ৬০০ গ্রাম পর্যন্ত হতে পারে। এর আকৃতিটি নিটোল গোল বা সামান্য ডিম্বাকার হয় এবং এর বাহ্যিক চামড়াটি বেশ মসৃণ ও চকচকে হয়। সম্পূর্ণ পাকার পরও এর খোসাটি চমৎকার উজ্জ্বল সবুজ বা হালকা হলুদাভ-সবুজ আভা ধারণ করে।

  • ক্রিস্টাল হোয়াইট শাঁস (Snow White Flesh – প্রধান আকর্ষণ): ফলটি কাটার পর এর ভেতরে দেখা যায় ধবধবে তুষার-শুভ্র বা ক্রিস্টাল সাদা রঙের অত্যন্ত পুরু শাঁস (Thick Flesh)। এর শাঁসটি অন্য যেকোনো সাধারণ সাদা পেয়ারার চেয়ে অনেক বেশি ঘন ও নিটোল হয়।

  • নামমাত্র বীজ (Seedless-like textue): রেড ডায়মন্ডের মতোই হোয়াইট ডায়মন্ডের সবচেয়ে বড় ইউএসপি (USP) হলো এর ভেতরের অংশ। এতে বীজের পরিমাণ একেবারেই নগণ্য বা নামমাত্র। বীজের অংশটি ফলের একেবারে কেন্দ্রে সামান্য একটু জায়গায় পুঞ্জীভূত থাকে এবং বীজগুলো খুবই নরম হয়, যা খাওয়ার সময় মুখে একদমই ফিল হয় না।

  • আপেলের মতো ক্রঞ্চ ও রাজকীয় মিষ্টি স্বাদ: এই পেয়ারাটি অত্যন্ত রসালো এবং এর মিষ্টিতা বা ব্রিক্স লেভেল (Brix level) অন্য সব সাধারণ থাই পেয়ারার চেয়ে অনেক বেশি। এর টেক্সচারটি চমৎকার মুচমুচে বা ক্রিস্পি (Extremely Crunchy)। কামড় দিলে হুবহু একটি প্রিমিয়াম কোয়ালিটির আপেল বা নাশপাতি খাওয়ার মতো অনুভূতি হয়।

  • বারোমাসি ফলন: এটি একটি অত্যন্ত উচ্চ ফলনশীল এবং বারোমাসি (All-time) জাত। ছাদবাগানের একটি গাছে একই সাথে ফুল, ছোট কচি গুটি এবং পাকা পেয়ারা বছর জুড়েই ঝুলতে দেখা যায়।

১. মাটির মিশ্রণ ও ড্রাম নির্বাচন

অন্যান্য হাইব্রিড পেয়ারা গাছের মতোই হোয়াইট ডায়মন্ড গাছ গোড়ায় জল জমে থাকা একদম সহ্য করতে পারে না। এর জন্য পুষ্টিসমৃদ্ধ ও দ্রুত জলনিকাশী মাটি প্রয়োজন। আদর্শ মিশ্রণ:

  • বাগানের সাধারণ দোআঁশ বা বেলে-দোআঁশ মাটি: ৫০%

  • ভার্মিকম্পোস্ট বা পুরনো পচা গোবর সার: ৩০%

  • নদীর কাদারহিত বালি: ২০%

  • (মাটির পুষ্টি ও সুরক্ষার জন্য এর সাথে ৩ মুঠো হাড়ের গুঁড়ো, ২ মুঠো শিং কুচি, ২ মুঠো নিম খোল এবং ১ চামচ ফাঙ্গিসাইড পাউডার খুব ভালো করে মিশিয়ে মাটি তৈরি করুন)।

  • টব বা ড্রামের আকার: যেহেতু ফলটির পুষ্টির চাহিদা বেশি এবং ফলের সাইজ বড় হয়, তাই এর ভরপুর ফলন ধরে রাখতে শুরুতে অন্তত ১৪ থেকে ১৬ ইঞ্চির টব অথবা সবচেয়ে ভালো হয় একটি ১৮ থেকে ২২ ইঞ্চির হাফ ড্রাম ব্যবহার করলে।

২. পরিচর্যা নির্দেশিকা (Care Guide)

  • জল দেওয়ার নিয়ম: মাটিতে সবসময় হালকা আর্দ্রতা (Moisture) বজায় রাখুন, কিন্তু মাটি কাদা বা প্যাচপ্যাচে করবেন না। মাটির ওপরের স্তর সামান্য শুকিয়ে গেলেই জল দিন। গাছে যখন একসাথে প্রচুর ফুল আসবে, তখন জল সামান্য কমিয়ে দিন। ফুল থেকে যখন ছোট গুটি সেট হয়ে যাবে, তখন আবার নিয়মিত পর্যাপ্ত জল দিতে হবে। জলের ভারসাম্য ঠিক না থাকলে কচি গুটি ঝরে যেতে পারে।

  • সূর্যালোক: এটি একটি তীব্র সূর্যপ্রেমী (Sun-loving) গাছ। ফলের কড়া মিষ্টি স্বাদ ফুটিয়ে তোলার জন্য দিনে অন্তত ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা সরাসরি কড়া ও উজ্জ্বল সূর্যালোক পায় এমন খোলা জায়গায় বা ছাদে ড্রামটি রাখুন।

  • সার প্রয়োগ (নিয়মিত পুষ্টি): যেহেতু এটি বারোমাসি গাছ, তাই এর খাবারের চাহিদা একটু বেশি থাকে।

    • বছরে দুইবার প্রধান সার: বর্ষার আগে (মে-জুন) এবং শীতের শুরুতে (নভেম্বর) ড্রামের চারপাশের মাটি হালকা খুঁড়ে কম্পোস্ট সার, হাড়ের গুঁড়ো, শিং কুচি এবং নিম খোল মিশিয়ে দিন।

    • নিয়মিত পুষ্টি: প্রতি ১৫-২০ দিন অন্তর পাতলা সরষের খোল পচা তরল সার অথবা কলার খোসা ভেজানো পটাশ সমৃদ্ধ জল দিন।

    • বোরন ও ক্যালসিয়াম: ফুল থেকে ফল সেটিং ভালো হওয়ার জন্য এবং ফলের চামড়া নিখুঁত রাখতে কচি গুটি আসার পর ১ লিটার জলে ২ গ্রাম বোরন (Boron) গুলে স্প্রে করতে পারেন।

৩. প্রুনিং (Pruning) ও ফ্রুট ব্যাগিং (Fruit Bagging – অত্যন্ত জরুরী)

  • ডাল ছাঁটাই বা প্রুনিং: পেয়ারা গাছ সবসময় নতুন কচি ডালপালায় (New shoots) ফল দিয়ে থাকে। তাই প্রতি বছর ফল তোলার পর ডালগুলোর অগ্রভাগ ১-২ ফুট করে ছেঁটে (Pruning) দিন। এতে নতুন কচি ডাল বের হবে এবং পরবর্তী ঋতুতে ফলন বহুগুণ বেড়ে যাবে।

  • ফ্রুট ব্যাগিং: হোয়াইট ডায়মন্ড পেয়ারা মিষ্টি ও রসালো হওয়ায় এতে ফল মাছি পোকার আক্রমণ বেশি হতে পারে। তাই পেয়ারা যখন মার্বেল বা ছোট সুপুরির আকৃতির হবে, তখনই পুরো ফলটিকে সাদা পলিথিন (নিচে ছোট ছিদ্র করা) এবং তার ওপর পেপার বা কাগজ দিয়ে মুড়ে বেঁধে দিন (Fruit Bagging)। এটি করলে ফল মাছি পোকার আক্রমণ থেকে পেয়ারা সম্পূর্ণ রক্ষা পাবে এবং ফলের গায়ের রঙ চমৎকার দাগহীন ও ধবধবে ফর্সা হবে।

৪. সাধারণ রোগ ও প্রতিকার

  • মিলিবাগ (Mealybug): কচি ডাল ও পাতার নিচে সাদা তুলোর মতো পোকা বসে রস শুষে নেয়। এটি দেখলে জোরেশোরে জলের স্প্রে দিয়ে ধুয়ে দিন অথবা ১ লিটার জলে ২ মিলি নিম তেল ও লিকুইড সোপ মিশিয়ে স্প্রে করুন।

  • ছত্রাকের আক্রমণ: পাতায় বা ফলে কালো দাগ পড়া এড়াতে মাসে একবার ফাঙ্গিসাইড (যেমন: সাফ বা ব্লু-কপার) স্প্রে করা ভালো।

বাগানীদের জন্য কুইক টিপস: আসল হোয়াইট ডায়মন্ড পেয়ারার পাতাগুলো রেড ডায়মন্ডের মতোই সাধারণ পেয়ারা পাতার চেয়ে কিছুটা বড়, মোটা, লম্বাটে এবং সামান্য ঢেউখেলানো (Wavy) হয়। তবে রেড ডায়মন্ডের কচি পাতার শিরায় বা ডগায় যে হালকা লালচে ভাব থাকে, হোয়াইট ডায়মন্ডের ক্ষেত্রে তা সাধারণত সম্পূর্ণ সবুজ হয়। চারা কেনার সময় সবসময় কোনো বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য (APU Nursery) অপু নার্সারি থেকে গ্রাফটিং (জোড় কলম) করা চারা সংগ্রহ করবেন।